মৃত্যুর এক ঘণ্টা পর ঠিক কী হয়, কেন একা কাঁদে আত্মা?
হিন্দুধর্ম জন্মান্তরে বিশ্বাসী। সনাতন ধর্ম অনুসারে মৃত্যুতে জীবদেহই শুধু বিনষ্ট হয়ে যায়, আত্মা চিরকালীন ও অবিনশ্বর। মৃত্যু জীবনের চিরন্তন সত্য— যাঁর জন্ম হয়েছে, তাঁর মৃত্যু অনিবার্য। মৃত্যুর পর দেহ পঞ্চভূতে বিলীন হয়ে গেলেও আত্মার লয় নেই, ক্ষয় নেই। শাস্ত্রমতে আত্মা আগুনে পোড়ে না, জলে ভেজে না, কোনও অস্ত্রেও তাকে কাটা যায় না। আত্মা কেবল কর্ম অনুসারে এক দেহ থেকে অন্য দেহে প্রবেশ করে।
কিন্তু মৃত্যুর ঠিক পরপরই আত্মার সঙ্গে কী ঘটে? গরুড় পুরাণ অনুসারে, মৃত্যুর পর প্রথম এক ঘণ্টার মধ্যেই আত্মার সঙ্গে এমন কিছু ঘটনা ঘটে, যা তাকে অত্যন্ত অশান্ত ও চঞ্চল করে তোলে। শাস্ত্র অনুযায়ী সেই সাতটি ঘটনা এখানে তুলে ধরা হল।
মরদেহ ত্যাগ করার পর কিছুক্ষণের জন্য আত্মা জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। দীর্ঘ সময় কঠোর পরিশ্রমের পর মানুষ যেমন ক্লান্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়ে, জীবন ত্যাগের পর আত্মাও অনেকটা সেভাবেই ক্লান্ত হয়ে পড়ে।
মৃত্যুর পর প্রথম কিছুটা সময় আত্মা বুঝতেই পারে না যে তার সঙ্গে ঠিক কী ঘটেছে। তাই প্রথমদিকে সে এমন আচরণ করে, যেন কিছুই ঘটেনি।
মৃতদেহের আশপাশে থাকা আত্মীয়-বন্ধুদের নাম ধরে ডাকে আত্মা, তাদের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করে। কিন্তু কেউ তাকে দেখতে বা শুনতে পায় না। এই পরিস্থিতিতে প্রবল ভয় পেয়ে যায় আত্মা।
নিজের মৃত্যু হয়েছে বুঝতে পেরে প্রথমে শোকে কাতর হয়ে পড়ে আত্মা। নিজের মৃতদেহ ছেড়ে যেতে তার খুবই কষ্ট হয়, তাই বারবার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে। জাগতিক সুখ-দুঃখের বাঁধন থেকে মুক্তি পেতে তার বেশ কিছুটা সময় লাগে।
যে শরীরে আত্মা এতকাল বাস করেছে, তাকে নিজের বলে জেনেছে, সেই শরীর ছেড়ে যেতে তার অত্যন্ত কষ্ট হয়। এমনকি সে আবার দেহে প্রবেশ করারও চেষ্টা করে। কিন্তু যমদূতরা তাকে বাধা দেয়। প্রথমে কষ্ট হলেও ধীরে ধীরে আত্মা উপলব্ধি করে যে শরীর ছেড়ে যাওয়ার সময় হয়ে গিয়েছে।
শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার কিছু সময় পর আত্মা তার জীবদ্দশার সব কর্ম— ভালো ও মন্দ— মনে করতে শুরু করে। পরিবার-পরিজনকে মৃতদেহ ঘিরে কাঁদতে দেখে তাদের সঙ্গে নিজের ব্যবহারের কথাও স্মরণ হয় তার।
এরপর আত্মা যমলোকের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে। যমমার্গে পৌঁছনোর পর নিজের কর্ম অনুসারে ফল লাভ করে সে। কারও কারও মৃত্যুর পর অল্প সময়েই পুনর্জন্ম ঘটে যায়, আবার কাউকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়।
