বুধবার, ১৪ মে, ২০২৫
ব্রেকিং নিউজ
টাইগার শ্রফের উপর হামলায় ধৃত আরও ৪ আজ বিজয়া দশমী, ঘাটে ঘাটে চলছে প্রতিমা নিরঞ্জন ভারতের সঙ্গে চুক্তি অন্যরকম, জানালেন ট্রাম্প দেশজুড়ে পালিত হচ্ছে দশেরা

পলাতক মালিক ! নিউমার্কেটের ঘটনায় ফের ‘জতুগৃহ’ কলকাতা

19 August, 2026 2:21 PM Sumantra Mukherjee
শেয়ার করুন

সুনেত্রা সেনগুপ্ত :  তারাপীঠের অগ্নিকাণ্ডের রেশ এখনও কাটেনি তার মধ্যেই কলকাতার প্রাণকেন্দ্র নিউমার্কেটর হোটেলে ভয়াবহ আগুন। মঙ্গলবার গভীর রাতে নিউ মার্কেট থানা এলাকার মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি হোটেলে আগুন লাগে।মুহূর্তে ধোঁয়ায় ভরে যায় ঘর। তখন অধিকাংশ আবাসিকই ঘুমিয়ে ছিলেন। পরিস্থিতি সামলাতে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় দমকল, পুলিশ ও বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী। উদ্ধার করা হয় সকলকে। তাঁদের মধ্যে ৯ জন অচৈতন্য অবস্থায় ছিলেন। হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।

আহত হয়েছেন ছয় জন। তাঁদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সূত্রের খবর, রাত ২টোর কিছু আগে হোটেলের তিনতলায় আগুন লাগে।  প্রাথমিক ভাবে শর্ট সার্কিট থেকে অগ্নিকাণ্ড হয়ে থাকতে পারে বলে অনুমান। তবে আগুনের প্রকৃত কারণ এখনও নিশ্চিত নয়। সকালেই ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের একটি দল হোটেল চত্বরে পৌঁছে যায়। তাদের তদন্তের পর বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে। তবে হোটেলের ঘরগুলিতে বিশেষ অগ্নবিনির্বাপণ ব্যবস্থা না থাকায় দ্রুত কালো ধোঁয়ায় ভরে যায়।

বাইরে থেকে আগুনের শিখা তেমন দেখা না গেলেও গলগল করে ধোঁয়া বেরোতে দেখা যায়। আতঙ্কে আবাসিকেরা বাইরে বেরোনোর চেষ্টা করেন। কিন্তু হোটেলের ঢোকা ও বাইরে বেরোনোর পথ ছিল খুবই সরু। উপরে থেকে নামার জন্য লোহার সিঁড়ি আগুনের তাপে গরম হয়ে যাওয়ার ফলে তাঁরা হোটেলের ভিতরে থাকা লোকজন বেরতে পারেননি ঠিক মতো। পাশাপাশি মির্জা গালিফ স্ট্রিট  খুব ঘিঞ্জি ও জনবসতিপূর্ণ হওয়ায় দমকলের বড় গাড়ি ভিতরে সহজেই ঢুকতে পারে না যার ফলে উদ্ধারকাজও কঠিন হয়ে পড়ে। আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গেই রাতেই দমকলের চারটি ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পৌঁছয় বলে জানা যায়।

হোটেলটি গলির ভিতরে হওয়ায় বড় গাড়ি নিয়ে বেশি ভিতরে যাওয়া সম্ভব হয়নি। প্রথমে বাইরে থেকে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চলে। পরে কর্মীরা ভিতরে ঢুকে তল্লাশি শুরু করেন। অচৈতন্য অবস্থায় উদ্ধার করা ৯ জনেরই মৃত্যু হয় তখনই। তাঁদের মধ্যে ছ’জন পুরুষ, দু’জন মহিলা এবং একটি শিশু রয়েছে। মৃতদের মধ্যে অধিকাংশ বাংলাদেশের নাগরিকও থাকার সম্ভবনা রয়েছে। ওই এলাকায় মূলত বাংলাদেশের লোকজন এসে থাকেন ব্যবসা-বাণিজ্য ও চিকিৎসা সূত্রে।

যাঁদের মৃত্যু হয়েছে, তাঁদের একাংশ চিকিৎসার জন্যই কলকাতা এসেছিলেন। তবে প্রশাসনের তরফে মৃতদের পরিচয় নিয়ে এখনও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। চিকিৎসকদের প্রাথমিনভাবে অনুমান, অধিকাংশের মৃত্যু ধোঁয়ায় শ্বাসরোধ হয়ে থাকতে পারে। কয়েক জনের শরীরে পোড়ার চিহ্নও রয়েছে। তবে মৃত্যুর সঠিক কারণ ময়নাতদন্তের পরই নিশ্চিত হবে। আরও কয়েক জন অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। চিকিৎসা চলছে বেশ কয়েকজনের। ঘটনার পর হোটেলটি ঘিরে ফেলে পুলিশ।

ম্যানেজারকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। হোটেল মালিকের এখনও খোঁজ মেলেনি। মাত্র দু’দিন আগে তারাপীঠের একটি হোটেলে আগুনে ৯ জনের মৃত্যু হয়েছিল। সেই ঘটনার পরেই হোটেলগুলির অগ্নিনিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল এবং ১৫টি লাইসেন্সবিহীন হোটেল বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয় প্রশাসন। তার পরেই কলকাতার হোটেলে একই ভাবে প্রাণহানি নতুন করে প্রশ্ন তুলল অতিথিদের নিরাপত্তা, অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা এবং জরুরি বেরোনোর পথ নিয়ে। নিউ মার্কেটের মির্জা গালিব স্ট্রিটের হোটেলের আগুনে চলে গেল ৯টি তরতাজা প্রাণ। জখম হয়ে হাসপাতালে ভর্তি অনেকে।

পাঁচতলা ওই বহুতলের প্রত্যেকটি তলাতেই কার্যত ভয়াবহ পরিস্থিতি। হোটেলের আবাসিকদের অভিযোগ, সেখানে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ছিল না। ফায়ার অ্যালার্ম বাজেনি। ফলে আবাসিকরা টের পেতেই পেরিয়ে গিয়েছিল অনেকটা সময়। উল্লেখ্য, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আহত ৬ জন। কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে চিকিৎসা চলছে তাঁদের। হোটেল মালিকের খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ। তবে প্রশাসন ও পুরসভার কোন কোন নিয়ম না মেনে কী ভাবে এতদিন হোটেল গুলি চলছিল তা নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন।

সব থেকে বড় কথা ওই বহুতলে কোনও অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থাও ছিল না! ঘটনার খবর পেয়ে আজ, বুধবার সকালে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল, শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়, দমকল প্রতিমন্ত্রী কৌশিক চৌধুরী। উল্লেখ্য, নিউমার্কেটে দমকলের অফিসের পাশেই দাঁড়িয়ে একাধিক হোটেল। সেখানেই রয়েছে হোটেল শিখা ইন। কলকাতায় কাজে আসা বহু মানুষ সেখানে আশ্রয় নেন। আর সেখানে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ছিল না,বাজেনি ফায়ার অ্যালার্ম ও আর সেই কারণেই এতটা ভয়ংকর পরিস্থিতি তৈরি হলও আবারও।

প্রতিবেদন

Sumantra Mukherjee