কোচবিহার পঞ্চানন বর্মা বিশ্ববিদ্যালয়ে এবিভিপি-এআইডিএসও সংঘর্ষ
সংবাদদাতা, কোচবিহার: অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ এবং অল ইন্ডিয়া ডেমোক্রেটিক স্টুডেন্টস অর্গানাইজেশনের সমর্থকদের মধ্যে চরম হাতাহাতি ও সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় পঞ্চানন বর্মা বিশ্ববিদ্যালয়ে । পরিস্থিতি সামাল দিতে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের মূল ফটকের বাইরে বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। বুধবার বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে দুই ছাত্র সংগঠনের মধ্যে সংঘর্ষের জেরে পুরো ক্যাম্পাস জুড়ে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের দাবি-দাওয়া এবং অভ্যন্তরীণ কিছু বিষয় নিয়ে বচসার মাধ্যমেই ঘটনার সূত্রপাত। কিছুক্ষণের মধ্যেই তা দুই পক্ষের অনুগামীদের মধ্যে ধস্তাধস্তি ও হাতাহাতিতে রূপ নেয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে উঠলে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন সাধারণ পড়ুয়ারা। এবিভিপি এর জেলা নেতৃত্বের তরফে তাঁদের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। তাঁদের দাবি, এআইডিএসও বহিরাগতদের বিশ্ববিদ্যালয়ে এনে ইচ্ছাকৃতভাবে বিশৃঙ্খলা তৈরির চক্রান্ত করেছে। এবিভিপি নেতাদের আরও বিস্ফোরক অভিযোগ, ক্যাম্পাসে অশান্তি ছড়ানোর এই চক্রান্তে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের, বিশেষত উপাচার্যের প্রত্যক্ষ মদত রয়েছে।একইভাবে, ঘটনাটি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বা উপাচার্য ঠিক কী ভূমিকা নিচ্ছেন, তা নিয়েও এখনও পর্যন্ত কোনও স্পষ্ট বার্তা পাওয়া যায়নি। খবর পেয়েই দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় কোতোয়ালি থানার পুলিশ। বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ স্বায়ত্তশাসন বজায় রাখতে এবং আইন-শৃঙ্খলার অবনতি রুখতে পুলিশ বাহিনী আপাতত ক্যাম্পাসের মূল প্রবেশপথের বাইরে অবস্থান করছে। পুলিশি নজরদারির ফলে বর্তমানে নতুন করে কোনও হিংসাত্মক ঘটনা না ঘটলেও, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে ও সংলগ্ন এলাকায় থমথমে পরিবেশ বজায় রয়েছে। পুলিশ সূত্রের খবর, ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সবরকম পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে এবং অশান্তি সৃষ্টিকারীদের চিহ্নিত করতে নজরদারি চালানো হচ্ছে।
