জলাশয়ে পড়ে বিপাকে মা ও শাবক, উদ্ধার করলেন বনকর্মীরা
সংবাদদাতা, আলিপুরদুয়ার: রুদ্ধশ্বাস দৃশ্যের সাক্ষী থাকল আলিপুরদুয়ারের কুমারগ্রাম চা বাগান এলাকা। বুধবার সকালে চা বাগানের একটি সেচের জলাশয়ে হঠাৎই পড়ে যায় একটি মা হাতি এবং তার ছোট শাবক। গভীর জলাশয় থেকে উঠতে না পেরে চরম বিপাকে পড়ে তারা। স্থানীয় বাসিন্দারা প্রথম এই দৃশ্য দেখতে পান এবং মুহূর্তে এলাকা জুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। খবর পাওয়া মাত্রই দুর্ঘটনাস্থলে দ্রুত পৌঁছায় বক্সা টাইগার রিজার্ভের বনকর্মী ও আধিকারিকদের উদ্ধারকারী দল।
জলাশয়ের গভীরতা এবং হাতি দুটির অবস্থানের কারণে প্রথম থেকেই চরম সতর্কতা অবলম্বন করতে হয় উদ্ধারকারী দলকে। কারণ একটু ভুল বা তাড়াহুড়ো মা ও শাবক উভয়ের জন্যই বড় বিপদের কারণ হতে পারত। দীর্ঘ ও কড়া প্রচেষ্টার পর দুপুর প্রায় ১টা নাগাদ বনকর্মীরা অত্যন্ত সুরক্ষার সঙ্গে প্রথমে মা হাতিটিকে জলাশয় থেকে ওপরে তুলে আনতে সক্ষম হন।
মা হাতি উঠে আসার পর উদ্ধার অভিযান আরও সংবেদনশীল হয়ে ওঠে, কারণ তখনও জলাশয়ের ভেতরে আটকে ছিল তার ছোট শাবকটি। সন্তানকে ছেড়ে না গিয়ে মা হাতিটি কাছেই অপেক্ষা করছিল। এরপর বনকর্মীরা সমস্ত নজর কেন্দ্র করেন শাবকটির ওপর। মা হাতি উদ্ধারের প্রায় এক ঘণ্টার ব্যবধানে, অর্থাৎ দুপুর ২টো নাগাদ সফলভাবে উদ্ধার করা হয় শাবকটিকেও। জলাশয় থেকে ডাঙ্গায় উঠেই ছোট শাবকটি সোজা তার মায়ের দিকে ছুটে যায়।
মা ও সন্তান দুজনকেই অক্ষত ও নিরাপদে উদ্ধার করতে পেরে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেন বনদফতর ও বক্সা টাইগার রিজার্ভের কর্মীরা। উপস্থিত উৎসুক জনতার ভিড় থাকলেও বনকর্মীদের তৎপরতায় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই পুরো উদ্ধার অভিযান শেষ হয়। উদ্ধার পাওয়ার পর মা হাতি ও শাবকটি নিরাপদে লাগোয়া জঙ্গলের দিকে চলে যায়।
বনাঞ্চল সংলগ্ন এলাকা হওয়ায় এই অঞ্চলে বন্যপ্রাণীর আনাগোনা নতুন নয়। তবে ভবিষ্যতে যাতে এমন জলাশয়ে পড়ে বন্যপ্রাণী বিপদে না পড়ে, সে বিষয়ে নজরদারি বাড়ানোর কথা ভাবছে বনদফতর। বনকর্মীদের এই সংবেদনশীল উদ্ধার কাজকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
