কাঞ্চনজঙ্ঘা স্টেডিয়ামে দেড় কোটি ব্যয়ে তৈরি হচ্ছে স্থায়ী পার্কিং
সংবাদদাতা, শিলিগুড়ি: শহরের প্রাণকেন্দ্রে যানজট মুক্তি ও দীর্ঘদিনের পার্কিং সমস্যার স্থায়ী সমাধানে বড়সড় পদক্ষেপে নামল প্রশাসন। কাঞ্চনজঙ্ঘা স্টেডিয়াম সংলগ্ন ঐতিহ্যবাহী মেলা ময়দানে আর বসবে না নিয়মিত মেলা। পরিবর্তে প্রায় দেড় কোটি টাকা খরচে গড়ে তোলা হচ্ছে একটি আধুনিক ও স্থায়ী পার্কিং পরিকাঠামো। আগামী ১৫ অক্টোবরের মধ্যেই, অর্থাৎ দুর্গাপুজোর মরশুম শুরু হওয়ার আগেই এই প্রকল্পের কাজ শেষ করার কড়া লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার নির্মীয়মাণ এই পার্কিং প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন রাজ্য পর্যটন মন্ত্রী তথা শিলিগুড়ির বিধায়ক শংকর ঘোষ। প্রদীপ প্রজ্বলন, ফিতে কেটে ও ফলক উন্মোচনের মধ্য দিয়ে কাজের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শিলিগুড়ি পুরনিগমের কমিশনার বীর বিক্রম রাই, ডিসিপি কাজী শামসুদ্দিন আহমেদ, এসিপি সুবীর দত্ত সহ পুরনিগম ও পুলিশ প্রশাসনের একাধিক শীর্ষ আধিকারিক। শিলিগুড়ির অন্যতম প্রধান বাণিজ্যকেন্দ্র বিধান মার্কেট এবং তার চারপাশের রাস্তাগুলিতে প্রতিদিন হাজার হাজার গাড়ি ও পথচারীর চাপ থাকে। পার্কিং স্পেসের অভাবেই মূলত সংলগ্ন রাস্তাগুলিতে যানজট তীব্র আকার ধারণ করে। শংকর ঘোষ জানান, বিধান মার্কেটের এই ভোগান্তি দীর্ঘদিনের। অতীতে একাধিকবার বিচ্ছিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হলেও স্থায়ী কোনো সমাধান বেরিয়ে আসেনি। কাঞ্চনজঙ্ঘা স্টেডিয়াম সংলগ্ন জায়গায় ইতিমধ্যেই পরীক্ষামূলকভাবে পার্কিং চালু হয়েছে। এখন দেড় কোটি টাকার নতুন পরিকাঠামো তৈরি হলে পুজোয় কেনাকাটা করতে আসা সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা বড়সড় স্বস্তি পাবেন। মেলা ময়দানে স্থায়ী পার্কিং হলে ঐতিহ্যবাহী মেলাগুলির কী হবে তা নিয়ে শহরের একাংশে প্রশ্ন উঠেছিল। এ বিষয়ে প্রশাসনের অবস্থান পরিষ্কার করে দিয়েছেন মন্ত্রী। তিনি জানান, পুজোর পর থেকে শহরের যত্রতত্র বা ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় মেলা করার ওপর কড়াকড়ি শুরু হবে। মেলা আয়োজনের জন্য নির্দিষ্ট নতুন স্থান চিহ্নিত করা হচ্ছে। যেখানে পর্যাপ্ত পার্কিং ও খালি জায়গা থাকবে, ভবিষ্যতে সেখানেই মেলা করার অনুমতি মিলবে। বিকল্প হিসেবে বিশ্ব বাংলা শিল্পী হাট এলাকাটিকে ভবিষ্যতে মেলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে গড়ে তোলার চিন্তাভাবনা চলছে। তবে দুর্গাপুজোর উৎসবে এই নিয়মে কিছুটা ছাড় থাকবে। শুধু মেলা ময়দানের পার্কিংই নয়, শহরের যানজট কমাতে একগুচ্ছ পরিকল্পনার কথা এদিন প্রকাশ করা হয়। শহরের সংকীর্ণ রাস্তায় বড় ভলভো বাস চলাচলের কারণে সৃষ্টি হওয়া জট কাটাতে বাসগুলিকে শহরের বাইরে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এর জন্য প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকার টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে কাজের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর এই নতুন বাস টার্মিনাল বা পার্কিং ব্যবস্থার উদ্বোধন হওয়ার কথা। ফুলবাড়ি এলাকায় যোগাযোগের মানোন্নয়নে প্রায় ৮ কোটি টাকা ব্যয়ে আধুনিক টোল গেট ও আনুষঙ্গিক পরিকাঠামো তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন। শহরের ফুটপাত ও রাস্তা দখল করে বেআইনি ব্যবসা বা অবৈধ নির্মাণের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন শংকর ঘোষ। প্রশাসনের এই পদক্ষেপে কাঞ্চনজঙ্ঘা স্টেডিয়াম সংলগ্ন মেলা ময়দানের চেহারা যেমন আমূল বদলে যাচ্ছে, তেমনই পুজোর আগেই শিলিগুড়িবাসী ট্রাফিক ভোগান্তি থেকে অনেকটাই মুক্তি পেতে চলেছেন বলে মনে করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
