বুধবার, ১৪ মে, ২০২৫
ব্রেকিং নিউজ
নিউ ফারাক্কায় ধস, বাতিল উত্তরবঙ্গগামী সব ট্রেন নিউটাউনে উত্তম কুমার ফিল্ম সেন্টারের শিলান্য়াস মুখ্য়মন্ত্রীর নেপালে ৯ দিন পর সুড়ঙ্গ থেকে উদ্ধার ২ শ্রমিক অভিষেকের ক্য়ামাক স্ট্রিটের অফিস খালির নির্দেশ

ভিক্ষুকদের তথ্য থাকছে না জনগণনায়

25 August, 2026 11:31 AM Lopa Bhowmik
শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিনিধি:‌ বদলে যাচ্ছে জনগণনার রীতি। এই প্রথম ভিক্ষুকদের অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে না আদমশুমারিতে। শুরু থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত জনগণনার সময় প্রশ্নপত্রে রাখা থাকত একটি বিশেষ শ্রেণি— ‘বেগার্স অ্যান্ড ভ্যাগ্রান্টস’। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের যে সব মানুষজন নিজেদের ভিখারি বলে চিহ্নিত করতেন, তাদের নাম উল্লেখ করা হতো এই তালিকায়। এই শ্রেণির সংজ্ঞায় বলা হতো, যে সমস্ত মানুষ কোনও পেশার সঙ্গে যুক্ত নন এবং দেশের আর্থিক লেনদেনের অংশ নন তাঁদেরই ভিখারি হিসাবে চিহ্নিত করা হবে। কিন্তু এবারের জনগণনায় এই শ্রেণিটি কার্যত বিলুপ্ত করে দেওয়া হয়েছে।
১৯৫১ সালে স্বাধীন ভারতের প্রথম আদমশুমারি হয়। তারপর থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত জনগণনার সময়ে ভিখারিদের জন্য আলাদা শ্রেণি বরাদ্দ ছিল। কিন্তু এবার সেই জায়গায় আনা হয়েছে ‘‌আদার্স’‌ শ্রেণি। এই শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত হবেন ছাত্রছাত্রী, সংসারের দেখভাল করা ব্যক্তি, অবসরপ্রাপ্ত কর্মীরা। কিন্তু এই তালিকার মধ্যে দিয়ে কারা ভিক্ষাবৃত্তির সঙ্গে যুক্ত তা বোঝার কোনও উপায় থাকছে না।
সরকারের এরকম সিদ্ধান্ত নেওয়ার পেছনে যে কারণটি রয়েছে বলে জানা যাচ্ছে তা হল, ২০১১ সালে হওয়া স্বাধীন ভারতের সপ্তম জনগণনায় দেখা গিয়েছিল দেশের মোট জনসংখ্যার মাত্র ৩ লক্ষ ৮০ হাজার লোক নিজদের ভিক্ষুক বলে পরিচয় দিয়েছিলেন। যেখানে সে সময় ভারতের জনসংখ্যা ছিল প্রায় ১২১ কোটি। মনে করা হচ্ছে, অনেকেই খাতায়কলমে নিজেকে ভিক্ষুক হিসেবে প্রকাশ করতে চাননি। সে কারণেই দেশের মোট ভিক্ষুকের সঠিক সংখ্যাও উঠে আসেনি জনগণনায়। এবার এরকম ব্যক্তিদের রাখা হচ্ছে অন্যান্য বা ‘‌আদার্স’‌ তালিকায়। সেক্ষেত্রে উপার্জনহীনদের মধ্যেই ঢুকে পড়বেন ভিখারিরাও।
এবার জনগণনার তথ্য সংগ্রহে দিতে হবে মোট ৪০টি প্রশ্নের উত্তর। তালিকায় থাকছে ধর্ম থেকে শুরু করে জাতিগত পরিচয়, কোভিড টিকা নেওয়া হয়েছে কি না, জ্বালানি থেকে পানীয় জলের ঠিকঠাক ব্যবস্থা আছে কি না, কী ধরনের খাদ্যশস্য পরিবারে আনা হয়, শৌচাগার, জল নিষ্কাশনের সুবিধা কেমন, ঘরের মেঝে কী দিয়ে তৈরি, বাড়ির নম্বর, পরিবারের বিবরণ ইত্যাদি। দিতে হবে ফোন নম্বর, আধার, পাসপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্স, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নম্বরও।

প্রতিবেদন

Lopa Bhowmik