বুধবার, ১৪ মে, ২০২৫
ব্রেকিং নিউজ
রবীন্দ্র সরোবরে সাঁতার শিখতে গিয়ে মৃত্য়ু শিক্ষার্থীর ফারাক্কায় দ্রুত গতিতে চলছে লাইন মেরামতির কাজ মালদা মেডিকেলে শিশুমৃত্য়ুর জের, সাসপেন্ড সুপার এবার রাজ্য়ের মডেল স্কুল প্রকল্পে সিএম শ্রী ইন্সটিউট, ঘোষণা মুখ্য়মন্ত্রীর

রাতে ভাইয়ের সঙ্গে খোশমেজাজে আড্ডা, আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের রহস্যমৃত্যুতে ঘনীভূত ধোঁয়াশা

16 August, 2026 1:25 PM Sumantra Mukherjee
শেয়ার করুন

রামপুরহাট : মৃত্যু কখন, কোন রূপ ধরে আসে, তা সত্যিই কেউ বলতে পারে না। গতকাল রাত পর্যন্তও যে মানুষটা একেবারে সুস্থ, স্বাভাবিক, হাসিখুশি— সকাল হতেই তাঁর নিথর দেহ উদ্ধারের ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ঘটনার কেন্দ্রে আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়। রাত ১২টা অবধিও নিজের ভাইয়ের সঙ্গে খোশমেজাজে আড্ডা দিয়েছিলেন তিনি। কে জানত, সেই আড্ডাই তাঁর জীবনের শেষ আড্ডা হতে চলেছে! সকালে নিজের ঘর থেকেই উদ্ধার হল তাঁর প্রাণহীন দেহ। আশিসের এই আকস্মিক পরিণতিতে কার্যত বাকরুদ্ধ আত্মীয়-পরিজন থেকে শুরু করে পাড়াপড়শিরা।

কী ঘটেছিল অভিশপ্ত রাতে?

পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, আর পাঁচটা দিনের মতোই সম্পূর্ণ স্বাভাবিক ছিল গত রাতের রুটিন। রাতের খাওয়া-দাওয়া সেরে ভাইয়ের সঙ্গে বেশ কিছুক্ষণ গল্পগুজব করেন আশিসবাবু। হাসি-ঠাট্টা, পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা— সবই চলছিল স্বাভাবিক ছন্দে। রাত তখন প্রায় ১২টা। এরপর যে যাঁর ঘরে ঘুমোতে চলে যান। পরিবারের সদস্যদের দাবি, সেই সময় আশিসের মধ্যে কোনও রকম অস্বাভাবিকতা বা শারীরিক অসুস্থতার বিন্দুমাত্র লক্ষণ দেখা যায়নি। তিনি কোনও মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন বলেও মনে হয়নি কারও। কিন্তু সকাল হতেই বদলে গেল পুরো চিত্রটা।

সকালের মর্মান্তিক দৃশ্য

সকালে অনেক বেলা অবধি আশিসবাবুর ঘরের দরজা না খোলায় সন্দেহ দানা বাঁধে পরিবারের মনে। প্রথমে ডাকাডাকি, তারপর দরজায় ধাক্কা দেওয়া হলেও ভেতর থেকে কোনও সাড়া মেলেনি। এরপর রীতিমতো আতঙ্কিত হয়ে বাধ্য হয়েই দরজা ভাঙেন পরিজনেরা। আর দরজা ভাঙতেই চক্ষু চড়কগাছ! দেখা যায়, বিছানায় অচৈতন্য অবস্থায় পড়ে রয়েছেন আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর শরীরে কোনও সাড় নেই। তড়িঘড়ি তাঁকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

কী বলছে পুলিশ ও প্রশাসন?

ঠিক কী ঘটেছিল ওই কয়েক ঘণ্টার মধ্যে? এই প্রশ্নই এখন তাড়া করে বেড়াচ্ছে পুলিশ ও পরিজনদের। এটা কি নিছকই ঘুমের মধ্যে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু, নাকি এর নেপথ্যে লুকিয়ে রয়েছে অন্য কোনও রহস্য? খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছয় স্থানীয় থানার পুলিশ। ইতিমধ্যেই দেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, ঘুমের মধ্যেই হয়তো ম্যাসিভ হার্ট অ্যাটাক (Massive Cardiac Arrest) হয়ে থাকতে পারে। তবে, পুলিশ এখনই কোনও সম্ভাবনাই উড়িয়ে দিচ্ছে না। তদন্তকারী আধিকারিকদের মতে, ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত রিপোর্ট হাতে না আসা পর্যন্ত মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত করে কিছু বলা সম্ভব নয়। ঘরের ভেতর থেকে কোনও সন্দেহজনক কিছু মিলেছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

স্তব্ধ পরিবার ও আত্মীয়স্বজন

দাদার এই আকস্মিক মৃত্যুতে রীতিমতো ভেঙে পড়েছেন আশিসের ভাই। কান্নাজড়ানো গলায় তাঁর একটাই কথা, “কাল রাতেও তো একসঙ্গে বসে গল্প করলাম। কোনও শারীরিক কষ্ট ছিল না। হঠাৎ করে ঘুমের মধ্যে কী হয়ে গেল কিছুই বুঝতে পারছি না।” শোকস্তব্ধ আত্মীয়-স্বজনেরাও এই মর্মান্তিক বিয়োগ মেনে নিতে পারছেন না। পাড়াপড়শিদের চোখেও জল। সদা হাস্যমুখর একজন তরতাজা মানুষের এমন পরিণতিতে গোটা এলাকায় নেমে এসেছে শোকের স্তব্ধতা।

আপাতত ময়নাতদন্তের রিপোর্টের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে সকলে। এই মৃত্যুর নেপথ্যে কি শুধুই শারীরিক কারণ, নাকি লুকিয়ে রয়েছে অন্য কোনও রহস্যের জাল? সেই উত্তর পেতে অপেক্ষা করতে হবে আরও কিছুটা সময়।

প্রতিবেদন

Sumantra Mukherjee