গভীর দুর্যোগ, বৃহস্পতি থেকে তুমুল বৃষ্টি রাজ্যজুড়ে!
সংবাদদাতা, কলকাতা: বুধবার ভোর থেকেই দুর্যোগ শুরু হয়েছে রাজ্যজুড়ে। বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া গভীর নিম্নচাপ জাঁকিয়ে বসেছে বাংলায়। ২২ সেপ্টেম্বর সন্ধেয় অতি গভীর নিম্নচাপটি অন্ধ্রপ্রদেশের কলিঙ্গপটনমের প্রায় ১৪০ কিলোমিটার দক্ষিণ–পূর্বে এবং ওড়িশার গোপালপুরের প্রায় ১৫০ কিলোমিটার দক্ষিণ–পূর্বে অবস্থান করছিল। এর পরে সেটি উত্তর–পশ্চিম দিকে এগিয়েছে। বুধবার রাতের মধ্যে বিশাখাপত্তনম ও গোপালপুরের মধ্যবর্তী উপকূল দিয়ে স্থলভাগে ঢুকে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। স্থলভাগে ঢোকার পরে সেটি আরও উত্তর–পশ্চিমে এগোতে পারে। তাই পশ্চিমবঙ্গে ব্যাপক দুর্যোগের সম্ভাবনা রয়েছে। হাওয়া অফিস জানিয়েছে, চরম ভোগান্তির আশঙ্কা রয়েছে। উপকূল অঞ্চল তো বটেই, সেইসঙ্গে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টি হতে পারে একাধিক জেলায়। জারি করা হয়েছে সতর্কবার্তা।
আলিপুর আবহাওয়া অফিস থেকে পূর্বাভাষে বলা হয়েছে, বুধবার দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুরে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা প্রবল। এই তিনটি জেলায় জারি করা হয়েছে কমলা সতর্কতা। অন্যদিকে ঝাড়গ্রামে ভারী বৃষ্টির হলুদ সতর্কতা জারি হয়েছে। কলকাতাসহ দক্ষিণবঙ্গের অন্য জেলাগুলিতে বজ্রবিদ্যুৎসহ ভারী থেকে মাঝারি বৃষ্টির হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। সেই সঙ্গে বইতে পারে ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিমি বেগে ঝোড়ো হাওয়া। জানানো হয়েছে, রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়বে বৃষ্টির পরিমাণও। কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকাতে দিনভর আকাশ মেঘলা থাকার পাশাপাশি দফায় দফায় বৃষ্টি হতে পারে। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৮টা থেকে কলকাতা, হাওড়া, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, বীরভূম, পশ্চিম বর্ধমানে ভারী বৃষ্টির হলুদ সতর্কতা দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রামে থাকছে অতি ভারী বৃষ্টির কমলা সতর্কতা। অন্যদিকে শুক্রবার পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূমে ভারী বৃষ্টির হলুদ সতর্কতা জারি হয়েছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুরে কমলা সতর্কতা জারি থাকবে। কলকাতা–সহ দক্ষিণবঙ্গের বাকি জেলাগুলিতে বজ্রবিদ্যুৎসহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির পূর্বাভাষ দেওয়া হয়েছে। আবহাওয়া অফিস এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, ২৫ সেপ্টেম্বর, শুক্রবার পর্যন্ত উপকূলের জেলাগুলিতে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬৫ কিমি বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। ওইদিন পর্যন্ত মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে। দিঘা, শঙ্করপুর, জুনপুট, পেটুয়াঘাট-সহ উপকূলবর্তী এলাকাগুলিতে ইতিমধ্যেই স্থানীয় মানুষ এবং পর্যটকদের সতর্ক করতে শুরু করেছে প্রশাসন। চলছে নজরদারি এবং মাইকিং। সমুদ্র উত্তাল হতে শুরু করেছে ইতিমধ্যেই। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সমুদ্র উত্তাল থাকবে বলে মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে।
অন্যদিকে দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ারে বুধবার এবং বৃহস্পতিবার দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার, উত্তর দিনাজপুরে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি রয়েছে।
এদিকে অতি গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে ওড়িশারও একাধিক এলাকায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। নদীর জলস্তর বেড়ে যাওয়ার এবং নিচু এলাকায় জল জমার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে ওড়িশা সরকার কয়েকটি জেলায় স্কুল ও অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
শনিবার থেকে দক্ষিণবঙ্গে ধীরে ধীরে বৃষ্টির পরিমাণ কমতে পারে বলে জনে করা হচ্ছে। যদিও উত্তরবঙ্গের জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ারে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকবে তখনও। রবিবার দক্ষিণবঙ্গের আবহাওয়ার উন্নতি হতে পারে।
