পুরভোটের টিকিটের জন্য বিধায়কদের সুপারিশ চলবে না, রাজ্যে এসে কড়া বার্তা নীতিনের
সংবাদদাতা, কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গ সফরের দ্বিতীয় দিনে সোমবার সকালে গঙ্গাসাগরে পুণ্যস্নান করে পুজো দিলেন ভারতীয় জনতা পার্টির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন। গঙ্গা ও বঙ্গোপসাগরের সঙ্গমে স্নান সেরে তিনি সোজা চলে যান কপিলমুনির আশ্রমে। সেখানে স্থানীয় ও রাজ্য নেতৃত্বের সঙ্গে নিয়ম মেনে পুজো দেন তিনি। সকালে গঙ্গাসাগরে পৌঁছেই নীতিন নবীন প্রথমে স্থানীয় স্নানঘাটগুলি পরিদর্শন করেন এবং তীর্থযাত্রীদের জন্য রাজ্য প্রশাসনের কী কী ব্যবস্থা রয়েছে, তা ঘুরে দেখেন। তাঁর সঙ্গে এই পুণ্যস্নানে যোগ দেন রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, সুন্দরবন উন্নয়ন মন্ত্রী দীপঙ্কর জানা এবং জয়নগর ও মথুরাপুর সাংগঠনিক জেলা বিজেপি সভাপতিরা। গঙ্গাসাগরের পর্ব শেষ করে নীতিন নবীন উত্তর ২৪ পরগনার পানিহাটির উদ্দেশ্যে রওনা দেন। সেখানে আয়োজিত অঙ্গন মিলন সেবা কর্মসূচিতে তিনি যোগ দেন, ওই কর্মসূচিতে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সহ শীর্ষ দলীয় নেতারাও উপস্থিত ছিলেন। এর পর কলকাতার স্পেস সার্কেল-এ আয়োজিত যুব সংলাপ কনক্লেভে তরুণ প্রজন্মের সামনে বক্তব্য রাখবেন তিনি। দিনের সমস্ত কর্মসূচি সেরে সন্ধ্যায় কলকাতা বিমানবন্দর থেকেই দিল্লির উদ্দেশ্যে রওনা হবেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি। পাশাপাশি বঙ্গ সফরে এসে দলীয় সংগঠন চাঙা করতে নির্দেশ দিয়েছেন রাজ্য নেতৃত্ব ও বিধায়কদের।তিনি বলেন দলই সবার আগে, শুধুমাত্র পরিবারকেন্দ্রিক হয়ে গেলে চলবে না। রাজ্যে পালাবদলের পর রবিবারই বাংলায় এসেছেন তিনি। রবিবার দফায় দফায় বঙ্গ বিজেপি নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বিধায়কদের একাংশের উদ্দেশে নীতিন নবীন বলেন, কোনও কোনও বিধায়ক পরিবার ছাড়া কাউকে চিনতে পারছেন না। শুধু নিজের পরিবার নিয়েই চলছেন। এরকম চলতে থাকলে পরের নির্বাচনে সেই বিধায়ক যে আর টিকিট পাবেন না, তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি। বিধায়কদের উদ্দেশে তাঁর আরও বার্তা, বিধায়করা যেন সহজ সরল জীবন যাপন করে। কী গাড়ি চড়ছেন সেটা যেমন পার্টি খেয়াল রাখবে, মানুষও খেয়াল রাখে। দিনে কতবার চা কফি খাচ্ছেন বিধায়করা সেদিকেও দিল্লির নজর আছে বলেও স্পষ্ট করে দিয়েছেন নীতীন নবীন। বৈঠকে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জানান, কোনও মন্ত্রীর পদের অপব্যবহার যেন তাঁর পরিচিত লোক বা বাড়ির লোকেরা না করে। কয়েকজন মন্ত্রীর দপ্তরে কেন তাঁর বাড়ির লোকেরা গিয়ে বসে থাকেন সেটা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি। এরপরেই আচরণ এবং শৃঙ্খলা নিয়ে কড়া বার্তা দেন। নির্দেশ দিয়ে স্পষ্ট জানিয়ে দেন, পার্টির সঙ্গে সমন্বয় রেখে সবাইকে কাজ করতে হবে। অন্যদিকে পুজো মিটলেই রাজ্যে কলকাতা, হাওড়া-সহ রাজ্যের একাধিক পুরসভায় নির্বাচন রয়েছে। আর এই নির্বাচনকে পাখির চোখ করে ঝাঁপিয়ে পড়েছে বঙ্গ বিজেপি নেতৃত্ব। প্রার্থী হিসাবে একাধিক নাম নিয়ে চলছে জল্পনা। তবে এই বিষয়ে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতির স্পষ্ট বার্তা, পুরভোটে প্রার্থীদের টিকিট দেওয়ার ক্ষেত্রে বিধায়কদের সুপারিশ খাটবে না। দল যাঁদের মনে করবে তাঁরাই পুরভোটে টিকিট পাবেন। পাশাপাশি নেতা, মন্ত্রীদের সাধারণের সঙ্গে ছবি তোলার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার কথা বলেছেন। বিধায়ক কার্যালয়ে সময় দিতে বলা হয়েছে। আবার জোর করে দুর্গাপুজোর কমিটিতে যাতে বিধায়করা না ঢোকেন তাও বলেছেন নীতিন। যদি পুজো কমিটি কোনও পদ দিতে চায় তাহলে সেই পদে থাকা যেতে পারে। বিধায়করা কোনও অনৈতিক কাজে যুক্ত থাকলে দল থেকে তাদের বের করে দিতেও বেশি সময় লাগবে না বলে সতর্ক করে দিয়েছেন বিজেপি সভাপতি।
