Premier League: ৩১ সেকেন্ডের ঝড় ও রক্ষণের শঙ্কা নিয়ে চেলসিতে অলন্সো-যুগের সূচনা
লন্ডন: ৩১ সেকেন্ড! ঘড়ির কাঁটা পুরো এক চক্কর সম্পন্ন করার আগেই উল্লাসে ফাটল ক্রেভেন কটেজের অ্যাওয়ে গ্যালারি। কোল পালমারের মাপা থ্রু-পাস থেকে ফুলহ্যামের ফাঁদ গলে বের্নড লেনোকে পরাস্ত করলেন জোয়াও পেদ্রো। নতুন মরশুম, নতুন কোচ, আর প্রথম মিনিটেই বার্তা—চেলসিতে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়ে গেল ‘জাবি অলন্সো যুগ’।
তবে এই জয় মসৃণ কোনো চিত্রনাট্য ছিল না। ৫ গোলের তীব্র উত্তেজনাকর থ্রিলারে ফুলহ্যামকে ৩-২ গোলে হারিয়ে শুভসূচনা করলেও, তিন পয়েন্টের সাথে একঝাঁক ট্যাকটিক্যাল প্রশ্নও সঙ্গে নিয়ে ফিরল ব্লুজরা।
অলন্সোর চেলসিতে সবচেয়ে বড় চমক ছিল তার ৩-৪-৩ সিস্টেম। কিন্তু ম্যাচের ২৩ মিনিটে ফুলহ্যামের জোশ কিং সমতা ফেরাতেই বোঝা যায়, এই নতুন কাঠামোর সাথে চেলসির রক্ষণভাগ এখনও পুরোপুরি খাপ খাইয়ে নিতে পারেনি।
আরও পড়ুন: Premier League: হালের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের নতুন মরশুম শুরু
তবু আক্রমণাত্মক ফুটবলের তেজ কমেনি। ৪১ মিনিটে ম্যাক্সেন্স লাক্রোয়ার তৈরি করা সুযোগ কাজে লাগিয়ে চেলসির জার্সিতে নিজের অভিষেক স্মরণীয় করে রাখেন নতুন সাইনিং মর্গ্যান রজার্স। বিরতির পর ৪৮ মিনিটে রজার্স ও পেদ্রোর কম্বিনেশন থেকে স্ফটিক-স্বচ্ছ ফিনিশিংয়ে স্কোরলাইন ৩-১ করেন কোল পালমার। পেদ্রো-রজার্স-পালমার—তিন ফরোয়ার্ডের এই ত্রয়ী যেন অলন্সোর হাই-ইনটেনসিটি ফুটবলের প্রধান চালিকাশক্তি হয়ে উঠেছে।
কিন্তু জাবি-বলের আলো যতটা উজ্জ্বল, এর ছায়াও ততটাই গাঢ়। ৫৪ মিনিটে চেলসি গোলরক্ষক রবার্ট সানচেজের ভুল সিদ্ধান্তে সুযোগ বুঝে ব্যবধান ২-৩ করেন গনসালো গার্সিয়া। এর পরপরই দ্রুত হলুদ কার্ডে জর্জরিত ডিফেন্স লাইন নিয়ে শেষ ৩০ মিনিট কঠিন চাপে কাটাতে হয় চেলসিকে।
ক্রেভেন কটেজ থেকে শেষ পর্যন্ত পূর্ণ পয়েন্ট নিয়ে ফিরলেও অলন্সোর জন্য পাঠ পরিষ্কার—আক্রমণভাগে গোল করার বিস্ফোরক ক্ষমতা রয়েছে, কিন্তু খেতাবের লড়াইয়ে টিকে থাকতে হলে এই ডিফেন্সিভ ঝুঁকি ও ভুলগুলো দ্রুত শুধরে নিতে হবে।
