বুধবার, ১৪ মে, ২০২৫
ব্রেকিং নিউজ
রবীন্দ্র সরোবরে সাঁতার শিখতে গিয়ে মৃত্য়ু শিক্ষার্থীর ফারাক্কায় দ্রুত গতিতে চলছে লাইন মেরামতির কাজ মালদা মেডিকেলে শিশুমৃত্য়ুর জের, সাসপেন্ড সুপার এবার রাজ্য়ের মডেল স্কুল প্রকল্পে সিএম শ্রী ইন্সটিউট, ঘোষণা মুখ্য়মন্ত্রীর

Lionel Messi: ছ’টি বিশ্বকাপ, ৩৪ ম্যাচ, ২১ গোল! আর্জেন্টিনার জার্সিতে মেসি রেখে গেলেন যে রেকর্ডের পাহাড়

01 September, 2026 2:40 AM Arko Banerjee
শেয়ার করুন

রোজারিও: বিশ বছর আগে জার্মানির মাটিতে যে ছেলেটি প্রথম বিশ্বকাপ খেলতে নেমেছিল, ২০২৬-এ সেই মেসিই খেললেন তাঁর ষষ্ঠ বিশ্বকাপ। পুরুষ ফুটবলে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে ছ’টি বিশ্বকাপে নামার রেকর্ড এখন তাঁর। ছ’টি বিশ্বকাপে ৩৪ ম্যাচ, ২১ গোল, ১২ অ্যাসিস্ট—মেসির আন্তর্জাতিক বিদায়ের সঙ্গে শেষ হল শুধু একটি কেরিয়ার নয়, রেকর্ড ভাঙারও এক দীর্ঘ অধ্যায়।

দেশের হয়ে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ, সবচেয়ে বেশি গোল

আর্জেন্টিনার জার্সিতে ২০৭ ম্যাচ—দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। গোল ১২৫—সেটিও সর্বোচ্চ। দ্বিতীয় স্থানে থাকা গ্যাব্রিয়েল বাতিস্তুতার চেয়ে ব্যবধানটা এতটাই বড় যে, মেসির এই রেকর্ড আপাতত নিরাপদ বলেই মনে হয়।

বিশ্বকাপে ২১ গোল—তবু এক নম্বর নন

ছ’টি বিশ্বকাপে ২১ গোল করেছেন মেসি। ২০২৬-এর আগে তিনি মিরোস্লাভ ক্লোসের ১৬ গোলের রেকর্ড পেরিয়েছিলেন। এখন বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতা কিলিয়ান এমবাপ্পে—২২ গোল নিয়ে। অর্থাৎ মেসির শেষ বিশ্বকাপেও রেকর্ডের লড়াইটা থামেনি।

বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ

৩৪টি বিশ্বকাপ ম্যাচ খেলেছেন মেসি। তাঁর আগে কোনও ফুটবলার এতগুলি ম্যাচ খেলেননি। ২০০৬ থেকে ২০২৬—চারটি বিশ্বকাপ নয়, পাঁচটি নয়, টানা ছ’টি আসর জুড়ে এই রেকর্ড তৈরি হয়েছে।

বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি অ্যাসিস্টের রেকর্ডও তাঁর

গোলের পাশাপাশি শেষ পাসেও মেসির দাপট। বিশ্বকাপে তাঁর অ্যাসিস্ট ১২টি—পুরুষদের বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। নকআউট পর্বেও ১০টি অ্যাসিস্ট নিয়ে তিনি সবার উপরে।

ছ’টি বিশ্বকাপেই অ্যাসিস্ট—এমন নজিরও একমাত্র মেসির

২০০৬ থেকে ২০২৬—প্রতিটি বিশ্বকাপেই অন্তত একটি অ্যাসিস্ট করেছেন মেসি। ফিফার তথ্য অনুযায়ী, ছ’টি বিশ্বকাপে অ্যাসিস্ট করা প্রথম এবং একমাত্র খেলোয়াড় তিনি।

তিনটি বিশ্বকাপ ফাইনাল:

২০১৪, ২০২২, ২০২৬—তিনটি বিশ্বকাপ ফাইনালে আর্জেন্টিনার অধিনায়ক ছিলেন মেসি। পুরুষদের ফুটবলে তিনটি বিশ্বকাপ ফাইনালে খেলা অধিনায়কদের বিরল তালিকায় এখন তাঁর নাম। ২০২২-এ হাতে উঠেছিল কাপ, ২০১৪ ও ২০২৬-এ শেষটা হয়েছে হার দিয়ে।

বিশ্বকাপে ২১ ম্যাচে গোল অথবা অ্যাসিস্ট:

বিশ্বকাপে ২১টি ম্যাচে অন্তত একটি গোল বা অ্যাসিস্ট করেছেন মেসি—এই সংখ্যাটিও সর্বোচ্চ। অর্থাৎ শুধু গোল নয়, সতীর্থকে দিয়ে গোল করানোর ক্ষেত্রেও তাঁর ধারাবাহিকতা ছিল অসাধারণ।

বাছাইপর্বেও সর্বোচ্চ:

দক্ষিণ আমেরিকার বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে মেসির গোল ৩৬টি—CONMEBOL-এর বাছাইপর্বের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। একই সঙ্গে ১৩টি অ্যাসিস্টও তাঁর নামে, সেটিও রেকর্ড।

কোপা আমেরিকাতেও রেকর্ডের মালিক:

কোপা আমেরিকায় সবচেয়ে বেশি ম্যাচ—৩৯। সবচেয়ে বেশি জয়—২৫। সবচেয়ে বেশি অ্যাসিস্ট—১৮। সাতটি আসরে অন্তত একবার অ্যাসিস্ট করেছেন মেসি। ২০২৪-এ তাঁর নেতৃত্বেই আর্জেন্টিনা জিতেছিল দ্বিতীয় টানা কোপা।

আর একটি সংখ্যা সবকিছুকে জুড়ে দেয়—১৯৩:

আর্জেন্টিনার হয়ে ১২৫ গোলের সঙ্গে ৬৮ অ্যাসিস্ট ধরলে মেসির মোট গোল-অবদান দাঁড়ায় ১৯৩। এই হিসাব তাঁকে শুধু দেশের সর্বোচ্চ গোলদাতা নয়, আক্রমণে সবচেয়ে বেশি সরাসরি অবদান রাখা খেলোয়াড় হিসেবেও তুলে ধরে। তবে বিভিন্ন পরিসংখ্যান প্রদানকারীর অ্যাসিস্ট গণনায় পার্থক্য রয়েছে, তাই ৬৮-কে ‘রেকর্ডেড অ্যাসিস্ট’ হিসেবে উল্লেখ করাই নিরাপদ।

৩৯ বয়সে এসে দেশের জার্সি তুলে রাখলেন লিও মেসি। তবে সঙ্গে নিয়ে গেলেন ২০৭টি ম্যাচের অভিজ্ঞতা, ১২৫টি গোলের রেকর্ড, ছ’টি বিশ্বকাপের স্মৃতি। আর রেখে গেলেন এমন কিছু সংখ্যা, যেগুলি শুধু রেকর্ডবুকে লেখা থাকবে না—পরের প্রজন্মের কাছে হয়ে থাকবে একটা অসম্ভব কঠিন বেঞ্চমার্ক। কারণ মেসির উত্তরসূরি খুঁজে পাওয়া হয়তো সম্ভব। কিন্তু মেসির রেকর্ডগুলির উত্তরসূরি? সেটাই এখন আসল প্রশ্ন।

প্রতিবেদন

Arko Banerjee