বুধবার, ১৪ মে, ২০২৫
ব্রেকিং নিউজ
নিউ ফারাক্কায় ধস, বাতিল উত্তরবঙ্গগামী সব ট্রেন নিউটাউনে উত্তম কুমার ফিল্ম সেন্টারের শিলান্য়াস মুখ্য়মন্ত্রীর নেপালে ৯ দিন পর সুড়ঙ্গ থেকে উদ্ধার ২ শ্রমিক অভিষেকের ক্য়ামাক স্ট্রিটের অফিস খালির নির্দেশ

টানা বৃষ্টিতে কার্যত বানভাসী মোদীর বারাণসী !

22 August, 2026 7:36 PM Sumantra Mukherjee
শেয়ার করুন

বারাণসী : বারাণসীতে ক্রমশ বাড়ছে গঙ্গার জল।

গত বছরের পর ফের গঙ্গার জলস্তর বৃদ্ধিতে প্লাবনের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর লোকসভা কেন্দ্র বারাণসীতে। টানা ভারী বৃষ্টির জেরে গঙ্গার জল বাড়তে থাকায় শহরের একাধিক ঐতিহাসিক ঘাটের নিচু অংশ জলের তলায় চলে যায় বারংবার।এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়ে মণিকর্ণিকা ঘাটে। একটানা বৃষ্টি এবং উজান থেকে নেমে আসা জলের জেরে দ্রুত বাড়ছে নদীর জলস্তর।এই পরিস্থিতিতে দুর্ঘটনা এড়াতে বারাণসীর গঙ্গায় ছোট-বড় সব ধরনের নৌকা চলাচল বন্ধ করে দিল জেলা প্রশাসন। আর জল বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গেই বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে ঘাটগুলির মধ্যে যাতায়াতের পথ।

ইতিমধ্যেই জলস্তর ৬৮.৭৪ মিটার ছাড়িয়েছে। অধিকাংশ গঙ্গার ঘাট জলের তলায়। কেন্দ্রীয় জল কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, বারাণসীতে গঙ্গার জলস্তর পৌঁছেছে ৬৮.৭৪ মিটারে। সেখানে বিপদসীমা ৭১.২৬ মিটার। অর্থাৎ, গঙ্গা এখনও বিপদসীমা থেকে প্রায় ২.৫২ মিটার নীচে রয়েছে। কিন্তু প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ২০ মিলিমিটার বা ২ সেন্টিমিটার করে জল বাড়তে থাকায় প্রশাসনের উদ্বেগ বাড়ছে।গঙ্গার জল বেড়ে যাওয়ায় নদীর ধারে বিভিন্ন ঘাটকে সংযুক্ত করা সিঁড়ি ও হাঁটার পথের বিস্তীর্ণ অংশ ডুবে গিয়েছে। ফলে এক ঘাট থেকে অন্য ঘাটে হেঁটে যাওয়াও কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

তাই প্রশাসনের নির্দেশে ছোট-বড় সমস্ত নৌকা ঘাটে বেঁধে রাখা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নৌকা চলাচল বন্ধ থাকবে।জলস্তর এবং স্রোতের গতি স্বাভাবিক হওয়ার পরেই নৌকা পরিষেবা ফের চালু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রশাসনিক আধিকারিকরা। এই সময় বারাণসীতে বিপুল সংখ্যক পুণ্যার্থীর ভিড় রয়েছে। তাঁদের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে ঘাটগুলিতে নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে।এই গতিতে জলস্তর বাড়তে থাকলে দ্রুত বিপদসীমার কাছাকাছি পৌঁছে যেতে পারে গঙ্গা। পরিস্থিতির উপর দিনরাত নজর রাখছেন প্রশাসন এবং কেন্দ্রীয় জল কমিশনের আধিকারিকরা।

দূরদর্শনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তীর্থযাত্রীদের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখেই নৌকা চলাচল স্থগিত রাখা হয়েছে।গঙ্গার জল মণিকর্ণিকা ও হরিশ্চন্দ্র ঘাটের নীচের অংশে পৌঁছে গিয়েছে। ফলে সেখানে স্বাভাবিকভাবে শেষকৃত্য সম্পন্ন করা যাচ্ছে না। মণিকর্ণিকা ঘাটে দাহকাজ উঁচু সিঁড়ি এবং নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।হরিশ্চন্দ্র ঘাটেও একই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। নিচের চাতালগুলি ডুবে যাওয়ায় উঁচু অংশ এবং ছাদের উপর শেষকৃত্যের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

জল আরও বাড়লে শেষকৃত্যের জন্য বিকল্প জায়গার প্রয়োজন হতে পারে। সেই পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখেও প্রস্তুতি নিচ্ছে প্রশাসন। বারাণসীর অন্যতম প্রধান আকর্ষণ দশাশ্বমেধ ঘাটের গঙ্গা আরতি। কিন্তু ঘাটের নীচের অংশ জলে ডুবে যাওয়ায় আরতির স্বাভাবিক আয়োজন ব্যাহত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট স্থানগুলিতে জল ঢুকে পড়ায় উঁচু এবং নিরাপদ জায়গায় সীমিত পরিসরে আরতির ব্যবস্থা করা হচ্ছে। গঙ্গার স্রোতের কাছে পুণ্যার্থী ও পর্যটকদের যেতে নিষেধ করেছে।গঙ্গার জলস্তর বাড়তে থাকায় বারাণসীর নদী-সংলগ্ন নিচু এলাকাগুলিতে বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

কয়েকটি জায়গায় জল ইতিমধ্যেই রাস্তা ও জনবসতির কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছে। আগামী দিনে বৃষ্টি চলতে থাকলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রশাসনের। তাই সম্ভাব্য ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলি চিহ্নিত করে আগাম প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় বারাণসীতে ত্রাণশিবির চালু করা হয়েছে। ত্রাণ ও উদ্ধারকাজ পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় দল প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

পরিস্থিতি গুরুতর হলে নিচু এলাকার বাসিন্দাদের এই শিবিরগুলিতে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে।বারাণসীর পুলিশ কমিশনার এবং জেলা প্রশাসনের আধিকারিকরা নৌকায় করে সম্ভাব্য বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। স্থানীয় মানুষের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের সমস্যা ও প্রয়োজন সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।

প্রতিবেদন

Sumantra Mukherjee