বুধবার, ১৪ মে, ২০২৫
ব্রেকিং নিউজ
টাইগার শ্রফের উপর হামলায় ধৃত আরও ৪ আজ বিজয়া দশমী, ঘাটে ঘাটে চলছে প্রতিমা নিরঞ্জন ভারতের সঙ্গে চুক্তি অন্যরকম, জানালেন ট্রাম্প দেশজুড়ে পালিত হচ্ছে দশেরা

মানাসলুতে মৃত ধ্রুবজ্যোতি, সেখানেই মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরেছিলেন প্রশান্ত সিংহও

22 September, 2026 6:22 PM Lopa Bhowmik
শেয়ার করুন

সংবাদদাতা, নদীয়া: নেপালের মানাসলু শৃঙ্গে তুষারধসে পর্বতারোহী ধ্রুবজ্যোতি গুহর মৃত্যুর ঘটনায় নিজের জীবনের পুরনো ভয়াবহ অভিজ্ঞতা  ভাগ করে নিলেন কৃষ্ণনগরের পর্বতারোহী তথা স্কুলশিক্ষক প্রশান্ত সিংহ।
২০২২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে একই শৃঙ্গে অভিযানে গিয়ে তুষারধসের মধ্যে পড়ে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরেছিলেন তিনি। সেই অভিযানে গুরুতর আহত হয়েছিলেন। বরফের নীচে চাপা পড়েছিল তাঁবু ও গ্যাস সিলিন্ডার। পরবর্তী অভিযানে ক্যাম্প ৩ ও ক্যাম্প ৪-এর মাঝেও তুষারধসে পড়েছিলেন । সেই একই পাহাড়ে ধ্রুবজ্যোতির মৃত্যুর খবর পেয়ে শোকস্তব্ধ তাঁর দীর্ঘদিনের সহযোদ্ধা।

২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে কৃষ্ণনগরের পর্বতারোহণ সংস্থা ‘ম্যাক’-এর হয়ে বসন্ত সিংহরায়ের নেতৃত্বে ৬ জনের দল মানাসলু অভিযানে যায়।প্রশান্তবাবু জানান, অভিযানের সময় তীব্র তুষারধসের মধ্যে  পড়েন তাঁরা। ক্যাম্প ২ থেকে ক্যাম্প ৩-এর মধ্যবর্তী এলাকায় ধসের কবলে পড়ে দলের তিন শেরপার মৃত্যুও হয়।

হেলিকপ্টারে তাঁদের উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়া হয়। ধসের পরে তাঁদের তাঁবু এবং গ্যাস সিলিন্ডারও খুঁজে পাওয়া যায়নি। বাধ্য হয়ে অভিযান থেকে ফিরে আসতে শুরু করেন তাঁরা।কিন্তু বিপদ সেখানেই শেষ হয়নি। ফেরার পথে ক্যাম্প ২ থেকে ক্যাম্প ৩-এর মধ্যবর্তী এলাকায় আরও একটি তুষারধসের কবলেপড়েন দলের সদস্যেরা। প্রশান্তবাবুর কথায়, সেই সময় দলের সদস্যেরা প্রায় গলা কিংবা কোমর পর্যন্ত বরফের মধ্যে ঢুকে গিয়েছিলেন। কোনও রকমে সেবার বেঁচে ফিরেছিলেন তাঁরা।

পরবর্তী সময়ে তিনি এবং দলের আর এক সদস্য রূম্পা দাস ফের অভিযানে যান। ক্যাম্প ৩ থেকে ক্যাম্প ৪-এর মাঝেও তুষারধস নামে। তাঁরা বেঁচে গেলেও অন্য একটি দলের এক শেরপার মৃত্যু হয়।

২০২২ সালের অভিযানে খারাপ আবহাওয়া ও তুষারধসের কারণে অধিকাংশ পর্বতারোহীই শৃঙ্গ জয় করতে পারেননি বলে জানান প্রশান্তবাবু।ধ্রুবজ্যোতির সঙ্গে প্রশান্তবাবুর পরিচয় বহুদিনের। ২০১৫ সালে দার্জিলিংয়ের হিমালয়ান মাউন্টেনিয়ারিং ইনস্টিটিউট (এইচএমআই)-এ ২৮ দিনের প্রশিক্ষণের সময় দুজনে একই দলের সদস্য ছিলেন। একই রোপমেট হিসেবে দড়িতে বাঁধা অবস্থায় প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন তাঁরা। পেশাগত কারণে ধ্রুবজ্যোতি জার্মানিতে থাকলেও কৃষ্ণনগরে ফিরলে প্রশান্তবাবুর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ হতো।

কৃষ্ণনগর গভর্নমেন্ট কলেজের মাঠে দৌড়োতে গিয়ে ফোন করতেন ধ্রুবজ্যোতি। পাহাড় নিয়ে আলোচনা চলত দু’জনের। ধ্রুবজ্যোতির মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে প্রশান্তবাবু বলেন, ‘‘ছেলেটা খুবই ভাল ছিল। মানসিকতার দিক থেকেও ছিল উদার। ছিল জেদি, অ্যাডভেঞ্চারপ্রিয়।’ ২০২২ সালের অভিজ্ঞতার পরের তিন বছর, অর্থাৎ ২০২৩, ২০২৪ ও ২০২৫ সালে মানাসলু অভিযানে তেমন সমস্যা হয়নি বলে জানান প্রশান্তবাবু। কিন্তু ২০২৬ সালে ফের তুষারধসের ঘটনায় তাঁর আশঙ্কা, মানাসলুর আবহাওয়ায় পরিবর্তন ঘটছে।

তাঁর বক্তব্য, ‘প্রকৃতি কখনও জানান দিয়ে দুর্যোগ আনে না।  ক্যাম্প ৩ থেকে ক্যাম্প ৪-এর মাঝের যে দেওয়াল, সেখান থেকে তুষারধস নামছে। আগামী দিনে যাঁরা যাবেন, তাঁদের এই জায়গা নিয়ে আরও সতর্ক হতে হবে।’
বামুনপুকুর হাইস্কুলের ভূগোলের শিক্ষক প্রশান্তবাবু নিজেও একাধিক পর্বতারোহণ অভিযানে অংশ নিয়েছেন। মাউন্ট গোরিচেন, রামঝাক শৃঙ্গ ও ব্ল্যাক পিক অভিযানের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর।

মানাসলুর মতো দুর্গম শৃঙ্গে অভিযানের ক্ষেত্রে আবহাওয়ার পরিবর্তনকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলছেন তিনি। তাঁর মতে, বেস ক্যাম্পে তুষারধস নামার ঘটনা উদ্বেগের। হিমবাহ গলে যাওয়া ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবও পর্বতারোহীদের নজরে পড়ছে বলে জানান তিনি।।

প্রতিবেদন

Lopa Bhowmik