ছাত্রীকে অপহরণের অভিযোগ, ফাঁড়ি ঘেরাও পড়ুয়াদের
সংবাদদাতা, ইসলামপুর: ইসলামপুরের রামগঞ্জে একাদশ শ্রেণির ছাত্রীকে অপহরণের অভিযোগে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার পর একাধিক দিন কেটে গেলেও নিখোঁজ ছাত্রীর কোনো সন্ধান না পাওয়ায় ক্ষোভে ফেটে পড়েন তাঁর সহপাঠীরা। বান্ধবীকে দ্রুত উদ্ধার এবং এলাকায় নারী নিরাপত্তার নিশ্চিতকরণের দাবিতে সোমবার রামগঞ্জ গার্লস হাই স্কুলের একাদশ শ্রেণির ছাত্রীরা রামগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ি ঘেরাও করে দফায় দফায় বিক্ষোভ দেখান। এই ঘটনার জেরে সমগ্র রামগঞ্জ এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, অপহরণ হয়ে যাওয়া ছাত্রী রামগঞ্জ অঞ্চলের সিঙারাগছ এলাকার বাসিন্দা এবং স্থানীয় রামগঞ্জ গার্লস হাই স্কুলের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী। গত ৩ সেপ্টেম্বর বিকেলে প্রতিদিনের মতোই রামগঞ্জ এলাকায় টিউশন পড়তে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয় সে। কিন্তু নির্ধারিত সময় পার হয়ে গেলেও সন্ধ্যা নামার পর মেয়ে বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা দুশ্চিন্তায় পড়েন। পরিচিতদের বাড়ি ও সম্ভাব্য সমস্ত জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও তাঁর কোনো সন্ধান মেলেনি। অভিযোগ, গৃহশিক্ষকের কাছে যাওয়ার পথেই তাকে অপহরণ করা হয়েছে। ঘটনার দিনই, অর্থাৎ ৩ সেপ্টেম্বর সন্ধেয় পরিবারের পক্ষ থেকে রামগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়িতে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে কোনো পুলিশি অগ্রগতি না দেখে পরিবারের লোকজন ইসলামপুর পুলিশ জেলার পুলিশ সুপারের দ্বারস্থ হন এবং লিখিতভাবে বিষয়টি জানান। পরিবারের অভিযোগ, ঘটনার পর বেশকিছু দিন অতিক্রান্ত হলেও পুলিশ এখনও কোনও সুরহাব করতে পারেনি। প্রশাসনের ভূমিকা ও নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নিখোঁজ ছাত্রীর স্বজনরা। তাঁদের দাবি, পুলিশ সক্রিয়ভাবে পদক্ষেপ করলে এতদিনে মেয়েটির সন্ধান পাওয়া যেত। এদিকে, সহপাঠী নিখোঁজ থাকার খবর ছড়িয়ে পড়তেই রামগঞ্জ গার্লস হাই স্কুলের একাদশ শ্রেণির ছাত্রীদের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক বাড়তে থাকে। শেষ পর্যন্ত ক্ষুব্ধ ছাত্রীরা সংগঠিত হয়ে রামগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির সামনে জমায়েত হয় এবং ফাঁড়ি ঘেরাও করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করতে শুরু করে। হাতে প্ল্যাকার্ড নিয়ে স্লোগান দিতে থাকে তারা। ঘটনার জেরে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটে এবং রামগঞ্জ বাজারে সাময়িক যানজটের সৃষ্টি হয়। বিক্ষোভকারী এক ছাত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলে, আজ আমাদের এক সহপাঠী হারিয়ে গেছে, কাল আমাদের মধ্য থেকেও কেউ অপহৃত হতে পারে। প্রতিদিন আমাদের এই রাস্তা দিয়েই টিউশন ও স্কুলে যেতে হয়। আমাদের নিজস্ব নিরাপত্তা কোথায়? আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাতে পারি না। পুলিশ অবিলম্বে বান্ধবীকে সুরক্ষিত অবস্থায় উদ্ধার করে পরিবারের হাতে ফিরিয়ে দিক এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিক। ছাত্রীদের এই আকস্মিক বিক্ষোভ ও রামগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ি ঘেরাওয়ের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে পুলিশ প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন এবং উত্তেজিত ছাত্রীদের সাথে কথা বলেন। পুলিশ আধিকারিকরা অপহৃত ছাত্রীকে দ্রুত উদ্ধারের আশ্বাস দিলে এবং তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে বোঝালে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রণে আসে। পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে, পরিবারের দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে একটি নির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করা হয়েছে। সম্ভাব্য সমস্ত জায়গায় তল্লাশি চালানো হচ্ছে এবং সিসিটিভি ফুটেজ সহ অন্যান্য প্রযুক্তিগত তথ্যের সাহায্যে নিখোঁজ ছাত্রীর অবস্থান শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।
