বুধবার, ১৪ মে, ২০২৫
ব্রেকিং নিউজ
রবীন্দ্র সরোবরে সাঁতার শিখতে গিয়ে মৃত্য়ু শিক্ষার্থীর ফারাক্কায় দ্রুত গতিতে চলছে লাইন মেরামতির কাজ মালদা মেডিকেলে শিশুমৃত্য়ুর জের, সাসপেন্ড সুপার এবার রাজ্য়ের মডেল স্কুল প্রকল্পে সিএম শ্রী ইন্সটিউট, ঘোষণা মুখ্য়মন্ত্রীর

“ভুল হয়েছিল রাজনীতিতে আসা”, রামপুরহাটে উদ্ধার তৃণমূল নেতার ঝুলন্ত দেহ

16 August, 2026 2:01 PM Sumantra Mukherjee
শেয়ার করুন

নিজস্ব সংবাদদাতা :‌ রামপুরহাটের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের অস্বাভাবিক মৃত্যু। রবিবার সকালে ৫ নম্বর ওয়ার্ডের হাটতলাপাড়ায় বাড়ি লাগোয়া দলীয় কার্যালয় থেকে তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় বাসিন্দারাই কার্যালয়ের জানলা দিয়ে তাঁর ঝুলন্ত দেহ দেখতে পান। তারপরই খবর দেওয়া হয় পুলিশে। পাওয়া গেছে সুইসাইড নোট। দেহ ময়নাতদন্তের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছে। রামপুরহাট মহকুমা হাসপাতালে হবে ময়নাতদন্ত। জানা গেছে, শনিবারও বেশ কয়েকজন দলীয় নেতা–কর্মীর সঙ্গে দেখা করেছিলেন আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূল আমলে প্রয়াত আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন রাজ্য বিধানসভার ডেপুটি স্পিকার। রামপুরহাটের পাঁচ বারের এই বিধায়ক সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি প্রার্থী ধ্রুব সাহার কাছে পরাজিত হন।

সম্প্রতি তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তোলে বিজেপি। তারাপীঠ উন্নয়ন পর্ষদ থেকে রাজ্য সরকারের কোটি কোটি টাকা তছরুপের অভিযোগ আনা হয়। রামপুরহাট পুরসভা নিয়েও দুর্নীতির অভিযোগ তোলা হয়। পরিবারের দাবি, এরপরই মানসিকভাবে বিধ্বস্ত হয়ে পড়েছিলেন আশিস। পুলিশ জানিয়েছে, মৃতদেহের কাছ থেকে পাওয়া সুইসাইড নোটে লেখা রয়েছে তিনি কোনও দুর্নীতি করেননি। কখনও কারও থেকে টাকা নেননি বা টাকার বিনিময়ে কাউকে কিছু করেও দেননি। তিনি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়েছেন। আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের অস্বাভাবিক মৃত্যুতে অবাক তৃণমূলের দুই শিবিরই।

২০০১ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত রামপুরহাটের বিধায়ক ছিলেন তিনি। রাজ্যে তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পর তাঁকে স্কুলশিক্ষামন্ত্রী এবং কৃষিমন্ত্রীর পদ দিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ২০২২–এ রামপুরহাটের বগটুইতে গণহত্যার ঘটনার পর অস্বস্তি বেড়েছিল আশিসের। কিন্তু তারপরও নিজের গড় রামপুরহাট সম্পর্কে যথেষ্টই আশাবাদী ছিলেন তিনি। সে জন্যই ২০২৬–এর বিধানসভা নির্বাচনে তাঁকে টিকিট দিয়েছিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা। কিন্তু বিজেপি প্রার্থীর কাছে তিনি ২৪ হাজারের বেশি ভোটে পরাজিত হন। অনুব্রত মণ্ডল তৃণমূলের জেলা সভাপতি থাকাকালীন তাঁর সঙ্গী ছিলেন আশিস।

ভোটে হেরে যাওয়ার পর আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়কে আর সেভাবে সক্রিয় রাজনীতির ময়দানে দেখা যাচ্ছিল না। ক্রমশ তৃণমূলের সঙ্গে দূরত্বও বাড়াতে শুরু করেছিলেন। গত জুনে জেলা তৃণমূলের চেয়ারম্যানের পদ ছেড়ে দেন। ছেড়েছিলেন বীরভূমে তৃণমূলের কোর কমিটির সদস্যপদও। এরপর জুলাই মাসে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন তিনি।

সকালে তাঁর দেহ উদ্ধারের পর এলাকায় ভিড় জমে যায়। অধ্যাপনা থেকে রাজনীতিতে এসেছিলেন তিনি। রামপুরহাট কলেজে বাংলার অধ্যাপক ছিলেন। এলাকায় ‘‌মাস্টারমশাই’‌ হিসেবেই পরিচিত ছিলেন বীরভূমের ভূমিপুত্র আশিস। ২০১৪–তে আয়ূস এবং হোমিওপ্যাথি বিভাগের স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী হন। পরের বছর বায়োটেকনোলজি, পরিসংখ্যান ও কর্মসূচি বাস্তবায়ন এবং পরিকল্পনা বিভাগের দায়িত্ব হাতে পান তিনি।২০১৭ সালে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কৃষিমন্ত্রী হন। ২০২১ সালের ২ জুলাই থেকে ২০২৬ সালের ৭ মে পর্যন্ত বিধানসভার ডেপুটি স্পিকার ছিলেন।

প্রতিবেদন

Sumantra Mukherjee