India vs Panama: বিশ্বকাপ খেলে আসা পানামা কোনও মতে রুখে দিল খালিদের ভারতকে
বেঙ্গালুরু: “স্কোরলাইন একটি গাধা!” ফুটবল মাঠে এমন একটা কথা প্রায়ই শোনা যায়। কারণ ৯০ মিনিটের ম্যাচের গল্প সব সময় শেষ ফলের সংখ্যায় ধরা পড়ে না। পানামা (Panama Football Team) দলের বিরুদ্ধে ভারতের ১-১ ফলটা তারই জ্বলজ্যান্ত উদাহরণ। স্কোরবোর্ডে ড্র। কিন্তু মাঠের ছবি? সেখানে একটা সময় পানামাকেই মনে হয়েছে চাপে থাকা দল।

Ad
দু’দিন আগে বিশ্বকাপের মঞ্চে খেলে আসা পানামা। দলে ১৪ জন বিশ্বকাপার। বিপরীতে ভারত। ফিফা ক্রমতালিকায় অনেক পিছিয়ে। কাগজে-কলমে ম্যাচের আগে ব্যবধানটা আকাশ-পাতাল। কিন্তু বাঁশি বাজার পর সেই হিসাব যেন মাঠের বাইরে ফেলে রেখেই নেমেছিল ভারতীয়রা। শুরু থেকেই বিশ্বকাপারদের উপর কার্যত ঝাঁপিয়ে পড়ল ভারত।
আক্রমণাত্মক ভারত
বল পেলে শুধু নিরাপদে পাস নয়, সোজা পানামার গোলের দিকে যাওয়ার চেষ্টা। ডান দিক দিয়ে মণবীরের দৌড়, বাঁ দিক দিয়ে আশিক কুরুনিয়ানের গতি, মাঝখান থেকে আপুইয়ার চাপ—পানামার ফুটবলারদের এক মুহূর্তও আরামে থাকতে দেয়নি ভারত। আকাশ মিশ্রও শুধু নিজের অর্ধে আটকে থাকেননি। সুযোগ পেলেই উঠে গিয়েছেন। রায়ান উইলিয়ামস সামনে থেকে পানামার ডিফেন্সে চাপ তৈরি করেছেন। একটা সময় খেলা দেখতে দেখতে মনে হচ্ছিল, যেন বিশ্বকাপ থেকে দু’দিন আগে ফিরে আসা দলটা পানামা নয়, ভারত!
নিয়ন্ত্রণ খালিদের ছেলেদের পায়ে
পানামার পায়ে বল এসেছে ঠিকই। কিন্তু বলের নিয়ন্ত্রণ মানেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নয়। ভারতীয় ফুটবলাররা শরীর দিয়ে, গতিতে, প্রেসিংয়ে এবং দ্বিতীয় বলের লড়াইয়ে প্রতিপক্ষকে বারবার অস্বস্তিতে ফেলেছেন। পানামার অভিজ্ঞ ফুটবলারদের অনেক সময়ই তাড়াহুড়ো করে সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। বিশ্বকাপের বড় মঞ্চে যাঁরা লড়াই করে এসেছেন, তাঁরাই এখানে ভারতের চাপের মুখে স্বাভাবিক ছন্দ খুঁজে পাচ্ছিলেন না।
পানামা ম্যাচে ভারতীয় দাপট
আর ভারতের আক্রমণ? সেখানে ছিল ক্ষুধা। একটা আক্রমণ শেষ হচ্ছে তো আর একটা শুরু। পানামার বক্সে বল ঢুকছে। উইং থেকে ক্রস আসছে। দ্বিতীয় বলের জন্য ছুটছেন ভারতীয় ফুটবলাররা। রায়ান, মণবীর, আশিক—প্রত্যেকের দৌড়ে বুঝিয়ে দিচ্ছিল এই ম্যাচে শুধু টিকে থাকতে নামেনি জামিলের ছেলেরা। গোলটাও এল সেই দাপটেরই পুরস্কার হয়ে। আকাশ মিশ্রের তৈরি করা সুযোগ থেকে রায়ান উইলিয়ামসের ফিনিশ। পানামার জালে বল। সেই মুহূর্তে মাঠের ছবিটা আরও পরিষ্কার—ভারত শুধু বিশ্বকাপারদের আটকাচ্ছে না, বরং তাদের রক্ষণ ভেঙে গোলও করছে।
RYAN DALE WILLIAMS!!!! 🔥 https://t.co/cCHBlKTdgG
— Indian Football (@IndianFootball) September 25, 2026
জামিলের নতুন ভারত
দ্বিতীয়ার্ধে পানামা অবশ্য ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছে। অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে চাপ বাড়িয়েছে। সমতাও ফিরেছে। কিন্তু গোল খাওয়ার পর ভারত ভেঙে পড়েনি। এখানেই এই দলের লড়াইটা আলাদা। আগের মতো গোল খেয়ে মাথা নীচু করে পিছিয়ে যায়নি কেউ। আনোয়ার আলী সামনে থেকে রক্ষণ সামলেছেন। আকাশ মিশ্র লড়েছেন। আশিক দৌড়েছেন। মণবীর বারবার পানামার ডিফেন্সে ঢোকার চেষ্টা করেছেন। বরং শেষ দিকে ভারতেরই আরও কিছু সুযোগ এসেছে।
আরও পড়ুন: India vs Panama: ভারতীয় ফুটবলকে বিশ্বমঞ্চের দিশা বাতলে দিলেন পানামা কোচ
ফিনিশিংয়ের অভাব ডুবিয়েছে
স্ট্রাইকাররা যদি শেষ মুহূর্তে একটু বেশি ঠান্ডা মাথায় সিদ্ধান্ত নিতে পারতেন, পানামার বিরুদ্ধে ভারতের জয়টা অসম্ভব ছিল না। তাই এদিনের ড্র অপূর্ণ থেকে যাওয়া একটা জয়ের গল্পও। বিশ্বকাপ খেলা পানামা ভারতে এসে তৃণমূল স্তর থেকে ভারতীয় ফুটবলের উন্নতির কথা বলেছিল। কথাটা অবশ্যই প্রাসঙ্গিক। কিন্তু মাঠে ভারতীয় ফুটবলাররা যেন নিজেদের ভাষায় একটা উত্তর দিয়ে গেলেন—ভিত গড়ার কাজ চলুক, কিন্তু এই লড়াই করার ক্ষমতাটাও আমাদের আছে।
সম্মান নিয়ে মাঠ ছাড়ল পানামা
৯০ মিনিট শেষে পানামা বেঁচে গেল ড্র নিয়ে। ভারত পেল আরও বড় কিছু—বিশ্বাস। কারণ অনেক দিন পর এমন একটা ম্যাচ দেখা গেল, যেখানে ভারতীয় দল বড় প্রতিপক্ষকে দেখে শুধু বাঁচার রাস্তা খোঁজেনি। বরং প্রতিপক্ষকেই বারবার ভাবতে বাধ্য করেছে—এই ভারতকে থামাব কী করে?
