জ্ঞানেশের পদত্যাগ ও গ্রেপ্তারের দাবিতে উত্তাল হাওড়া ময়দান
সংবাদদাতা, হাওড়া : ভারতের গণতন্ত্র, ভোটাধিকার এবং নির্বাচন ব্যবস্থার নিরপেক্ষতা নিয়ে অভিযোগ তুলে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং গ্রেপ্তারের দাবিতে সোচ্চার হল হাওড়া জেলা কংগ্রেস। সোমবার দুপুরে হাওড়া ময়দানের বঙ্কিম সেতুর নিচে জেলা কংগ্রেস কমিটির উদ্যোগে বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি হয়। বিক্ষোভ চলাকালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কুশপুতুল দাহ করেন কংগ্রেস কর্মীরা। অভিযোগ, এসআইআর -এর নামে নির্বাচন কমিশনকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হচ্ছে। এর ফলে দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামো এবং অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন ব্যবস্থার মূল ভিত্তি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। দলীয় কর্মীদের মতে, মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের বর্তমান ভূমিকা সাধারণ মানুষের ভোটাধিকারের ওপর প্রত্যক্ষ আঘাত হানছে। এদিন দুপুরে বঙ্কিম সেতুর নিচে জড়ো হতে থাকেন হাওড়া জেলা কংগ্রেসের শতাধিক কর্মী ও সমর্থক। হাতে দলের পতাকা, প্লাকার্ড ও ফেস্টুন নিয়ে তাঁরা কেন্দ্রীয় সরকার এবং নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে থাকেন। বঙ্কিম সেতুর নিচেই বেশ কিছুক্ষণ চলে অবস্থান বিক্ষোভ। কর্মসূচি চলাকালীন পরিস্থিতি যাতে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে না যায়, তার জন্য হাওড়া জেলা পুলিশের বিশাল বাহিনী মোতায়েন করা হয়। অবস্থান চলাকালীন আন্দোলনকারীরা প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের প্রতীকী কুশপুত্তলিকা নিয়ে মিছিল করেন এবং তাতে আগুন জ্বালিয়ে দেন। পুলিশের উপস্থিতির মধ্যেই দাউদাউ করে জ্বলতে থাকে তিনজনের কুশের পুতুল। বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে হাওড়া জেলা কংগ্রেসের সভাপতি পার্থসারথী ভৌমিক নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, জ্ঞানেশ কুমার দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার পদে বসে একের পর এক বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। তাতে ভারতের সংবিধান ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ধ্বংসের মুখে দাঁড়িয়েছে। তাঁর নেওয়া সমস্ত সিদ্ধান্তের ওপর অবিলম্বে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিশন গঠন করা প্রয়োজন। এই আন্দোলন কেবল হাওড়াতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। আগামী দিনগুলোতেও নির্বাচন কমিশনের স্বৈরাচারী সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে এবং সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার সুরক্ষার দাবিতে হাওড়া জেলার বিভিন্ন অঞ্চলে ধাপে ধাপে আরও বড় আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
