বুধবার, ১৪ মে, ২০২৫
ব্রেকিং নিউজ
১০ নভেম্বর পর্যন্ত পুলিশি হেপাজতে ইন্দ্রনীল সেন লাইসেন্স ছাড়া ওড়ানো যাবে না ফানুস রঞ্জিতে জয়ের হ্যাটট্রিক বাংলার কলকাতায় উদ্ধার ১১০ কেজি নিষিদ্ধ বাজি

দুই সত্তার দ্বন্দ্বে ঘেরা অন্য প্রেমের উপাখ্যান

29 October, 2026 8:33 PM Lopa Bhowmik
শেয়ার করুন

শৌভিক সরকার

বেহালা অণুদর্শী-র নবতম প্রযোজনা ‘মীরার প্রেম’ মঞ্চস্থ হল নিরঞ্জন সদনে। দেবারতি মুখোপাধ্যায়ের গল্প অবলম্বনে, সঞ্জয় চট্টোপাধ্যায়ের লেখা একটি স্বল্প দৈর্ঘ্যের নাটক। নাট্য নির্মাণ করেছেন সুমনা চক্রবর্তী। এই নাটক সমাজের একটি বাস্তব সমস্যার, জ্বলন্ত দলিল। বর্তমান আর্থ সামাজিক পরিস্থিতির শিকার একটি দরিদ্র পরিবারের যুবতী মেয়ে কীভাবে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে, স্কিৎজোফ্রেনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে একটি ভয়াবহ অপরাধ ঘটায়— সেটিই এই নাটকের বিষয়। একটি প্রায় অচল মুদি দোকানের মালিক অভাবী বাবার একমাত্র মাতৃহারা সন্তান মীরা ওরফে কানুপ্রিয়া। দারিদ্র, তীব্র মানসিক অবসাদ, সংসার করার প্রবল ইচ্ছে আর তার পাশাপাশি নিজের জীবন সম্পর্কে হীনমন্যতা এক সাদামাটা মেয়েকে একটি কাল্পনিক প্রেমিক উপহার দিয়েছিল। এমনই তীব্র সেই কল্পনার প্রেম– যার অস্তিত্ব কেউ অস্বীকার করলে, সে যত কাছের জনই হোক না কেন, তাকেও নিষ্ঠুর ভাবে খুন করতে তার হাত কাঁপে না মেয়েটির। নিজের কল্পনার জগতে তৈরি করা প্রেমিক পার্থসারথির সঙ্গে তার মানসিক সহবাস, দাম্পত্য। বাইরের জগতের কেউ টের পায় না মীরার মনোবিকার কোন ভয়ংকর পর্যায়ে পৌঁছেছে। ইন্সপেক্টর সুরজিৎ চক্রবর্তী হাওড়া ব্রিজের মাথায় উঠে পড়া মীরার বয়ান অনুযায়ী গঙ্গার জলে ঝাঁপ দেওয়া প্রেমিক পার্থসারথির খোঁজ শুরু করেন। তদন্ত ক্রমশ জটিল আকার নেয়। মীরার হাতে আক্রান্ত হন এসআই ত্রিদিব সেন । কাল্পনিক জগতে বাস করা মীরার মধ্যে দুটি সত্তা বিদ্যমান— ভাল এবং মন্দ। মন্দ সত্তাটি তাকে ভয়ংকর অপরাধ করতে বাধ্য করে । কাল্পনিক প্রেমিককে নাকি তার বাবা অস্বীকার করেছেন, সেই অপরাধে মীরা তার বাবাকেও খুন করে। তীব্র মানসিক হতাশা একজন ভদ্রঘরের সাধারণ মেয়েকে অপরাধপ্রবণ করে দেয়। মীরার স্থান হয় জেলে ,নয় তো মানসিক চিকিৎসালয়ে। আমাদের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি এই মীরাদের পদস্খলনের জন্য অনেকটাই দায়ী।
পঞ্চান্ন মিনিটের টান টান গল্প। উত্তেজনায় ভরপুর এই নাটকটিকে পরিচালিকা সুমনা চক্রবর্তী বলিষ্ঠভাবে বেঁধেছেন। নাটকের প্রতিটি চরিত্র সু- অভিনীত। খুব স্বাভাবিক ও স্টাইলিশ অভিনয় করেছেন ইন্সপেক্টর চরিত্রে  রূপম ভট্টাচার্য। এসআই ধ্রুব মুখার্জি ও দুজন কনস্টেবলের  চরিত্রে রাজু দাস ও পাপিয়া তালুকদার বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে পেরেছেন। মীরার দ্বৈত সত্তা পার্থসারথি চরিত্রে সপ্তর্ষী ভৌমিকের শরীরী অভিনয় আকর্ষণীয়। মীরার চরিত্রে  ছিলেন পরিচালক সুমনা। একটি জটিল দ্বিমুখী চরিত্র কত সাবলীলভাবে উপস্থাপনা করা যায়,তা  সুমনা বুঝিয়ে দিলেন। নাটকের শেষ মুহূর্তে দর্শকের জন্য একটি সারপ্রাইজ অপেক্ষা করে থাকে। সেটা অপ্রকাশিত থাক। বাবলু সরকারের আলোর ব্যবহার সুন্দর। অনির্বাণ দত্তের আবহের মধ্যে অভিনবত্ব আছে। সুশান্ত চক্রবর্তী অতি অল্প জিনিস দিয়ে মঞ্চ সাজিয়ে তাক লাগিয়েছেন। বিষয় ভাবনা ও সফল মঞ্চায়নের জন্য বেহালা অণুদর্শী প্রত্যাশা বাড়িয়ে দিলো।

প্রতিবেদন

Lopa Bhowmik