হাইকোর্টের নির্দেশে ৩০ বছরের পুরনো বাড়ির অবৈধ অংশ ভাঙলো পুরনিগম
সংবাদদাতা, শিলিগুড়ি: আদালতে নির্দেশের পর অবৈধ নির্মাণের বিরুদ্ধে আবারও কড়া পদক্ষেপ শিলিগুড়ি পুরনিগমের। বহুতল ও নকশাবহির্ভূত নির্মাণের বিরুদ্ধে পুরনিগমের টানা অভিযানের অংশ হিসেবে এবার কোপ পড়ল সুভাষপল্লি এলাকার একটি বহু পুরনো আবাসনে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই পুরকর্মীরা বুলডোজার ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি নিয়ে এলাকায় পৌঁছান এবং চিহ্নিত অবৈধ অংশগুলি ভাঙার কাজ শুরু করেন। দিনভর অভিযানে সংশ্লিষ্ট বাড়ির বেশ কয়েকটি অংশ সহ ছাদের একটি বড় অংশ ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। পুরনিগম সূত্রে খবর, সুভাষপল্লির ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা রঞ্জন সরকারের বাড়ির একটি নির্দিষ্ট অংশ নিয়ে দীর্ঘকাল ধরে আইনি জটিলতা চলছিল। অভিযোগ ওঠে, পুরনিগমের অনুমোদিত নকশা লঙ্ঘন করে ভবনটির বেশ কিছুটা অংশ বাড়তি নির্মাণ করা হয়েছিল। স্থানীয় পর্যায় থেকে শুরু হওয়া এই বিবাদ শেষ পর্যন্ত কলকাতা হাইকোর্ট পর্যন্ত গড়ায়। হাইকোর্ট সম্প্রতি স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, নকশা বহির্ভূতভাবে নির্মিত অবৈধ অংশ চিহ্নিত করে তা দ্রুত ভেঙে ফেলতে হবে। সেই নির্দেশ বাস্তবায়িত করতেই পুরনিগমের এই অভিযান। অভিযানের খবর সামনে আসতেই তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছে রঞ্জন সরকারের পরিবার। পরিবারের এক সদস্য জানান, ১৯৯৮ সালে তাঁর বাবা ভবনটি কিনেছিলেন। বিগত প্রায় ২৯-৩০ বছর ধরে রঞ্জনবাবু, তাঁর দুইভাই এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা ওই বাড়িতে বসবাস করছেন। তাঁদের মূল অভিযোগ, পুরনিগমের তরফ থেকে মাত্র দু’দিন আগে একটি নোটিশ টাঙিয়ে দেওয়া হয়। আচমকা এই পদক্ষেপের ফলে পুরো পরিবার চরম বিপাকে পড়েছে। রঞ্জন সরকারের কথায়, “১৯৯৮ সালে যখন বাবা বাড়িটি কেনেন, তখন নির্মাণসংক্রান্ত আইন বা নকশা লঙ্ঘনের বিষয়গুলি সম্পর্কে আমাদের সঠিক ধারণা ছিল না। দীর্ঘদিন ধরে যেখানে বাস করছি, সেখানে মাত্র ৪৮ ঘণ্টার নোটিশে ছাদ ও ঘর ভেঙে দেওয়া মানবিক নীতিবিরোধী। আমরা আদালতের কাছে আইনি লড়াই চালাচ্ছিলাম, কিন্তু এত দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে আশা করিনি। তবে শিলিগুড়ি পুরনিগমের আধিকারিকেরা এই অভিযোগ খণ্ডন করে জানিয়েছেন, বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে বিচারাধীন এবং পুরনিগম নিজের ইচ্ছেমতো কোনও পদক্ষেপ করেনি। পুর কর্তৃপক্ষের বক্তব্য,কলকাতা হাইকোর্ট থেকে সুনির্দিষ্ট নির্দেশ আসার পরই এই উচ্ছেদ চালানো হয়েছে। আদালতের নির্দেশ অমান্য করা পুরনিগমের পক্ষে সম্ভব নয়। মামলা চলাকালীন সমস্ত পক্ষকে তাদের মতামত প্রকাশের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। চিহ্নিত অংশে ভাঙার কাজ শুরুর পূর্বেই আইনি প্রক্রিয়া মেনে নোটিশ জারি করা হয়েছিল। বৃহস্পতিবার প্রথম ধাপে ছাদ ও চিহ্নিত বিপজ্জনক অংশ ভাঙা হয়েছে। আগামী দিনে আদালতের নির্দেশ ও সময়সীমা অনুযায়ী বাকি অবৈধ অংশ নিয়েও একইভাবে আইনগত পদক্ষেপ করা হবে। পুরনিগমের এই অভিযানে সুভাষপল্লি এলাকায় সাময়িক চাঞ্চল্য ছড়ায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অভিযানে পুলিশ বাহিনী উপস্থিত ছিল। এই ঘটনার পর থেকে এলাকায় অবৈধ নির্মাণ ও পুরনিগমের কঠোর ভূমিকা নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। পুর প্রশাসনের সাফ বার্তা শহরের যেখানেই অনুমোদিত নকশা লঙ্ঘন করে নির্মাণ করা হবে, হাইকোর্টের নির্দেশে সেখানে কোনও আপস করা হবে না।
