জোড়া কেন্দ্রে শেষ উপনির্বাচনের ভোটগ্রহণ, জয় নিয়ে আত্মবিশ্বাসী বিজেপি, কী বলছেন বিরোধীরা?
সংবাদদাতা, কলকাতা: নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভার উপনির্বাচন শেষ হল। বিকেল ৫টা পর্যন্ত নন্দীগ্রামে ভোট ৭৯.৩৯ শতাংশ। বিকেল ৫টা পর্যন্ত রেজিনগরে ভোট ৭৮.৪২ শতাংশ। নির্বাচন নিয়ে কী বললেন শাসক ও বিরোধীরা?
নন্দীগ্রাম
শুভেন্দু অধিকারী (মুখ্যমন্ত্রী): বিরোধীদের অস্তিত্বই নেই। তাদের এজেন্ট দেওয়ারই কোনও লোকই ছিল না। এবার নন্দীগ্রামে গতবারের থেকে বেশি মার্জিনে জিতবে বিজেপি। নন্দীগ্রামে ৫০- হাজারের মার্জিন পেরিয়ে গিয়েছে।
মিলন প্রধান (কংগ্রেস প্রার্থী): কিছু জায়গায় মানুষ স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে ভোট দিতে পেরেছেন । আবার কিছু জায়গায় ভোট লুট হয়েছে । যেখানে মানুষ ভয় না পেয়ে ভোট দিতে পেরেছেন, সেখানে আমার ফল ভালো হবে। পুলিশ কি বিজেপির এজেন্ট ? ভোটারদেরই বা কেন চমকানো হচ্ছে ?
শুভঙ্কর সরকার (প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি): সম্পূর্ণরূপে পুলিশ নির্বাচন নিয়ন্ত্রণ করছে। কোথাও কমিশনের লোক নেই। ভোট নয়, এটা প্রহসনে পরিণত হয়েছে ।জ্ঞানেশ কুমার ও তাঁর টিম যতদিন দায়িত্বে থাকবেন, ততদিন নিরপেক্ষ নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাবে ।
নওশাদ সিদ্দিকী (আইএসএফ চেয়ারম্যান): নির্বাচনী আপডেট: অবাধ এবং শান্তিপূর্ণ নির্বাচন।
রেজিনগর
হুমায়ুন কবীর (আম জনতা উন্নয়ন পার্টি): পরিস্থিতি দেখে ইমার্জেন্সির কথা মনে পড়ছে, ভোট করানোর দরকার কী ছিল।
গোলাম নবি আজ়াদ (হুমায়ুন-পুত্র, আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রার্থী): আমার সমস্ত উৎকণ্ঠা কেটে গিয়েছে। রেজিনগরের সকলের মতো আমিও জেনে গিয়েছি এই নির্বাচনের ফলাফল কী হতে চলেছে।
রবিউল আলম (মমতা তৃণমূলের প্রার্থী): আমার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে এমন ঘটনা প্রথমবার দেখলাম। আমি রেজিনগরের তিনবারের বিধায়ক। যখন তৃণমূল রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান তখন আমি রেজিনগর থেকে কংগ্রেসের প্রার্থী হয়ে উপনির্বাচনে অবতীর্ণ হয়েছি। তখনও এই দৃশ্য দেখতে হয়নি। কিন্তু বিজেপির মানুষের প্রতি ভরসা নেই, তাই কমিশনকে কাজে লাগিয়ে জয়লাভ করাটাই এখন তাদের মূল লক্ষ্য।
শফিউজ্জামান শেখ (ঋতব্রতপন্থী/গণতান্ত্রিক তৃণমূলের প্রার্থী): হুমায়ুন কবীর বিধানসভা নির্বাচনের সময় তৃণমূলকে হারাতে বিজেপি আর কেন্দ্রীয় বাহিনীকে সাহায্য করেছিলেন। আজ সেই বিজেপির বিরুদ্ধেই লড়াই করতে গিয়ে তাঁর এমন পরিণতি। অনেক বুথে গিয়ে দেখেছি আমাদের এজেন্টকে বার করে দিয়ে কেবল বিজেপির এজেন্টকে বসিয়ে রাখা হয়েছে।
আবদুল্লাহিল কাফি (কংগ্রেস প্রার্থী): বিজেপি বুঝে গিয়েছে কংগ্রেস নিশ্চিতভাবে এইসব বুথগুলোতে জিতবে। তাই রাহুল গান্ধী, অধীর চৌধুরীকে যেমন ভয় পেয়েছে, তেমনই আমাকেও ভয় পেয়ে এলাকা ছাড়া করতে চাইছে।
অধীর চৌধুরী (কংগ্রেস): কাকে অভিযোগ জানাব? পুলিশ অবজার্ভারের ফোন অফ৷ জেনারেল অবজার্ভারের ফোন অফ৷ ডিএম কথা বলতে চাইছে না৷
শমীক ভট্টাচার্য (রাজ্য বিজেপি সভাপতি): রেজিনগরে বিজেপি জিতবে, এটা অনেকে বিশ্বাস করতে পারছেন না।সংখ্যালঘুরাও এ বার বাবরি মসজিদ চান না, উন্নয়ন ও কারখানা চান।
