জয় এল, কাটল না শঙ্কা : পাক-বধের রাতেও ভারতের রক্ষণে বড় প্রশ্নচিহ্ন
আমস্টেলভিন: স্কোরবোর্ডে ৫-৩। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানকে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে দিয়ে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে পা রাখল ভারত। কিন্তু আমস্টেলভিনের বিজয়ানন্দের মাঝেই মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে এক অস্বস্তিকর প্রশ্ন—বিশ্বকাপের মতো সর্বোচ্চ মঞ্চে এ ভাবে ম্যাচ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে কি শেষ পর্যন্ত ট্রফি ছোঁয়া সম্ভব?
ম্যাচের শুরুটা হয়েছিল রূপকথার মতো। পঞ্চম মিনিটেই অধিনায়কের ট্রেডমার্ক ড্র্যাগ-ফ্লিকে দলকে এগিয়ে দেন হরমনপ্রীত সিং। ১১ মিনিটে অভিষেকের একক দক্ষতার গোল এবং ২১ মিনিটে আবারও হরমনপ্রীতের কামান দাগা শট—প্রথম অর্ধে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে গিয়ে পাকিস্তান শিবিরকে কার্যত কোণঠাসা করে দিয়েছিল নীল জার্সিধারীরা। কিন্তু স্বস্তি দীর্ঘস্থায়ী হয়নি।
৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকার পর থেকেই ভারতীয় রক্ষণে আত্মতুষ্টির ছাপ স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ২২ মিনিটে হান্নান শাহিদ এবং ২৫ মিনিটে সুফিয়ান খানের গোলে মুহূর্তের মধ্যে ব্যবধান কমায় পাকিস্তান। মাঝমাঠে হার্দিক সিং বা আক্রমণে অভিষেক দুর্দান্ত খেললেও, প্রতিপক্ষের প্রতিআক্রমণ সামলাতে বারবার হিমশিম খেয়েছে ভারতের শেষ রক্ষণ।
আরও পড়ুন : ২৮৪ রানে অল আউট শ্রীলঙ্কা, কপিলকে ছুঁয়ে নজির জাদেজার!
দ্বিতীয়ার্ধে হার্দিকের পেনাল্টি স্ট্রোক ভারত ৫-২ করলে মনে হয়েছিল ম্যাচ পকেটে পুরে ফেলেছে দল। কিন্তু ৪৬ মিনিটে হান্নানের দ্বিতীয় গোল এবং ম্যাচের শেষ পাঁচ মিনিটে আদিত্য অর্জুন হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে ১০ জনের ভারতের ওপর চেপে বসে পাকিস্তান। পর পর পেনাল্টি কর্নার আদায় করে তীব্র চাপ তৈরি করে তারা। শেষ রক্ষা হলেও প্রতিপক্ষের এই ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ করে দেওয়াই চিন্তার প্রধান কারণ।
জুনে এফআইএইচ প্রো লিগে ৪-৩ এবং ৭-১ গোলে উড়িয়ে দেওয়ার পর বিশ্বকাপের মঞ্চেও বজায় রইল ভারতের আধিপত্য। পুল ‘ডি’-তে ৩ ম্যাচে ৬ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে শেষ করল ভারত (৯ পয়েন্ট পেয়ে শীর্ষে ইংল্যান্ড)। কিন্তু নকআউট পর্বের কঠিন লড়াইয়ের আগে এই জয় কেবলই এক সতর্কবার্তা।
ম্যাচ শেষে অধিনায়ক হরমনপ্রীত সিং নিজেও মেনে নিয়েছেন দলের এই ভুলের কথা। নকআউটে ইংল্যান্ড বা অন্যান্য পরাশক্তিদের বিরুদ্ধে এমন ৫ মিনিটের অসাবধানতা টুর্নামেন্ট থেকেই ছিটকে দিতে পারে। ৫-৩ স্কোরের আড়ালে ঢাকা পড়া এই খামতিগুলো দ্রত মেরামত করাই এখন কোচ ও দলের প্রধান চ্যালেঞ্জ।
