‘এটা পুজো বলছেন আপনি?’, মেয়েকে হারিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়লেন মা
সংবাদদাতা, কলকাতা: সোশ্যাল মিডিয়ার ফিডে বারবার চোখ পড়ছিল একটি প্যান্ডেলে। আলো-আঁধারির খেলা। শব্দ ও নৈঃশব্দ্যের জাদু। সেই মন্ডপের প্রতিমাদর্শন যে এতগুলো প্রাণ কেড়ে নেবে, তখন কে জানত। সপ্তমীর সন্ধ্যায় মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পরে এখনও স্তব্ধ মহানগর। বৃষ্টি, আচমকা ঘোষণা, লাইন, এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি হল, যার ফল পদপিষ্ট হয়ে প্রাণ হারালেন এতগুলো মানুষ। কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ, আরজি করে ভর্তি অনেকে। বেসরকারি হাসপাতালেও নিয়ে যাওয়া হয়েছে আহতদের। স্বজনহারাদের মর্মান্তিক ছবিতে এবারের সপ্তমীর রাতেই বিষাদ নেমে এল। কান্না-আর্তনাদে থমথমে হাসপাতাল চত্বর।
বৈদ্যবাটি থেকে কলকাতায় ঠাকুর দেখতে এসেছিলেন ২৬ বছরের তরুণী শ্রীপর্ণা পোদ্দার। টাটা মেডিকেল ক্যান্সার হাসপাতালে কাজ করতেন শ্রীপর্ণা। ট্রেন্ডিং প্রতিমা দর্শন করার লোভ কে আর ছাড়তে পারে? কিন্তু কলকাতায় এসে ঠাকুর দেখে ফেরা হল না শ্রীপর্ণার। বাড়িতে এল মৃত্যু সংবাদ। সকাল সাড়ে সাতটায় বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন শ্রীপর্ণা। কলকাতার অন্য কয়েকটি পুজো মণ্ডপ ঘুরে, সন্ধ্যায় চোরবাগানে আসেন। বাড়ির লোকের সঙ্গে কয়েকবার ফোনে কথাও হয় তাঁর। সন্ধে সাড়ে ৬টা নাগাদ শেষ ফোন আসে শ্রীপর্ণার। ৭টা ১০-বাড়িতে খবর দেওয়া হয়, তাদের মেয়ে নেই। মেয়ের বন্ধুরা শ্রীপর্ণার বাবাকে ফোন করে জানায়।
পরিবার দুঃস্বপ্নেও ভাবেননি এমন ফোন পাবেন তাঁরা। কয়েক মিনিটের মধ্যেই সব শেষ হয়ে যাবে তাদের মেয়ে। হাসপাতালে এসে কান্নায় ভেঙে পড়লেন তাঁর মা। তিনি বলেন, “আমার একটা মাত্র মেয়ে। এত বড় মর্মান্তিক একটা ঘটনা। এটা পুজো বলছেন আপনি? আমি কী করে বিশ্বাস করব, বলতে পারেন। আমার কি কিছু বলার জায়গা আছে? ”
