বুধবার, ১৪ মে, ২০২৫
ব্রেকিং নিউজ
সিটি সেন্টার ২-এর পিছনের ঝুপড়িতে আগুন অমিতাভ বচ্চনের বাসভবনের বোমাতঙ্কের হুমকি পাক জঙ্গিদের টার্গেটে বাংলার মুখ্য়মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী মন্দারমণির সমুদ্রে তলিয়ে গেল মামা-ভাগ্নে

ওঁর ছবি অন্ধকার থেকে উৎসারিত আলোর মতো

25 October, 2026 2:24 PM Lopa Bhowmik
শেয়ার করুন

সোময়েত্রী চট্টোপাধ্যায়
চিত্রশিল্পী
সচেতন ভাবে ছবি দেখে যবে থেকে আনন্দ পেতে শিখেছি, তখন থেকেই শ্রদ্ধেয় যোগেন চৌধুরীর ছবি আমাকে মুগ্ধ করেছে। শিল্পী তো শুধু ছবি আঁকেন না, ছবির মধ্যে দিয়ে তাঁর ভাবনা বা বক্তব্যের সামগ্রিক স্পিরিটকে ফুটিয়ে তোলেন। তাঁর আঁকা নারী–পুরুষের অবয়ব দেখতে দেখতে এই উপলব্ধি আমার বারংবার হয়েছে। ফর্ম ভেঙে তিনি হাত, পা, আঙুল, দেহাবয়বের ভঙ্গিমায় ভেতরের যন্ত্রণা, কামনা ইত্যাদিকে বড় অনায়াসে ফুটিয়ে তুলেছেন। তাঁর ছবির দিকে তাকালে প্রথমেই যেটা চোখে পড়ে তা হল sharpness। কোথাও কোনও আবিলতা নেই। সবটাই একদম স্পষ্ট। প্রায় সব ছবিতে ডার্ক ব্যাকগ্রাউন্ডের মধ্যে হালকা ধূসর এবং ইয়োলো অকার রঙের এক চমৎকার ব্যালেন্স তিনি রচনা করেছেন। তাই দেখলে মনে হয় তাঁর প্রতিটি ছবি যেন অন্ধকার থেকে উৎসারিত আলোর মতো। তাঁর হ্যাচিং ক্রস–হ্যাচিং–এর ওপরে হালকা রঙের ওয়াশ আমাকে বারবার মুগ্ধ করে। শুনেছি একটা সময় অর্থ সংস্থান তেমন না থাকায় পেনসিল, কালি ও কলমে আঁকা শুরু করেছিলেন তিনি। ছবি আঁকতেন কম দামি নিউজপ্রিন্টে এবং তেল রং করতেন পেস্টবোর্ডে। অতি সামান্য সরঞ্জাম, অথচ প্রত্যেকটিই কী অদ্ভুত শিল্পকর্ম!‌ তাঁর ‘‌Peacock comes to two lonely men’s homeও’‌ ছবিটি আমার খুব প্রিয়। এখানেও সেই ফর্ম ভাঙা দেহাবয়ব, মাথার ওপরে বিশাল ময়ূর— কালি আর প্যাস্টেলের কী অপূর্ব ব্যবহার!‌ তাঁর সব ছবিতেই সহজ অথচ বলিষ্ঠ রেখা এবং unbreakable lines, এক টানের রেখায় সাধারণ বিষয় নিয়ে ছবি। কিন্তু সব ছবিতেই অদ্ভুত surrealism বা পরাবাস্তবতার ছোঁয়া।
অগ্রজদের ছবি থেকেই তো আমার শেখার শুরু। ব্যক্তিগত আলাপচারিতায় অনেক সময়েই শিল্পীর কাছ থেকে তাঁর ভাবনা–চিন্তার আভাস পাই। সেও তো আর এক বড় শিক্ষা। কিন্তু আক্ষেপ, যোগেন চৌধুরীর সঙ্গে আলাপের সুযোগ ঘটেনি। তাঁর মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে একটি ছবিময় সময়ের অবসান হল।

প্রতিবেদন

Lopa Bhowmik