আরব সাগরে পাক যুদ্ধজাহাজের ধাক্কা: পাকিস্তানের জবাবে অসন্তুষ্ট নয়াদিল্লি, সত্য গোপনের অভিযোগ
সংবাদদাতা, নয়াদিল্লি: উত্তর আরব সাগরে নিয়মিত টহলদারির সময়ে ভারতীয় নৌসেনার আধুনিক ও শক্তিশালী গাইডেড মিসাইল ডেস্ট্রয়ার ‘আইএনএস কলকাতা’ (INS Kolkata)-র সঙ্গে সংঘর্ষ পাকিস্তানি নৌবাহিনীর ভেসেল ‘পিএনএস হুনেইন’ (PNS Hunain)। পাক ভেসেলের অপেশাদার ও বিপজ্জনক আচরণের কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটলেও, ইসলামাবাদের তরফে দায় এড়ানোর চেষ্টা চলায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে নয়াদিল্লি। বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল স্পষ্ট জানিয়েছেন, পাকিস্তানের দেওয়া জবাবে ভারত একেবারেই সন্তুষ্ট নয় এবং তাদের বিরুদ্ধে প্রকৃত তথ্য ধামাচাপা দেওয়ার অভিযোগ তোলা হয়েছে।
দ্বিপাক্ষিক চুক্তি ও আন্তর্জাতিক নিয়মের স্পষ্ট লঙ্ঘন
ঘটনার বিবরণে বিদেশ মন্ত্রক জানায়, উত্তর আরব সাগরে আন্তর্জাতিক জলসীমায় আইএনএস কলকাতা তার রুটিন নজরদারিতে মোতায়েন ছিল। সেই সময় পাক নৌবাহিনীর পিএনএস হুনেইন বিপজ্জনক গতিতে ভারতীয় যুদ্ধজাহাজের খুব কাছাকাছি চলে আসে এবং অতিক্রম করার চেষ্টা করে, যার ফলে দু’টি জাহাজের মধ্যে ঘর্ষণ ও সংঘর্ষ ঘটে।
বিদেশ মন্ত্রক উল্লেখ করেছে যে, এই আচরণ ১৯৯১ সালের এপ্রিল মাসে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত ‘সামরিক মহড়া, কৌশলগত অনুশীলন এবং সৈন্য চলাচলের বিষয়ে আগাম নোটিস সংক্রান্ত চুক্তি’-র ১০ নম্বর অনুচ্ছেদের সরাসরি বিরোধী। ওই চুক্তিতে স্পষ্টভাবে বলা রয়েছে, সমুদ্রে দুই দেশের নৌসেনা জাহাজ একে অপরের অন্তত ৩ নটিক্যাল মাইলের ব্যবধান বজায় রাখবে। আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক নিয়মনীতি (COLREGs) লঙ্ঘন করা এই উস্কানিমূলক পদক্ষেপে ক্ষোভ প্রকাশ করে দিল্লিতে নিযুক্ত পাক দূতাবাসের শীর্ষ কূটনীতিক সাদ আহমদ ওয়ারিচকে তলব করা হয়।
দুই জাহাজের শক্তির তারতম্য ও ক্ষয়ক্ষতি
প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, সমুদ্রে উন্নত রেডার প্রযুক্তি থাকা সত্ত্বেও এই ধরণের সংঘর্ষের ঘটনা অত্যন্ত বিরল। তবে শক্তির বিচারে দুই জাহাজের মধ্যে আকাশ-পাতাল ফারাক ছিল:
- আইএনএস কলকাতা: ৭,৪০০ টন ওজনের এবং ১৬৪ মিটার দীর্ঘ এই দূরপাল্লার গাইডেড মিসাইল ডেস্ট্রয়ারটি ভারতীয় প্রযুক্তিতে তৈরি অন্যতম বিধ্বংসী যুদ্ধজাহাজ, যা ব্রহ্মোস ও বারাক-৮ মিসাইলে সজ্জিত।
- পিএনএস হুনেইন: মাত্র ২,৬০০ টন ওজনের এবং ৯৮ মিটার দীর্ঘ এই ইয়ারমুক-ক্লাস পেট্রোল ভেসেলটি মূলত নজরদারি ও সীমিত কমব্যাট অপারেশনের জন্য ব্যবহৃত হয়।
সংঘর্ষের পর আইএনএস কলকাতার কোনও কাঠামোগত ক্ষতি হয়নি এবং সেটি নিজের টহলদারি মিশন জারি রেখেছে। অন্যদিকে, ভারতীয় ডেস্ট্রয়ারের ৩ গুণ ছোট পাক জাহাজটির সামনের অংশ মারাত্মকভাবে দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং সেটিকে সারাইয়ের জন্য করাচি বন্দরে ফেরত পাঠাতে হয়। ভারতীয় নৌসেনার চরম সংযমের কারণেই বড় আকারের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে প্রতিরক্ষা সূত্রে খবর। ঘটনার পুনরাবৃত্তি রুখতে পাক সেনাদের সতর্কতা অবলম্বন করার কড়া বার্তা দিয়েছে বিদেশ মন্ত্রক।
