ভোটের আগেই হাইকোর্টে সব মামলায় অন্তর্বর্তী জামিন মিলন প্রধানের
সংবাদদাতা, কলকাতা: নন্দীগ্রাম বিধানসভা উপনির্বাচনে কংগ্রেস মনোনীত প্রার্থী মিলন প্রধানের নামে থাকা সমস্ত মামলাতেই অন্তর্বর্তী জামিন দিল কলকাতা হাইকোর্ট। ভোট প্রক্রিয়ায় সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করা ও প্রচার করার সুযোগের জন্য আদালত তাঁর এই আর্জি মঞ্জুর করেছে। বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের সিঙ্গল বেঞ্চে শুনানি শেষে এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আদালতের নির্দেশে জানানো হয়, ২০ হাজার টাকার ব্যক্তিগত বন্ডের বিনিময়ে মিলন প্রধানকে অন্তর্বর্তী জামিন দেওয়া হয়েছে। এই জামিনের মেয়াদ বহাল থাকবে আগামী ২০ অক্টোবর পর্যন্ত। তবে জামিন দেওয়ার পাশাপাশি আদালত কিছু কড়া শর্তও আরোপ করেছে। নির্দেশ অনুযায়ী, মিলন প্রধানকে তাঁর ব্যবহৃত মোবাইল ফোন নম্বর নন্দীগ্রাম এবং খেজুরি থানার তদন্তকারী আধিকারিকদের কাছে জমা রাখতে হবে। এছাড়া জামিনের মেয়াদ শেষ হলে তাঁকে থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণও করতে হবে বলে জানিয়েছে আদালত। উল্লেখ্য, গত ১৮ সেপ্টেম্বর পূর্ব মেদিনীপুরের চণ্ডীপুর এলাকা থেকে মিলন প্রধানকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ২০০৭ সালের নন্দীগ্রাম জমি অধিগ্রহণ বিরোধী আন্দোলনের ১৯ বছরের পুরনো একাধিক অভিযোগের ভিত্তিতে এই গ্রেপ্তার করা হয়।পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ২০০৭ সালে আন্দোলন চলাকালীন খুন, খুনের চেষ্টা, বেআইনি জমায়েত এবং লুটপাট সহ একাধিক গুরুতর ধারায় নন্দীগ্রাম থানায় ৩টি এবং খেজুরি থানায় ১টি মামলা রুজু হয়েছিল তাঁর বিরুদ্ধে। গ্রেপ্তারির পর থেকেই জামিনের জন্য আইনি লড়াই শুরু করেন মিলন। পরবর্তীতে তিনি নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনের জন্য কংগ্রেস প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দেন এবং নিয়ম মেনে নিজের বিরুদ্ধে থাকা সমস্ত পুরনো মামলার বিস্তারিত তথ্য মনোনয়নে উল্লেখ করেন। ২২ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট জানায় মিলন প্রধানের বিরুদ্ধে এখনই কোনও কড়া পদক্ষেপ করা যাবে না। তবে এই জামিন প্রক্রিয়া একেবারেই সহজ ছিল না। এর আগে হাইকোর্টের একটি জনস্বার্থ মামলার শুনানিতে ডিভিশন বেঞ্চ এই প্রার্থীর জামিনের আর্জি প্রসঙ্গে বেশ কিছু কড়া পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেছিল। ডিভিশন বেঞ্চ মন্তব্য করেছিল, অভিযুক্তদের জেলে থাকা উচিত। যিনি প্রায় ২০ বছর ধরে পলাতক, তিনি হঠাৎ ভোটে দাঁড়িয়ে জামিনের আর্জি জানাচ্ছেন এটি খুব খারাপ নজির তৈরি করতে পারে। যদি নির্বাচনে লড়ার জন্য জামিন দেওয়া হয়, তবে যে কেউ ভোটে দাঁড়িয়ে ১৫-২০ দিনের জন্য মুক্তির দাবি তুলবে। এমনকী বিদেশে থাকা জঘন্যতম অপরাধের অভিযুক্তরাও নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার অজুহাতে জামিন চাইবে। ডিভিশন বেঞ্চের রায়ের পর গত সপ্তাহে পুনরায় জামিনের আর্জি নিয়ে বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের এজলাসে দ্বারস্থ হন মিলন প্রধানের আইনজীবীরা। উভয় পক্ষের সওয়াল-জবাব শোনার পর বিচারপতি ঘোষ মন্তব্য করেন, উপনির্বাচনে প্রার্থীকে লড়তে দেওয়া উচিত এবং তিনি অন্তর্বর্তী জামিন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। যদিও শুক্র ও সোমবার জামিন প্রক্রিয়া নানা আইনি জটিলতায় আটকে ছিল, অবশেষে মঙ্গলবার সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটিয়ে মিলনের জামিন মঞ্জুর হয়।
