রিয়াদ বিমানবন্দরে ফের হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা
সংবাদদাতা: সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াধের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ভয়াবহ হামলায় অন্তত ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন শতাধিক। শনিবারের এই হামলার দায় ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা স্বীকার করেছে। এক সপ্তাহের মধ্যে এই বিমানবন্দরে এটি তৃতীয় হামলা। ঘটনার জেরে সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয় বিমানবন্দরের পরিষেবা এবং অন্যত্র ঘুরিয়ে দেওয়া হয় একাধিক উড়ান। পরিস্থিতি ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। মৃতদের মধ্যে চারজন সৌদি নাগরিক এবং বাংলাদেশের দুজন নাগরিক রয়েছেন। এ ছাড়াও আমেরিকা, জর্ডন, প্যালেস্টাইন, সিরিয়া, সুদান ও মিশরের একজন করে নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। আহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। আহতদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য অ্যাম্বুল্যান্স ও হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হয়। হামলার পর রিয়াধ বিমানবন্দরে সাময়িকভাবে বিমান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। একাধিক উড়ান বাতিল করা হয়। কোনও কোনও বিমানের পথ ঘুরিয়ে দেওয়া হয়। বিমানবন্দরের ভিতরে বিস্ফোরণের পর বহু মানুষকে আহত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা গিয়েছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। হামলার পর সৌদি আরবে থাকা মার্কিন দূতাবাস সে দেশের নাগরিকদের বিমানবন্দর ও আশপাশের এলাকা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে।
এই ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে ভারতের বিদেশ মন্ত্রক বিবৃতিতে বলেছে, গত কয়েক দিন ধরে রিয়াধের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যে ভাবে বার বার হামলা চালানো হচ্ছে, আমরা তার তীব্র নিন্দা জানাই। এর মধ্যে ১০ অক্টোবরের হামলায় বহু মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। অনেকে জখম হয়েছেন। সম্পত্তিরও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, অসামরিক পরিকাঠামোর উপর এ ভাবে হামলা একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়। তা অবিলম্বে বন্ধ হওয়া উচিত।
পাশাপাশি এই পরিস্থিতিতে সৌদি আরবের পাশে দাঁড়িয়ে হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে মুখ খুলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রাম্প এই হামলাকে ভয়াবহ বলে উল্লেখ করেছেন। তাঁর মন্তব্য,সাম্প্রতিক হামলার খবর পাওয়ার পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিষয়টি বিবেচনা করে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পারে। উল্লেখ্য ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহী গোষ্ঠী এবং সৌদি আরবের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই সংঘাত চলছে। এই সংঘাতে আঞ্চলিক শক্তিগুলির পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়েও আন্তর্জাতিক মহলের নজর রয়েছে।নিরীহ নাগরিকদের প্রাণহানির প্রতি এমন অবহেলা মেনে নেওয়া যায় না।
উল্লেখ্য, ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের সঙ্গে সৌদি আরব ও সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেনি সরকারের সংঘাত নতুন করে তীব্র নিয়েছে।ইয়েমেন যুদ্ধের সাম্প্রতিক এই তীব্রতা বৃদ্ধির পিছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের সংঘাতের ইতিহাস। ২০২২ সালের যুদ্ধবিরতির পর গত জুলাই মাসে হুথিরা পুনরায় আক্রমণ শুরু করে। সানা বিমানবন্দরে সৌদি হামলার প্রত্যুত্তরেই এই আক্রমণ, জানায় তারা। বর্তমান পরিস্থিতিতে সৌদি আরব নিজেদের আকাশপথ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ঘাটতি পূরণ করতে ফ্রান্স, ব্রিটেন, পাকিস্তান ও মিশরের কাছে অতিরিক্ত সাহায্যের অনুরোধ জানিয়েছে। ওমান উপসাগরে একটি পণ্যবাহী জাহাজে ইরানের একটি বন্দর থেকে রওনা দিয়েছিল মার্কিন সেন্টকমের ক্ষেপণাস্ত্র হানার ঘটনা পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে। সৌদি আরবের বিমানবন্দরে পরপর হামলার জেরে আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এর আগে চলতি সপ্তাহে বিমানবন্দরে হওয়া হামলাতেও প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির খবর সামনে এসেছিল। সর্বশেষ হামলার পর সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট পাল্টা পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
