বিজেপির জন্যই সবকিছু করেছে! জ্ঞানেশ কুমারকে গ্রেপ্তারির দাবি মমতার
সংবাদদাতা, কলকাতা : মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট নয়, সরাসরি গ্রেপ্তার করতে হবে। গোটা দেশ এক হয়ে লড়বে। বুধবার দাবি তুললেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ মতবিরোধ নিয়ে সরব হয়েছে বিরোধী শিবির। সেই সুরেই কড়া প্রতিক্রিয়া দিলেন মমতাও। জ্ঞানেশ কুমারকে বিজেপির ‘বি-টিম’ আখ্যা দিয়ে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন তিনি। বুধবার বিকেলে ফেসবুক লাইভে মমতা অভিযোগ করেন, ইভিএম কারচুপি ও ভোটার তালিকায় গরমিলের মাধ্যমে জ্ঞানেশ কুমার যেসব রাজ্যে বিজেপিকে জিতিয়েছেন, সেখানে পুরনো ভোটার তালিকা অনুযায়ী নতুন করে ভোট করানোর দাবি জানান তিনি। তাঁর দাবি, ২০২৪ সাল থেকে পরবর্তী প্রতিটি নির্বাচনে বিজেপির জয়ের পেছনে জ্ঞানেশ কুমারের ভূমিকা রয়েছে। প্রশাসন ও কেন্দ্রীয় বাহিনীকে অপব্যবহারের অভিযোগও তোলেন তিনি। মমতার মতে, ইমপিচমেন্ট লোকসভায় পেশ হতে না দেওয়ায় এবার সরাসরি গ্রেপ্তারির প্রয়োজন।
নির্বাচন নিয়ে কেন্দ্র ও নির্বাচন কমিশন কীভাবে সাধারণ মানুষকে বঞ্চনা করেছে, তা নিয়ে সরব হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর মতে, এবার কেন্দ্রের বিরুদ্ধে মানুষকে পথে নেমে প্রতিবাদ করতে হবে। এদিন লাইভে রাজ্যবাসীকে আন্দোলনে নামার ডাক দেন দলনেত্রী। প্রয়োজন হলে তিনি নিজে পথে নেমে প্রতিবাদ চালিয়ে যাবেন। মমতা বলেন, “এত বড় দুর্নীতি জীবনে দেখিনি। নৈতিকতার দিক থেকে ওঁর পদে থাকার অধিকার নেই। আমার প্রথম দাবি, জ্ঞানেশ কুমারকে গ্রেপ্তার করতে হবে। ওঁর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা শুরু করতে হবে। সরকারের তরফে যারা মদতদাতা, তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে হবে।” এসআইআর নিয়েও মুখ খোলেন মমতা। তিনি বলেন, “অনেকের নাম বাদ দিয়েছে। পুরনো ভোটার তালিকা ফিরিয়ে দিতে হবে। এসআইআর-এর নামে দখল করে, ইভিএম মেশিন দখল এবং হাইজ্যাক করে জ্ঞানেশ কুমার যে যে রাজ্যে জিতেছে, সেই সমস্ত রাজ্যে পুরনো ভোটার তালিকায় পুনরায় নির্বাচন করাতে হবে।”
আরও পড়ুন: জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে বাড়ছে অস্বস্তি? সরব বিরোধীরা, পাল্টা জবাব বিজেপির
এই ইস্যুতে মুখ খুলেছেন বিরোধী নেতারাও। আইনজীবী কপিল সিব্বলের অভিযোগ, অন্য দুই কমিশনারের আপত্তি উপেক্ষা করে জ্ঞানেশ কুমার একতরফাভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বিহার ও পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলে তাঁকে অবিলম্বে সাসপেন্ড করার দাবি জানান তিনি। সিপিএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম একে সাংবিধানিক চেতনার পরিপন্থী “একনায়কসুলভ শাসন” বলে অভিহিত করেন। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার আরও এক ধাপ এগিয়ে বলেন, ইভিএম নষ্ট করার মাধ্যমে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে ক্ষুণ্ণ করা হয়েছে, এবং জ্ঞানেশ কুমারের পাসপোর্ট বাতিলের দাবিও তোলেন তিনি।
তবে রাজ্য বিজেপির মুখপাত্র দেবজিত সরকার এই অভিযোগ খারিজ করে বলেন, কমিশনের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে মন্তব্য করার এক্তিয়ার তাঁদের নেই এবং প্রয়োজনে বিষয়টি আদালতেই মীমাংসিত হওয়া উচিত। বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যও এই অভিযোগ নিয়ে কোনও মন্তব্য করতে চাননি। জাতীয় স্তরেও বিজেপি নেতারা এই নিয়ে সাংবাদিক বৈঠক করে বিরোধীদের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন। এদিন ফেসবুকে লাইভে এসে মমতা বলেন, “এসআইআর-এর মানে স্পেশ্যাল ইনসেনটিভস রুলিং পার্টি। মানে বিজেপির জন্যই সবকিছু। জ্ঞানেশ কুমার নিজের পরিবারকে পাইয়ে দেওয়ার জন্য এসব করছেন। এসআইআর হয়ে গেলে ভোট করতেন। দেখতাম তখন দম, কেমন করে জিততেন। গায়ের জোরে নির্বাচনে জিতেছেন।” মমতার দাবি, জ্ঞানেশ কুমারের জন্যই বিজেপি ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটে জিতেছে। ২০২৫ এবং ২০২৬-এ যত ভোট হয়েছে, তাতেও কমিশনের জন্যই বিজেপি জয়ী হয়েছে বলে দাবি মমতার। পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ভোটেও বিজেপি একই ভাবে জিতেছে বলে দাবি করেছেন মমতা।
