বুধবার, ১৪ মে, ২০২৫
ব্রেকিং নিউজ
টাইগার শ্রফের উপর হামলায় ধৃত আরও ৪ আজ বিজয়া দশমী, ঘাটে ঘাটে চলছে প্রতিমা নিরঞ্জন ভারতের সঙ্গে চুক্তি অন্যরকম, জানালেন ট্রাম্প দেশজুড়ে পালিত হচ্ছে দশেরা

পার্ক স্ট্রিটের ঘটনায় কার্যত সুর নরম অগ্নিমিত্রার !

24 August, 2026 3:19 PM Sumantra Mukherjee
শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদন : কলকাতার পার্ক স্ট্রিট এলাকায় ফুটপাত দখলমুক্ত করার অভিযানে এক ফুটপাতবাসী মহিলার সঙ্গে রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের আচরণকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কে অবশেষে কিছুটা সুর নরম করলেন মন্ত্রী।

সমাজমাধ্যমে তাঁর বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা এবং বিরোধীদের লাগাতার কটাক্ষের মধ্যেই সোমবার নিজের অবস্থান জানিয়ে একটি ভিডিওবার্তা নিজের স্যোশাল মিডিয়ায় পোস্ট করেন তিনি। সেই ভিডিওতে অগ্নিমিত্রা কার্যত স্বীকার করে নিলেন, ওই মহিলাকে আরও মানবিকভাবে বিষয়টি বোঝানো উচিত ছিল তাঁর।

ঘটনার সূত্রপাত শনিবার। পার্ক স্ট্রিট-ফ্রি স্কুল স্ট্রিট এলাকায় ফুটপাত দখলমুক্ত করার কাজ পরিদর্শনে গিয়েছিলেন অগ্নিমিত্রা পাল। সেখানে এক ফুটপাতবাসী বৃদ্ধাকে শিশুর জন্য স্টোভে দুধ গরম করতে দেখেন তিনি। ব্যস্ত রাস্তার ধারে আগুন জ্বালানো এবং শিশুটির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মন্ত্রী তাঁকে তীব্র ভর্ৎসনা করেন। সেই ঘটনার ভিডিয়ো সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই শুরু হয় প্রবল সমালোচনা। মন্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে, ফুটপাত দখলমুক্ত করার নামে একজন অসহায় মহিলার সঙ্গে এই রকম আচরণ ছিল অত্যন্ত অসংবেদনশীল।

তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষও ঘটনাটির সমালোচনা করে ওই পরিবারের পাশে দাঁড়ান। তিনি পার্ক স্ট্রিট থানায় গিয়ে পরিবারটির জন্য আশ্রয়ের ব্যবস্থা করার দাবি জানান। বিরোধীদের চাপ ও সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিয়ো ঘিরে সমালোচনা বাড়তে থাকায় সোমবার নিজের বক্তব্যে তিনি কার্যত স্বীকার করে নিলেন, মহিলাকে যে ভাবে কথা বলা হয়েছিল, তা আরও সংযত হওয়া উচিত ছিল। যদিও একই সঙ্গে নিজের অবস্থানও স্পষ্ট করে তাঁর দাবি, ফুটপাতে আগুন জ্বালিয়ে রান্না বা শিশুর দুধ গরম করার বিষয়টি বিপজ্জনক এবং প্রশাসনের মূল লক্ষ্য ছিল দুর্ঘটনা ঠেকানো।

বিতর্কের জবাব দিতে গিয়ে অগ্নিমিত্রা বলেন, ‘‘আমি হয়তো চিৎকার করে বলেছি, সেটা হয়তো আরেকটু নরম করে, আরেকটু বুঝিয়ে বলা উচিত ছিল।” তাঁর এই বক্তব্যকেই অনেকেই ঘটনার জন্য কার্যত ক্ষমা চাওয়ার সুর হিসেবে দেখছেন। তবে মন্ত্রী স্পষ্ট করে দিয়েছেন, শিশুর দুধ ফোটানো বন্ধ করাই তাঁর উদ্দেশ্য ছিল না। তাঁর দাবি, ব্যস্ত রাস্তার একেবারে পাশে প্রায় ছ মাসের শিশুকে হামাগুড়ি দিতে দেখা যাচ্ছিল। তার কাছেই জ্বলছিল কেরোসিনের স্টোভ। যে কোনও মুহূর্তে দুর্ঘটনা ঘটতে পারত বলে তাঁর আশঙ্কা কোনও শিশুর মুখের দুধ কেড়ে নেওয়া হয়নি। সরে যেতে বলা হয়েছে।

একই সঙ্গে তিনি ফুটপাতের ব্যবহার নিয়েও নিজের অবস্থান বজায় রেখেছেন। তাঁর কথায়, ফুটপাত গরিব-বড়লোক কারও ব্যক্তিগত জায়গা নয়, সেটি পথচারীদের জন্য। ফুটপাত দখল, বেআইনি পার্কিং এবং সেখানে বসবাস বন্ধ করার বিষয়ে সরকার কঠোর থাকবে বলেও জানিয়েছেন তিনি। তবে বিতর্কের মাঝেই প্রাক্তন তৃণমূল সরকারকেও নিশানা করেছেন মন্ত্রী।

তাঁর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ফুটপাত দখল, অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তিনি প্রশ্ন তোলেন, যারা এত দিন ক্ষমতায় ছিল, তারা যদি এতটাই মানবিক হয়ে থাকে, তা হলে ওই পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে এক বাটি দুধ নিয়ে গেল না কেন? বিরোধীরা শুধুমাত্র রাজনৈতিক স্বার্থে বিষয়টিকে ব্যবহার করছে বলেও অভিযোগ তাঁর।

এদিকে ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপও বাড়ছে। অগ্নিমিত্রাও অবশ্য পুনর্বাসনের প্রয়োজনীয়তা পুরোপুরি অস্বীকার করেননি। তাঁর বক্তব্য, দীর্ঘদিন ফুটপাত বা বস্তিতে বসবাস করা দরিদ্র পরিবারগুলির জন্য বিকল্প ব্যবস্থা ও আশ্রয়ের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা দরকার। একই সঙ্গে কলকাতার রাস্তা, নিকাশি ও পরিকাঠামোর উন্নয়ন করে শহরকে নিরাপদ ও বিনিয়োগবান্ধব করার কথাও বলেছেন তিনি। মন্ত্রীর বক্তব্যে সুর নরম হলেও ফুটপাত দখলমুক্ত করার নীতিতে যে কোনও আপস নেই, তা স্পষ্ট জানিয়েছেন তিনি।

প্রতিবেদন

Sumantra Mukherjee