ভারী বৃষ্টিতে জলমগ্ন দিল্লি-NCR, বিমান পরিষেবা বিঘ্নিত , যানজটে হাঁসফাঁস রাজধানী
নয়াদিল্লি: সকাল হতেই যেন নেমে এল রাতের আঁধার!
কালো মেঘে ঢাকল রাজধানী দিল্লির আকাশ। আর তার পর শুরু হল মুষলধারে বৃষ্টি। প্রবল বৃষ্টির জেরে সপ্তাহের শুরুতেই সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত হয়ে পড়ল দিল্লি ও সংলগ্ন এনসিআর (NCR) অঞ্চল। একদিকে বৃষ্টির জলে জলমগ্ন প্রধান সড়কগুলি, অন্যদিকে আকাশসীমায় দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ায় ও প্রবল ঝোড়ো হাওয়ার কারণে ব্যাহত হয়েছে বিমান চলাচল। দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সূত্রে খবর, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে ইতিমধ্যেই অন্তত ১৪টি বিমানের রুট পরিবর্তন (Divert) করা হয়েছে।
ভারতীয় আবহাওয়া দপ্তর (IMD)-এর তরফে দিল্লি ও পার্শ্ববর্তী একাধিক জেলার জন্য লাল সতর্কতা (Red Alert) এবং কিছু অংশে হলুদ সতর্কতা (Yellow Alert) জারি করা হয়েছে। সকালের এই দুর্যোগে একদিকে যেমন তীব্র যানজটে স্থবির হয়ে পড়েছে যান চলাচল, তেমনই চরম দুর্ভোগে পড়েছেন অফিসযাত্রীরা।
বিমান পরিষেবা বিপর্যস্ত, বিমান সংস্থাগুলির অ্যাডভাইজরি
আকাশ মেঘলা থাকার পাশাপাশি ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে বইতে থাকা ঝোড়ো হাওয়ার কারণে বিমানবন্দরে বিমান ওঠানামা চরম ঝুঁকির হয়ে ওঠে। দিল্লি বিমানবন্দরে অবতরণ করতে না পেরে ১৪টি বিমান বাধ্য হয়ে নিকটবর্তী অন্য বিমানবন্দরে ডাইভার্ট করা হয়।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশের শীর্ষস্থানীয় বিমান সংস্থা—এয়ার ইন্ডিয়া, ইন্ডিগো এবং স্পাইসজেট যাত্রী সাধারণের জন্য বিশেষ নির্দেশিকা জারি করেছে।
-
এয়ার ইন্ডিয়া তাদের বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, “দিল্লির প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে ফ্লাইট চলাচলে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।”
-
ইন্ডিগো জানিয়েছে, “খারাপ আবহাওয়ার কারণে আমাদের অনেক ফ্লাইটের সময়সূচি পরিবর্তিত হয়েছে। আমরা পরিস্থিতির ওপর প্রতিনিয়ত নজর রাখছি।”
সবকটি বিমান সংস্থাই যাত্রীদের বাড়ি থেকে বেরোনোর আগে নিজ নিজ ফ্লাইটের স্ট্যাটাস পরীক্ষা করে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। পাশাপাশি, সড়কপথে জল জমে থাকায় ধীরগতির ট্রাফিকের কথা মাথায় রেখে অতিরিক্ত সময় হাতে নিয়ে বিমানবন্দরে রওনা হতে বলা হয়েছে।
জলে ভাসছে রাস্তা, থমকে গেল ট্রাফিক
দক্ষিণ দিল্লি, সেন্ট্রাল দিল্লি, নয়ডা, গুরুগ্রাম ও গাজিয়াবাদ-সহ এনসিআর-এর বিস্তীর্ণ অঞ্চলে একটানা ভারী বর্ষণে জল জমে গিয়েছে। নয়ডা এবং গুরগ্রামগামী প্রধান হাইওয়ে গুলোতে গাড়ি চলেছে একেবারে গতি কমিয়ে। সামাজিক মাধ্যমে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন ক্ষুব্ধ সাধারণ মানুষ।
নয়ডামুখী একাধিক অফিসযাত্রী জানান, সাধারণ দিনে যে পথ অতিক্রম করতে ৩০ থেকে ৪০ মিনিট সময় লাগে, সোমবার বৃষ্টির কারণে সেই একই দূরত্ব পার করতে দেড় ঘণ্টারও বেশি সময় লেগে গিয়েছে। গাজিয়াবাদ এবং শাহদরা অঞ্চলেও একই ছবি দেখা গিয়েছে—কোথাও হাঁটু জল, তো কোথাও অচল হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে একের পর এক যানবাহন।
কেন এই অকাল ঝুম বৃষ্টি?
দিল্লিতে হঠাৎ কেন এই তাণ্ডব? উত্তর দিয়েছে ভারতের আবহাওয়া পূর্বাভাস সংস্থাগুলো। তাদের মতে, মূলত তিনটি কারণের মিশ্রণে এই আবহাওয়া তৈরি হয়েছে: এক, বর্তমানে একটি সক্রিয় বর্ষা রেখা (Monsoon Trough) দিল্লির খুব কাছ দিয়ে অতিক্রম করছে। দুই, সংলগ্ন উত্তর প্রদেশের উপর সৃষ্টি হওয়া একটি নিম্নচাপ অঞ্চল। তিন বঙ্গোপসাগর থেকে লাগাতার আসা জলীয় বাষ্পপূর্ণ বাতাস।
এই শক্তিশালী আবহাওয়া ব্যবস্থার প্রভাবেই সমগ্র দিল্লি, নয়ডা, গাজিয়াবাদ ও সংলগ্ন এলাকায় টানা ভারী থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে। বৃষ্টির হাত ধরে তাপমাত্রা অনেকটাই নেমে গিয়েছে, যা গত কয়েকদিনের আর্দ্র গরমের হাত থেকে কিছুটা হলেও স্বস্তি দিয়েছে নগরবাসীকে।
বাতাসের মানে উন্নতি (AQI Report)
বৃষ্টির এই তণ্ডবলীলার মাঝে একটাই স্বস্তির বার্তা নিয়ে এসেছে দিল্লির বাতাস। গত দুই দিনের টানা বৃষ্টিতে বাতাসের ধূলিকণা ধুয়ে মুছে পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে। কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীর একাধিক স্টেশনে বায়ুসূচক বা AQI (Air Quality Index) ১০০-র নিচে বা তার কাছাকাছি নেমে এসেছে।
