ককরোচদের আন্দোলনের ঝাঁঝে দিল্লিতে অঘোষিত কার্ফু, বন্ধ ইন্টারনেট পরিষেবা
সংবাদদাতা, নয়াদিল্লি: দেবীপক্ষের শুভ লগ্নে ককরোচদের আন্দোলনের ঝাঁঝে কাঁপছে দিল্লি, কাঁপছে প্রশাসন। তাদের দিল্লি চলো ডাককে প্রতিহত করতে ব্যাপক ব্যবস্থা নিয়েছে প্রশাসন। অভিজিৎ দীপকেদের আন্দোলন ‘ভোটচুরি’র বিরুদ্ধে। তাই তাঁদের দাবি, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে পদত্যাগ করতে হবে। এই মেগা আন্দোলনের নাম‘যন্তরমন্তর ২.০’। ককরোচদের এই আহ্বান কাঁপিয়ে দিয়েছে দিল্লি প্রশাসন তথা মোদি সরকারের ভিত। তাই শুক্রবার থেকেই ট্রেন বাতিল, ‘লাইফ লাইন’ মেট্রোর শাটার ডাউন, প্রত্যেক মোড় হয়েছে ব্লকিং পয়েন্ট, গণপরিবহণে পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণ!
বিভিন্ন আবাসন এবং কলোনিতে গিয়ে দিল্লি পুলিশের সাফ বার্তা, শনিবার বাসিন্দারা কেউ বাইরে বেরোবেন না। নজিরবিহীনভাবে দিল্লির রাজপথে টহল দিচ্ছে আধাসেনা। অভিযোগ উঠেছে, দিল্লির বাড়ি বাড়ি তল্লাশি চলছে, বাইরের কেউ এলে তাকে পুলিশ তুলে নিয়ে যাচ্ছে।
চাপা টেনশনের মোড়কে রাজধানী। শহরে সকাল থেকেই যেন অঘোষিত কার্ফু। সবমিলিয়ে স্পষ্ট, আজ, শনিবার অবরুদ্ধ হতে চলেছে শহর। আর ককরোচ জনতা পার্টির পালটা চ্যালেঞ্জ, ‘শনিবার যন্তরমন্তরে পৌঁছাতে যদি কোনোভাবে বাধা দেওয়া হয়, তাহলে প্রধানমন্ত্রীর ইস্তফা নিশ্চিত করে তবেই জেন জি ঘরে ফিরবে। শুধুই জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আর আটকে থাকা হবে না।’
মোকাবিলায় প্রস্তুত পুলিশও। সব রাস্তা গার্ডরেল দিয়ে ঘিরে ফেলা হয়েছে। অশোকা রোড, জনপথ, সংসদ মার্গ সর্বত্র বিশাল পুলিশ বাহিনী, সঙ্গে RAF ও আধাসেনা। তারা রুটমার্চ করছে। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে ইন্টারনেট পরিষেবা। বন্ধ করা হয়েছে গণপরিবহণ পরিষেবা। এই বেনজির ব্যবস্থায় দিল্লি কার্যত অবরুদ্ধ। গণপরিবহণ ব্যবস্থাকে এভাবে পঙ্গু করে দেওয়া নিয়ে গতকালই সুপ্রিম কোর্ট অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। সব মিলিয়ে বোঝা যাচ্ছে ককরোচদের মোকাবিলায় হিমশিম অবস্থা দিল্লি প্রশাসনের।
