‘বিপজ্জনক’ যুবভারতীতে রবিবারের মহা-ডার্বি, ভাঙা ঘাসের দগ্ধ জমিতে ইস্টবেঙ্গলের রক্তগরম বদলার ফাইনাল?
নিজস্ব প্রতিবেদন : আবার ডার্বি।
আবার এশিয়ার প্রাচীনতম ফুটবল আসরের ফাইনাল। তবে রবিবাসরীয় ডুরান্ড কাপের মেগা ফাইনালে ইস্টবেঙ্গল ও মোহনবাগান মাঠে নামার আগেই সবচেয়ে বড় ধাক্কাটা এসেছে খোদ মহা রণক্ষেত্র থেকে। যে যুবভারতীকে বলা হতো এশিয়ার ফুটবলের মক্কা, ব্রাজিলের পরিদর্শক দল তাকেই চিহ্নিত করে গিয়েছে ‘বিপজ্জনক’ হিসেবে। অসমান জমি, খানাখন্দে ভরা টার্ফ আর হাড়গোড় ভাঙার চরম ঝুঁকি—ফুটবলের ধমনীতে এমন বিষাক্ত কাঁটা পুঁতে দিয়ে ব্রাজিলের খোঁচা এখন তোলপাড় ফেলছে ফুটবল পাড়ায়। প্রশ্ন একটাই—এমন এক দগ্ধ জমিতেই কি নির্ধারিত হবে দুই প্রধানের নিয়তি?
মাঠের কঙ্কালসার চেহারা নিয়ে চরম অসন্তোষ থাকলেও, ফাইনালের আঁচে কিন্তু একবিন্দুও জল পড়েনি। এই ম্যাচ একদিকে লাল-হলুদের সামনে তিন বছর আগের হারের ক্ষত মুছে দেওয়ার রক্তগরম বদলার মঞ্চ; অন্যদিকে মোহনবাগানের সামনে নিজেদের চেনা আধিপত্য বজায় রেখে মরশুমের প্রথম ট্রফি ঘরে তোলার সুযোগ। টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচেই ইস্টবেঙ্গলকে ১-০ হারিয়ে সবুজ-মেরুন যেমন মনস্তাত্ত্বিক সুবিধায় এগিয়ে, তেমনই লাল-হলুদ শিবির প্রস্তুত সেই হারের হিসাব চুকিয়ে দিতে।
এবার দুই দলের ফাইনালের পথই ছিল রোমাঞ্চে ভরা। এসসি দিল্লিকে টাইব্রেকারে হারিয়ে ইস্টবেঙ্গল যেমন নিজেদের অস্তিত্বের জানান দিয়েছে, তেমনই নর্থইস্টের বিরুদ্ধে পেনাল্টি নাটকে জয় ছিনিয়ে ফাইনালে পা রেখেছে মোহনবাগান। সমীকরণ তাই পুরোপুরি ফিফটি-ফিফটি—একদিকে ইস্টবেঙ্গলের প্রভসুখন সিং গিল, অন্যদিকে মোহনবাগানের বিশাল কাইথ। খাঁজকাটা ঘাসের ওপর ৯০ মিনিটের নিঃশ্বাস বন্ধ লড়াই শেষে ম্যাচ যদি আবার লটারির পেনাল্টিতে গড়ায়, তবে দুই বিশ্বস্ত গ্লাভসের লড়াই-ই ট্রফির পথ ঠিক করবে।
সবুজ-মেরুনের সামনে সুযোগ নিজেদের ১৭টি ট্রফির রেকর্ডকে আঠারোয় পৌঁছে দিয়ে ডুরান্ডের ইতিহাসে ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে যাওয়ার। অন্যদিকে ইস্টবেঙ্গলের সামনে ২০০৪-এর পর খরা কাটিয়ে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের ১৬টি ট্রফির রেকর্ড স্পর্শ করার সুবর্ণ সুযোগ। ডার্বির যে স্ফুলিঙ্গ দিয়ে টুর্নামেন্টের সলতে পেকেছিল, তার পরিসমাপ্তিও হচ্ছে সেই বিধ্বংসী আগুনে। ভাঙা ঘাসের ক্ষতবিক্ষত যুবভারতীতে শেষ হাসি কে হাসবে—লাল-হলুদের রাজকীয় প্রত্যাবর্তন, নাকি সবুজ-মেরুনের অপ্রতিরোধ্য আধিপত্য? উত্তর লুকিয়ে রবিবারের সেই ফুটন্ত যুবভারতীতেই।
