বুধবার, ১৪ মে, ২০২৫
ব্রেকিং নিউজ
১০ নভেম্বর পর্যন্ত পুলিশি হেপাজতে ইন্দ্রনীল সেন লাইসেন্স ছাড়া ওড়ানো যাবে না ফানুস রঞ্জিতে জয়ের হ্যাটট্রিক বাংলার কলকাতায় উদ্ধার ১১০ কেজি নিষিদ্ধ বাজি

প্রাক্তন মন্ত্রী থেকে প্রাক্তন কাউন্সিলর: পরিবর্তনের পাঁচ মাসে জেল-হেপাজতে তৃণমূল জমানার একঝাঁক হেভিওয়েট

29 October, 2026 3:02 PM UTSAB RC
শেয়ার করুন

কলকাতা: ক্ষমতা বদলের পাঁচ মাসের মাথায় বঙ্গ-রাজনীতির ছবিটা পুরো উল্টে গিয়েছে। যাঁরা এক সময় সরকারে বা পুরসভায় দাপট দেখিয়েছেন, তাঁদের একাংশ এখন আদালত আর সংশোধনাগারের চক্করে। বুধবার প্রাক্তন পর্যটনমন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের গ্রেপ্তারির পর প্রশ্ন উঠছে, তৃণমূল জমানার হেভিওয়েটদের মধ্যে ঠিক কারা এখন জেলে, আর কোন কোন মামলায়?

সবচেয়ে বেশি দিন ধরে হেপাজতে আছেন প্রাক্তন দমকলমন্ত্রী সুজিত বসু। পুরসভা নিয়োগ দুর্নীতিতে ১১ মে তাঁকে গ্রেপ্তার করে ইডি। অভিযোগ, দক্ষিণ দমদম পুরসভায় প্রায় ১৫০ জনের চাকরির সুপারিশ করে তিনি টাকা নিয়েছেন। আর্থিক তছরূপির আইনে গ্রেপ্তার হওয়ায় কলকাতা হাইকোর্ট তাঁর জামিনের আবেদন খারিজ করেছে। ফলে এ বছর পুজোও তাঁর কেটেছে জেলেই।

কোচবিহারের প্রাক্তন উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী উদয়ন গুহের বিরুদ্ধে মামলার সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার অর্থ নিয়ে প্রতারণা, বিশ্বাসভঙ্গ ও ষড়যন্ত্রের অভিযোগে জুনে তিনি গ্রেপ্তার হন। এরপর যোগ হয় বিল্ডিং প্ল্যান পাশ জালিয়াতির মামলা। জুলাইয়ের শেষে তাঁর বিরুদ্ধে চলা পাঁচটি মামলাতেই জামিনের আবেদন নাকচ হয়। বালুরঘাট সংশোধনাগারে জেলের ঘানি টানতে হচ্ছে তৃণমূলের এই মন্ত্রীকে। অক্টোবরে দিনহাটার বর্তমান বিধায়ক অজয় রায়ের অভিযোগের ভিত্তিতে আরেকটি মামলায় আদালত তাঁকে তিন দিনের পুলিশ হেপাজতে পাঠায়।

প্রাক্তন পরিবহণ প্রতিমন্ত্রী দিলীপ মণ্ডলকে মে মাসের শেষে পুরীর হোটেল থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাঁর বিরুদ্ধে হুমকি ও গোলমাল পাকানোর অভিযোগে একাধিক জামিন-অযোগ্য ধারায় মামলা হয়েছে। আগস্টের এক রিপোর্ট অনুযায়ী তিনি মে মাস থেকেই জেলে।

মন্ত্রী না হলেও তৃণমূলের ক্ষমতার অন্দরমহলে বিধাননগর-রাজারহাট এলাকায় বেশ প্রভাবশালী নাম দেবরাজ চক্রবর্তী। তিনি বিধাননগর পুরনিগমের প্রাক্তন মেয়র-পারিষদ সদস্য, আর সংগীতশিল্পী ও প্রাক্তন বিধায়ক অদিতি মুন্সির স্বামী। তাঁর বিরুদ্ধে বাগুইআটি থানায় এক প্রোমোটার ৩০ লক্ষ টাকা তোলাবাজির অভিযোগ দায়ের করেন, আর প্রোমোটার ৫ লক্ষ টাকা দিয়েওছিলেন। এর পাশাপাশি রয়েছে আয়-বহির্ভূত সম্পত্তির মামলা। হাইকোর্ট তাঁর আগাম জামিন খারিজ করার পর তিনি গা-ঢাকা দেন, আর ১ জুলাই রাতে স্পেশাল টাস্ক ফোর্স পুরুলিয়া থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে। রাজ্যের আইনজীবী হাইকোর্টে দাবি করেছিলেন, দেবরাজ ও অদিতির সম্পত্তি ১০০ কোটি টাকার বেশি, যা তাঁদের ঘোষিত আয়ের অনেক গুণ। ইডিও তাঁর বিরুদ্ধে আর্থিক তছরূপির তদন্তের জন্য ইসিআইআর দায়ের করেছে। ৬ আগস্ট আয়-বহির্ভূত সম্পত্তির মামলায় চার্জশিট জমা পড়ে, যেখানে ন্যায় সংহিতার ১১১ ধারা যোগ হয়। ওই দিনই জেলা আদালত তাঁর জামিন খারিজ করে।

শেষ নাম ইন্দ্রনীল সেনের। দুর্গাপুজোর প্রিভিউ টিকিট ও পাস বিক্রিতে প্রতারণার অভিযোগে বউবাজার থানায দায়ের করা মামলায় কলকাতা হাইকোর্ট ১৫ অক্টোবর তাঁর আগাম জামিন খারিজ করে। এরপর ইডি দপ্তরে জিজ্ঞাসাবাদের পর বুধবার সন্ধ্যায় কলকাতা পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে। বৃহস্পতিবার তাঁকে আদালতে তোলা হবে, পুলিশ হেফাজত চাওয়া হবে। অভিযোগ, তাঁর স্ত্রীর সংস্থা ‘মাসআর্ট’-এর মাধ্যমে ইউনেস্কোর নাম ব্যবহার করে বিপুল টাকার পাস বিক্রি হয়েছে। সেন দম্পতি অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

প্রতিবেদন

UTSAB RC