বুধবার, ১৪ মে, ২০২৫
ব্রেকিং নিউজ
সিটি সেন্টার ২-এর পিছনের ঝুপড়িতে আগুন অমিতাভ বচ্চনের বাসভবনের বোমাতঙ্কের হুমকি পাক জঙ্গিদের টার্গেটে বাংলার মুখ্য়মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী মন্দারমণির সমুদ্রে তলিয়ে গেল মামা-ভাগ্নে

ওঁর আঁকা ছবির সম্মোহনী ক্ষমতা মারাত্মক!

25 October, 2026 1:46 PM Lopa Bhowmik
শেয়ার করুন

শুভেন্দু সরকার
চিত্রশিল্পী
আমরা যাঁরা ছবির চর্চা করি, তাঁদের কাছে যোগেন চৌধুরীর চলে যাওয়া অপূরণীয় ক্ষতি। যখন আর্ট কলেজে ভর্তি হয়েছি, আর্ট কলেজের পরিসর থেকে আমাদের চিন্তা–চেতনা একটু একটু করে বিকশিত হতে শুরু করেছে, সেই সময় থেকেই যোগেন চৌধুরীর কাজ দেখার শুরু। পরবর্তীতে ওঁর সান্নিধ্যে আসার সৌভাগ্য হয়। যত কাছাকাছি গেছি, ততই যেন বিস্ময়ের পারদ বেড়েছে। অবাক হয়ে দেখেছি একজন শিল্পীর ‘আর্ট ফর্ম’‌ কতটা নিপূণ হতে পারে!‌ কী আশ্চর্য দক্ষতা তাঁর!‌ কী অনায়াসে, সাবলীলভাবে একটা ‘‌বোল্ড’‌ লাইনের ভেতর দিয়ে অসম্ভব শক্তিশালী একটা ইমেজ মুহূর্তেই তৈরি করে ফেলতেন যোগেন চৌধুরী!‌ এটা ওঁর কাছ থেকে শিক্ষনীয় বিষয় ছিল। আমরা যাঁরা চিত্রশিল্প নিয়ে কাজ করি, তাঁরা জানি বিষয়টা কত কঠিন। বুঝি যে, ওই লাইটিকে সেই শক্তি অর্জন করাতে গেলে কতটা ‘‌স্কিলড’‌ হতে হয়। ওঁর ছাত্র জীবনের বেশ কিছু কাজ দেখার সুযোগ হয়েছিল আমার। এককথায় বলতে গেলে পুরোটাই ‘‌মেসমেরাইজিং’‌। সেই সব আঁকার মধ্যে এমন একটা আকর্ষণ ছিল, যা চিত্রশিল্পী তো বটেই, যে কোনও শিল্প রসিককেও মন্ত্রমুগ্ধ করে রেখে দিতে পারে। পরবর্তীকালে যোগেন চৌধুরী সেই ‘‌ফর্ম’‌টিকে ভেঙে আবার একটি নতুন ‘‌ফর্ম’‌ বা দর্শন তৈরি করেন। যে দর্শনটি আমদের প্রায় সম্মোহন করে ফেলেছিল। এরকম শক্তিশালী শিল্পী ভারতবর্ষে খুব কমই এসেছেন। সেদিক থেকে ওঁর চলে যাওয়াটা ভারতীয় শিল্পকলার ক্ষেত্রেও অপূরণীয় ক্ষতি। তবে এটা আমাদের কাছে অবশ্যই সৌভাগ্যের বিষয় যে, দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে আমরা ওঁর কাজ দেখতে পেরেছি, ওঁর সান্নিধ্য লাভ করেছি, ওঁর কাছ থেকে শেখার সুযোগ পেয়েছি। অস্বীকারের উপায় নেই, ওঁর দীর্ঘ ৮৭ বছরের পথচলায় ভারতীয় চিত্রকলা এক অনন্য মাত্রা পেয়েছে। যোগেন চৌধুরীর আর্ট কলেজের সময়কার বেশ কিছু বন্ধু–বান্ধবীর সঙ্গে আমার পরিচিত হওয়ার সুযোগ হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে একজন অনিতা রায়চৌধুরী। ওঁরা দুজনে খুবই ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন। অনিতা দেবীর কাছ থেকেই শুনেছি কতটা লড়াই করে বড় হতে হয়েছিল যোগেন চৌধুরীকে। দেশভাগের সময় ছিন্নমূল হয়ে এপার বাংলায় চলে আসেন। তারপর কলোনি জীবন, অভাব–অনটনের মধ্যে বেড়ে ওঠা। ফলে স্বাচ্ছন্দ্য একেবারেই ছিল না। আর্ট কলেজে লেখাপড়া করার জন্য যে পরিমাণ খরচের প্রয়োজন, সেটাও অনেক সময় ওঁর পক্ষে দেওয়া সম্ভব হতো না। তখন অনিতা দেবী বা অন্য বন্ধুরা রং–তুলি ইত্যাদি প্রয়োজনীয় জিনিস দিয়ে সাহায্য করতেন যোগেন চৌধুরীকে। ছোটবেলার জীবন, দেশভাগের ফলে এপার বাংলায় এসে ভয়াবহ পরিস্থিতিতে দিনযাপন— সবই ওঁর আঁকার মধ্যে বারেবারে ঘুরেফিরে এসেছে। অথবা ষাট–সত্তর বা আশির দশকে ওঁর যে সব অসাধারণ কাজকর্ম, সেগুলোও সব থেকে যাবে। কিছু কিছু মানুষ থাকেন, যাঁরা শিল্পকলা বা সাহিত্যে একটি চিরকালীন দাগ রেখে যান। যোগেন চৌধুরী সে রকমই একজন শিল্পী এবং মানুষ। আমাদের মনের ভেতরে তাঁর ছবি চিরকাল আঁকা হয়ে থাকবে।

প্রতিবেদন

Lopa Bhowmik