বুধবার, ১৪ মে, ২০২৫
ব্রেকিং নিউজ
নিউ ফারাক্কায় ধস, বাতিল উত্তরবঙ্গগামী সব ট্রেন নিউটাউনে উত্তম কুমার ফিল্ম সেন্টারের শিলান্য়াস মুখ্য়মন্ত্রীর নেপালে ৯ দিন পর সুড়ঙ্গ থেকে উদ্ধার ২ শ্রমিক অভিষেকের ক্য়ামাক স্ট্রিটের অফিস খালির নির্দেশ

লাশের পাহাড়ে নেপাল, কাটমান্ডু থেকে উদ্ধার ৮৫ ভারতীয়, তিব্বত সীমান্তে এখনও নিখোঁজ ৩২০

28 August, 2026 6:24 PM Sumantra Mukherjee
শেয়ার করুন

কাটমান্ডু: বিগত এক দশকের মধ্যে ভয়াবহতম প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মুখোমুখি নেপাল।

চিন সীমান্ত লাগোয়া তিব্বত মালভূমিতে হিমবাহ ধসের জেরে সৃষ্টি হওয়া অভূতপূর্ব হড়পা বান ও হ্রদ বিস্ফোরণে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬০০। শুক্রবার নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কেবল নেপাল ভূখণ্ডেই অন্তত ৫৪৭ জনের সলিলসমাধি ঘটেছে। অন্যদিকে সীমান্ত পেরিয়ে চিনের তিব্বত অংশে আরও ৫ জনের মৃত্যুর কথা নিশ্চিত করেছে বেইজিংয়ের সংবাদমাধ্যম।

২০১৫ সালের প্রাণঘাতী ভূমিকম্পের পর এটাই নেপালের ইতিহাসে সবচেয়ে মারাত্মক ধ্বংসলীলা। ভয়ঙ্কর এই দুর্যোগের মাঝেই আটকে পড়া ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপত্তায় কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক তৎপরতা বাড়িয়েছে নয়াদিল্লি। কাদার স্রোত ও ধ্বংসস্তূপের মধ্য থেকে ইতোমধ্যে ৮৫ জন ভারতীয়কে উদ্ধার করে নিরাপদে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হলেও এখনও নিখোঁজ অন্তত ৩২০ জন ভারতীয় নাগরিক।

ইউএস জিওলজিক্যাল সার্ভে (USGS)-র প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী, তিব্বতের হিমবাহে আচমকা ধস নামার ফলে বিপুল পরিমাণে বরফ, কাদা ও পাথর নদীর গতিপথ রুদ্ধ করে দেয়। এর ফলে একটি কৃত্রিম ব্যারেজ তৈরি হয়। পরবর্তীতে সেই বাঁধ উপচে এবং ফেটে গিয়ে প্রবল বেগে জল নিচে নেমে এলে তিব্বত সীমান্ত থেকে নেপালের বিস্তীর্ণ এলাকা তছনছ হয়ে যায়।

শুক্রবার তিব্বতের দিকে আবারও বাঁধ ভেঙে নদীর জলস্তর লাফিয়ে বাড়তে শুরু করলে নেপাল পুলিশ প্রশাসন দ্বিতীয় দফার অ্যালার্ট জারি করে। বিপর্যয় মোকাবিলা দল, উদ্ধারকারী কর্মী ও সাধারণ মানুষকে অবিলম্বে উঁচু ও নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। জলবায়ু এবং ভৌগোলিক পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি ঘটায় চীনের তিব্বত অংশেও উদ্ধারকাজ সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছিল। তবে পরবর্তীতে বেইজিং জানায়, জলের চাপ কিছুটা হ্রাস পাওয়ায় পুনরায় উদ্ধারকাজ চালু করা হয়েছে।

নেপালে উদ্ধারকাজ চালাতে এখন পর্যন্ত ১৪,০০০-এরও বেশি সেনা ও নিরাপত্তা কর্মীদের মোতায়েন করা হয়েছে। তৃতীয় দিনে পা দেওয়া এই উদ্ধার অভিযানে এ পর্যন্ত মোট ৩,৭৪২ জন আটকে পড়া মানুষকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তবে দুই দেশ মিলিয়ে নিখোঁজের সংখ্যা এখনও ১,৫০০ ছাড়িয়ে গিয়েছে, যার মধ্যে নেপালের হিসাবেই রয়েছে ৯৭৭ জন।

এদিকে, এই ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের সময় নেপালে আটকে পড়া ভারতীয়দের সুরক্ষায় ভারতীয় বিদেশ মন্ত্রক (MEA) দিনরাত এক করে কাজ করে চলেছে। শুক্রবার নয়াদিল্লিতে এক সাংবাদিক বৈঠকে বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল জানান, কাটমান্ডু ও আশপাশের এলাকা থেকে দফায় দফায় ভারতীয়দের উদ্ধার করার প্রক্রিয়া চলছে।

তিনি জানান, “গতকালই কাটমান্ডুর ভয়াবহ বন্যাকবলিত অঞ্চল থেকে ২১ জন ভারতীয় নাগরিককে নিরাপদে উদ্ধার করে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। এর পাশাপাশি ত্রিশূলী-ওয়ান (Trishuli One) জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে কর্মরত ৬৩ জন ভারতীয় প্রকৌশলী ও শ্রমিককে উদ্ধার করার খবর গতকাল আমরা জানিয়েছিলাম। এই ২১ এবং ৬৩ অর্থাৎ মোট ৮৪ জন ছাড়াও, চিনের তিব্বত সীমান্ত অংশে আটকে থাকা আরও ৯৬ জন ভারতীয় নাগরিক স্থলপথে নিরাপদে সীমান্ত পেরিয়ে নেপাল ভূখণ্ডে প্রবেশ করেছেন।”

তবে স্বস্তির পাশাপাশি উদ্বেগের সুরও স্পষ্ট বিদেশ মন্ত্রকের বক্তব্যে। রণধীর জয়সোয়াল জানান, দুর্যোগকবলিত অঞ্চলগুলোতে এখনও প্রায় ৩২০ জন ভারতীয় নাগরিকের সঙ্গে কোনোভাবেই যোগাযোগ স্থাপন করা সম্ভব হয়নি। পাশাপাশি ভারতীয় বংশোদ্ভূত আরও ১০০ জন স্থানীয় বাসিন্দা নিখোঁজ রয়েছেন। কাটমান্ডুতে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস স্থানীয় প্রশাসন এবং নেপালের নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে যৌথভাবে প্রতি মুহূর্তে যোগাযোগ রক্ষা করছে। ভারত থেকে পাঠানো জরুরি ত্রাণ সামগ্রী ও মেডিকেল টিম ইতিমধ্যেই দুর্গম এলাকাগুলোতে পৌঁছাতে শুরু করেছে।

বন্যা ও পাহাড়ি ধসে রাস্তাঘাট, সেতু ও যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় উদ্ধারকাজে পদে পদে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে। হিমালয়ের কোলে নিখোঁজ শত শত মানুষের বেঁচে থাকার আশায় এখন একটানা লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন ভারত ও নেপালের উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা।

প্রতিবেদন

Sumantra Mukherjee