বুধবার, ১৪ মে, ২০২৫
ব্রেকিং নিউজ
টাইগার শ্রফের উপর হামলায় ধৃত আরও ৪ আজ বিজয়া দশমী, ঘাটে ঘাটে চলছে প্রতিমা নিরঞ্জন ভারতের সঙ্গে চুক্তি অন্যরকম, জানালেন ট্রাম্প দেশজুড়ে পালিত হচ্ছে দশেরা

ভারতের ‘কৃত্রিম সূর্য’: পৃথিবীতেই তৈরি হচ্ছে নক্ষত্রের শক্তি

15 September, 2026 6:32 PM UTSAB RC
শেয়ার করুন

মহাকাশের নক্ষত্র যেভাবে শক্তি উৎপাদন করে, ঠিক সেই একই প্রক্রিয়া এবার পৃথিবীতে বসেই ঘটানোর চেষ্টা চালাচ্ছে ভারত। গুজরাটের একটি গবেষণাগারে চলছে এই বিশেষ কাজ, যাকে বলা হচ্ছে ভারতের ‘কৃত্রিম সূর্য’ (India Artificial Sun) প্রকল্প। সম্প্রতি এই স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে আরও একধাপ এগিয়েছে দেশ।

এসএসটি-১ টোকামাকে নতুন সংযোজন

ইনস্টিটিউট ফর প্লাজমা রিসার্চ-এর এসএসটি-১ টোকামাক যন্ত্রে সম্প্রতি সফলভাবে বসানো হয়েছে একটি শক্তিশালী জাইরোট্রন, যার ক্ষমতা ৮২.৬ গিগাহার্জ এবং ৪০০ কিলোওয়াট। এসএসটি-১ অর্থাৎ ‘স্টেডি স্টেট সুপারকন্ডাক্টিং টোকামাক’ হলো ভারতের পরীক্ষামূলক ফিউশন যন্ত্র, যেখানে চলছে এই গবেষণা।

ফিউশন আসলে কী?

সাধারণ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মতো জ্বালানি পুড়িয়ে শক্তি উৎপাদন এই প্রকল্পের লক্ষ্য নয়। বরং চরম তাপ ও চাপের মধ্যে হালকা পরমাণুর নিউক্লিয়াসগুলোকে জুড়ে দিয়ে শক্তি তৈরি করাই এখানে মূল প্রক্রিয়া, যাকে বলে ‘ফিউশন’। সূর্য ও অন্যান্য নক্ষত্র ঠিক এই পদ্ধতিতেই আলো ও তাপ বিকিরণ করে।

ভারতীয় এই পরীক্ষায় প্লাজমার তাপমাত্রা ইতিমধ্যেই ২০ কোটি ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে গেছে — যা সূর্যের কেন্দ্রের তাপমাত্রার চেয়েও প্রায় ২০ গুণ বেশি। তবে বিজ্ঞানীদের কাছে শুধু তাপমাত্রা বাড়ানোটাই বড় চ্যালেঞ্জ নয়; আসল কঠিন কাজ হলো এই অতি উত্তপ্ত প্লাজমাকে দীর্ঘ সময় ধরে স্থিতিশীল রাখা।

নিউক্লিয়ার ফিউশন রিঅ্যাক্টর কী এবং কেন গুরুত্বপূর্ণ

‘কৃত্রিম সূর্য’ বলতে বোঝানো হচ্ছে এমন একটি নিউক্লিয়ার ফিউশন রিঅ্যাক্টরকে, যা মহাজাগতিক সূর্যের মতোই একই প্রক্রিয়ায় বিপুল পরিমাণ শক্তি উৎপাদন করতে সক্ষম। এখানে প্রায় ১০০ মিলিয়ন ডিগ্রি সেন্টিগ্রেডেরও বেশি তাপমাত্রায় হাইড্রোজেন পরমাণুর সংযোজন ঘটিয়ে শক্তি উৎপন্ন করা হয়।

এই প্রক্রিয়ার সবচেয়ে বড় বিশেষত্ব হলো, এতে কোনো কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাস নির্গত হয় না। ঠিক এই কারণেই ফিউশন প্রযুক্তিকে ভবিষ্যতের দূষণহীন ও পরিচ্ছন্ন শক্তির অন্যতম প্রতিশ্রুতিময় উৎস হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ভবিষ্যতের দিকে এক পদক্ষেপ

জাইরোট্রন সংযোজনের এই সাফল্য ভারতের ফিউশন গবেষণাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ। প্লাজমাকে দীর্ঘস্থায়ীভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখার লড়াইয়ে এই যন্ত্র কতটা কার্যকর হয়, সেদিকেই এখন নজর বিজ্ঞানী মহলের। সফল হলে তা শুধু ভারতের জ্বালানি ভবিষ্যতের জন্যই নয়, গোটা বিশ্বের পরিচ্ছন্ন শক্তির খোঁজেও এক বড় মাইলফলক হয়ে উঠতে পারে।

প্রতিবেদন

UTSAB RC