বুধবার, ১৪ মে, ২০২৫
ব্রেকিং নিউজ
১০ নভেম্বর পর্যন্ত পুলিশি হেপাজতে ইন্দ্রনীল সেন লাইসেন্স ছাড়া ওড়ানো যাবে না ফানুস রঞ্জিতে জয়ের হ্যাটট্রিক বাংলার কলকাতায় উদ্ধার ১১০ কেজি নিষিদ্ধ বাজি

রামলীলা ময়দানে গণতন্ত্র বাঁচানোর লড়াই, দেশের ছাত্র, যুবদের সব সংগঠনকে এক হওয়ার বার্তা রাহুল-মমতার

29 October, 2026 8:35 PM UTSAB RC
শেয়ার করুন

সংবাদদাতা, নয়াদিল্লি: মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফা এবং নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবিতে আগামী রবিবার দিল্লির রামলীলা ময়দানে বিশাল প্রতিবাদ সমাবেশের ডাক দিয়েছে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’। এই ‘দিল্লি চলো’ অভিযানকে কেন্দ্র করে জাতীয় রাজনীতিতে উত্তাপ এখন চরমে। রাজনৈতিক মতাদর্শের ঊর্ধ্বে উঠে দেশের সমস্ত ছাত্র ও যুব সংগঠনকে এই কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার উন্মুক্ত আহ্বান জানিয়েছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী।

এক বিশেষ ভিডিওবার্তায় দেশের ছাত্র সমাজকে বার্তা দিয়ে রাহুল গান্ধী বলেন, “পুলিশ কিংবা লাঠিচার্জের ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই। বিজেপির আর এসব দমনপীড়ন চালানোর সাহস হবে না। এই মিছিল কোনো একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের নয়; এটি দেশের গণতন্ত্র বাঁচানো, ‘ভোট চুরি’ আটকানো এবং সংবিধান রক্ষার সংগ্রাম।” যারা বর্তমান সরকারের নীতি ও মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের কার্যকলাপে ক্ষুব্ধ, তাদের সকলকেই রবিবারের এই অভিযানে শামিল হওয়ার আবেদন জানান তিনি।

সাম্প্রতিক অতীতে একাধিক আন্দোলনে দিল্লি পুলিশের ভূমিকা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। আন্দোলনকারী নেতানেত্রীদের আটক করা ও বলপ্রয়োগের সমালোচনা করে রাহুল আশ্বাস দেন যে, সমস্ত ভয় কাটিয়ে সবাইকে একসঙ্গে হাঁটতে হবে। সোশ্যাল মিডিয়ায় আন্দোলন নিয়ে বার্তা দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। তিনি জানিয়েছেন, “রামলীলা ময়দানে ১ নভেম্বর ইন্ডিয়া ব্লক এক হচ্ছে। ভোট চুরির বিরুদ্ধে লড়ছে প্রত্যেক ভারতীয়। বাংলা-সহ প্রত্যেক রাজ্যে ভোটচুরির জন্য জবাব চাই, নীরবতা নয়। ইভিএম স্ক্রুটিনি হচ্ছে, ভোটারদের তথ্য নিয়ে প্রশ্নচিহ্ন আছে। ভোটার তালিকা নিয়ে সন্দেহ আছে। গণনা নিয়েও প্রশ্ন আছে। প্রত্যেক ছাত্ত, যুব, মহিলা ও কর্মী এবং নাগরিক সমাজকে বলব এই লড়াইয়ে অংশ নিন। যখন ভোট প্রশ্নের মুখে পড়ে, নীরবতা কোনও বিকল্প হতে পারে না। গণতন্ত্র বাঁচানোর জন্য, সংবিধান বাঁচানোর জন্য এক হতে হবে সবাইকে।”

অন্যদিকে, জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে সমান্তরালভাবে আন্দোলন চালিয়ে এসেছে ককরোচ জনতা পার্টিও (সিজেপি)। শুরুতে কংগ্রেসের সঙ্গে সিজেপি-র কিছুটা রাজনৈতিক দূরত্ব থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে পরিস্থিতির বদল ঘটেছে। দুই সিজেপি নেতার গ্রেপ্তারের পর রাহুল গান্ধী প্রকাশ্যে তাঁদের পাশে দাঁড়িয়ে বার্তা দিয়েছিলেন। তবে রবিবারের রামলীলা ময়দানের মঞ্চে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’-র নেতাদের পাশাপাশি ককরোচ নেতৃত্বের উপস্থিতি থাকবে কি না, তা নিয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো বক্তব্য মেলেনি।

রবিবারের এই সমাবেশকে কেন্দ্র করে রাজধানীতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হচ্ছে। সমস্ত ছাত্র সংগঠন রাহুলের এই আহ্বানে সাড়া দিয়ে কতটা সক্রিয়ভাবে রাজপথে নেমে আসে, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।

প্রতিবেদন

UTSAB RC