বনগাঁয় সিপিএমের বুকস্টল করার অনুমতি দিল হাইকোর্ট, রাখতে হবে পর্যাপ্ত পুলিশ
ভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শকে গুরুত্ব দেওয়াই গণতন্ত্রের অধিকার, পর্যবেক্ষণ হাইকোর্টের
সংবাদদাতা, কলকাতা: পঞ্চমীতে স্বস্তি বামেদের। সিপিএমের বুকস্টল বসানোর অনুমতি দিল কলকাতা হাইকোর্ট। বৃহস্পতিবার এই সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে হাইকোর্ট জানিয়েছে, বনগাঁয়, যশোর রোডে সিপিএমের বুকস্টল পুজো প্যান্ডেলের ১০০ মিটারের মধ্যে করা যাবে। আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে মোতায়েন রাখতে হবে পর্যাপ্ত পুলিশ। বিষয়টি নিয়ে পুলিশ সুপারকে রিপোর্টও দিতে হবে। বিষয়টি নিয়ে বিচারপতি জানান, অন্য কেউ স্টল বসানোর অনুমোদন পেলেও আবেদনকারীর ক্ষেত্রে তা হয়নি। এটা যথার্থ নয়। যখন অন্যরা স্টল বসিয়ে বিভিন্ন জিনিস বিক্রি করছেন তখন আবেদনকারীদের বই বিক্রির অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না। ভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শকে গুরুত্ব দেওয়া গণতন্ত্রের অধিকার। আশা করি বর্তমান প্রশাসন সেই দিকটা লক্ষ্য রাখবে।
সিপিএমের পক্ষে সওয়াল করতে গিয়ে আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য যুক্তি দিয়ে জানান যে, এই নির্দিষ্ট মামলাটি কোনও জমি সংক্রান্ত বিষয় নয়। বরং একজন সাধারণ নাগরিক বা রাজনৈতিক দল হিসেবে নিজেদের সাংবিধানিক অধিকার রক্ষার্থে আবেদনকারীরা আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন এবং এটি সম্পূর্ণভাবে আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার বিষয়। এই ইস্যুতে বিচারপতি জানতে চান সংশ্লিষ্ট এলাকার আশেপাশে কোনও বড় দুর্গাপুজোর প্যান্ডেল রয়েছে কিনা এবং থাকলে তাতে আদতে কী ধরনের সমস্যা হতে পারে। এছাড়া সেখানে অন্য কোন কোন সংস্থাকে স্টল বসানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছে, তাও জানতে চান বিচারপতি।
পাশাপাশি রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করে বলেন যে, কেউ যদি হুট করে এসে দাবি করেন যে তাঁরা অন্য কারোর সম্পত্তির ওপর নির্মাণকাজ করবেন এবং তার জন্য পুলিশি সুরক্ষার দাবি জানান, তবে প্রশাসন কী পদক্ষেপ করবে। সরকারের মতে, আইনসম্মতভাবে কোনও কিছু করতে গেলে যথাযথ অনুমোদন যে আবশ্যক, তা আবেদনকারীরাও ভালোভাবে জানেন।
এই যুক্তির প্রেক্ষিতে বিচারপতির কড়া মন্তব্য ছিল যে, যদি নিয়মের বাইরে গিয়ে সমস্ত বেআইনি নির্মাণ ভাঙার কথা বলা হয়, তবে সরাসরি বুলডোজার বা জেসিবি চালিয়ে সব গুঁড়িয়ে দেওয়া হোক, যাতে কোথাও কোনও অস্থায়ী নির্মাণ না থাকে।
এজি জানিয়েছেন, সরকার ওই নির্দিষ্ট স্থানে কোনও ধরনের অস্থায়ী নির্মাণেরই অনুমতি দিতে পারে না এবং পুলিশ এই ধরনের নির্মাণের ক্ষেত্রে কোনও সুরক্ষা দিতে বাধ্য নয়। তবে এদিন আদালত সাফ জানিয়ে দেয় যে, বিগত ৬৩ বছর ধরে যেখানে এই স্টলগুলি বসানো হয়ে আসছে, সেখানে অন্যদের অনুমতি মিললে এঁদের ক্ষেত্রে বাধা দেওয়ার কোনও যৌক্তিকতা নেই।
