সলমনের অভিযোগ, শীর্ষ আদালতে ‘কালা হিরণ’
লোপামুদ্রা ভৌমিক
কৃষ্ণসার হরিণ কাণ্ড কিছুতেই পিছু ছাড়ছে না সলমন খানের। ১৯৯৮ সালে রাজস্থানে ‘হাম সাথ সাথ হ্যায়’ ছবির শুটিং চলাকালীন কৃষ্ণসার হরিণ শিকারের অভিযোগ ওঠে সলমন খানের বিরুদ্ধে। তাকে ঘিরে দীর্ঘ আইনি লড়াই বহু বছর ধরেই আলোচিত। সেই ঘটনার ছায়ায় তৈরি ছবি ‘কালা হিরণ: দ্য ব্যাটল ফর লিগ্যাসি’ নিয়ে আইনি লড়াই এবার কড়া নাড়লো সুপ্রিম কোর্টের দরজায়। কিছুদিন আগেই দিল্লি হাইকোর্ট এক অন্তর্বর্তী আদেশে জানিয়েছিল, সিনেমাটির টিজারসহ প্রচারের যাবতীয় উপকরণ যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সোশ্যাল মিডিয়া ও অন্যান্য জায়গা থেকে সরিয়ে ফেলতে হবে। সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করেই শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন ছবির প্রযোজক অমিত জানি। আদালতের বক্তব্য ছিল, ছবিটির টিজার বা পোস্টারের মতো প্রচারের উপকরণের মাধ্যমে সলমনের ব্যক্তিত্বের অধিকার লঙ্ঘিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সঙ্গে তাঁর ভাবমূর্তিও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
বিতর্ক শুরু হয় গত ১৭ জুলাই। ওইদিনই ‘কালা হিরণ: দ্য ব্যাটল ফর লিগ্যাসি’র টিজার ও পোস্টার প্রকাশ পায়। সেই সঙ্গে ইউটিউব, পডকাস্টসহ বিভিন্ন জায়গায় ছবিটির প্রচারও শুরু হয়। এরপরই ‘সল্লু’ আদালতে অভিযোগ করে জানান, তাঁর অনুমতি ছাড়াই ছবিটির প্রচার করা হচ্ছে এবং তাঁর পরিচিতি ও ব্যক্তিত্বকে বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। ভাইজানের দাবি ছিল, টিজারে ‘আয়ান খান’ নামের একটি কাল্পনিক চরিত্রকে দেখা গেছে। ওই চরিত্রের মাধ্যমে পরোক্ষভাবে তাঁকেই তুলে ধরা হয়েছে। অভিযোগ, শুধু ব্যক্তিত্বই নয়, কৃষ্ণসার হরিণ শিকার সংক্রান্ত তাঁর দীর্ঘদিনের আইনি লড়াইয়ের ইঙ্গিতও রয়েছে ছবিটিতে।
অন্যদিকে প্রযোজক আদালতে তাঁর আবেদনে জানিয়েছেন, ব্যক্তিত্বের অধিকারকে যেন ‘ব্যক্তিগত সেন্সরশিপের’ হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা না হয়। জনপ্রিয় কোনও ব্যক্তিকে ঘিরে ঘটে যাওয়া এবং বর্তমানে খবরে থাকা কোনও ঘটনা চলচ্চিত্রে তুলে ধরার পথ বন্ধ হলে তা সৃজনশীল স্বাধীনতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
‘কালা হিরণ: দ্য ব্যাটল ফর লিগ্যাসি’ ছবির মূল চরিত্রে দেখা যাবে কাশিফ ইকবাল খানকে। এছাড়াও থাকছেন ঋষভ অরোরা, নিকুঞ্জ আগরওয়াল, নরেশ গোসাইন, প্রকাশ যোশি, গোবিন্দ নামদেও, কমলেশ সাওয়ান্ত, মুকেশ তিওয়ারি প্রমুখ। পরিচালক ভরত এস শ্রীনাতে।
