দ্বিতীয়বার ইডি-র দপ্তরে হাজিরা দিলেন ইন্দ্রনীল সেন
সংবাদদাতা, কলকাতা: ফের ইডি-র দপ্তরে ইন্দ্রনীল সেন। এই নিয়ে দ্বিতীয়বার। বুধবার সকাল ১০টা ৫০ মিনিটে সিজিও কমপ্লেক্স পৌঁছোন তিনি। দুর্গাপুজোর পাস বিলিতে অসংগতি ও সিভিক ভলান্টিয়ার নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় তাঁকে তলব করেছিল ইডি। এদিন তাঁকে তাঁর সমস্ত কোম্পানির ১০ বছরের আর্থিক লেনদেন এবং ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের নথিপত্র সহ ইডির আধিকারিকদের সামনে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। অভিযোগ, মুর্শিদাবাদে তৃণমূলের পর্যবেক্ষক থাকাকালীন সময়ে তিনি ওই জেলায় সিভিক ভলান্টিয়ার নিয়োগে দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। পাশাপাশি চলচ্চিত্র উৎসব ও কলকাতা বইমেলায় আর্থিক তছরুপ, নজরুল মহোৎসব পালনে আর্থিক অনিয়ম, নিজের ঘনিষ্ঠ সংস্থাকে বেআইনি ভাবে টেন্ডার পাইয়ে দেওয়ার মতো একাধিক অভিযোগও রয়েছে এই তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে। ইন্দ্রনীল সেনের সংস্থা ‘মাস আর্ট’-এর বিরুদ্ধে ইউনেস্কোর নাম ব্যবহার করে দুর্গাপুজোর ভুয়ো ভিআইপি পাস ও প্রিভিউ শো-এর টিকিট বিক্রির গুরুতর অভিযোগও রয়েছে ৷ শিশির মঞ্চে নজরুল মহোৎসব পালনের জন্য গত বছর খরচ দেখানো হয়েছিল ৩৭ লক্ষ ৯২ হাজার ৫৩ টাকা ৷ সেই সময় তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন ইন্দ্রনীল ৷ অথচ চলতি বছর সেই একই অনুষ্ঠান করতে খরচ হয়েছে মাত্র ১ লক্ষ ৪৪ হাজার ৪০০ টাকা ৷ দু’ বছরের খরচের মধ্যে এই বিপুল পার্থক্য সামনে আসতেই নতুন করে বিতর্ক দানা বাঁধে ৷
প্রাথমিক তদন্তে ইডির ধারণা, দুর্নীতির অঙ্কটা ৫০ থেকে ৬০ কোটি টাকা পর্যন্ত হতে পারে। গত ৩০ সেপ্টেম্বরও তাঁকে সিজিও কমপ্লেক্সে ডেকে পাঠিয়ে টানা ন’ঘন্টা জেরা করেছিল ইডি। তার আগে তল্লাশি চালানো হয়েছিল ইন্দ্রনীলের কসবার বাড়ি, সিঙ্গুরের বাগানবাড়ি-সহ একাধিক জায়গায়।
ইডির অভিযোগ, ২০২২ সাল থেকে প্রায় তিন বছর পুজোর পাশের নামে বিপুল টাকা পকেটে পুরেছিলেন ইন্দ্রনীল। সরকারি টেন্ডারের নিয়ম ভেঙে প্রায় ৮৫ কোটি টাকা ইন্দ্রনীল তাঁর ঘনিষ্ঠ এক সংস্থাকে পাইয়ে দিয়েছিলেন। ইন্দ্রনীলের মালিকাধীন সংস্থা ‘অক্টেভ রেকর্ডস’-এর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ৩.৮ কোটি টাকারও বেশি নগদ জমা পড়েছিল। ওই অ্যাকাউন্ট থেকে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অ্যাকাউন্টে ৩০ লক্ষ টাকা পাঠানো হয় বলেও দাবি করেঠে ইডি।
