বুধবার, ১৪ মে, ২০২৫
ব্রেকিং নিউজ
সামশেরগঞ্জে বিজেপি কর্মী খুনের ঘটনায় অভিযুক্ত এনকাউন্টার গাইঘাটা ধর্ষণ কাণ্ডে এনকাউন্টার করে অভিযুক্তের মৃত্য়ু সরশুনা কাণ্ডে অভিযুক্তদের নিয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ একই দিনে জোড়া এনকাউন্টার রাজ্য়ে

ফলো-অন করানোর সুযোগ না নিয়েও কেরল বধ, রঞ্জিতে জয়ের হ্যাটট্রিক বাংলার

29 October, 2026 1:48 PM UTSAB RC
শেয়ার করুন

মুম্বই: ২০৯ রানের লিড হাতে ছিল। ফলো অন করানোর সুযোগও ছিল। তবু সহজ রাস্তায় হাঁটেনি বাংলা। বোনাস-সহ সাত পয়েন্টের হাতছানি উপেক্ষা করে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন কোচ লক্ষ্মীরতন শুক্লা। সমালোচনার জায়গা ছিল, প্রশ্নও উঠেছিল। কিন্তু চতুর্থ দিনের শেষে উত্তর দিয়ে দিল মাঠের পারফরম্যান্সই। কেরলকে ২৮৭ রানে হারিয়ে রনজি ট্রফিতে টানা তৃতীয় জয় তুলে নিল বঙ্গ ব্রিগেড।

তৃতীয় দিনের শেষে কোচ লক্ষ্মীরতন জানান, তীব্র গরম ও আর্দ্রতার কথা ভেবেই ঝুঁকি নেননি তাঁরা। তাঁর কথায়, “ফলো অন করানোর সুযোগ ছিল। কিন্তু তীব্র গরমের কথা মাথায় রেখেই আমরা নিজেরা ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নিই। এখানে গরমের পাশাপাশি আর্দ্রতাও প্রচণ্ড। বোলাররা ক্লান্ত হয়ে পড়ছিল। মূলত সেই কারণেই আমরা আগে ব্যাট করতে চেয়েছিলাম। পিচে বল খুব বেশি ঘুরছে, এমনটা বলা যায় না। তবে চতুর্থ ইনিংসে ব্যাট করা সব সময়ই ঝুঁকির।” তাঁর কথা যে অক্ষরে অক্ষরে ঠিক, তা বোঝা গেল ম্যাচের ফলে।

ব্যাট হাতে শাহবাজ আহমেদের দুরন্ত পারফরম্যান্স এবং বল হাতে প্রদীপ্ত প্রামাণিকের বিধ্বংসী স্পেল বাংলার জয়ের ভিত গড়ে দেয়। প্রথম ইনিংসে শাহবাজ করেন ২০৩ বলে ১২১ রান। অঙ্কুর পালের ব্যাট থেকে আসে ৮০ বলে ৬৬, সুমন্ত গুপ্তের ৯৫ বলে ৪৯। তাঁদের ভর করেই সাড়ে ৩৫০ রান তোলে বাংলা।

জবাবে প্রথম ইনিংসে মাত্র ১৪১ রানে গুটিয়ে যায় কেরল। দ্বিতীয় দিনের শেষে তারা হারিয়েছিল ছ’উইকেট। তৃতীয় দিন সকালে দ্রুত বাকি চার উইকেট হারিয়ে অলআউট হয় শচীন বেবির দল। প্রদীপ্ত প্রামাণিক ১৬.৩ ওভারে ৪৪ রান দিয়ে নেন ৪ উইকেট। মহম্মদ শামি পান ৩টি, শাহবাজ ২টি।

দ্বিতীয় ইনিংসে দ্রুত রান তোলার লক্ষ্যে ব্যাট করে বাংলা। অধিনায়ক অভিমন্যু ঈশ্বরণ করেন সর্বোচ্চ ৪৭। শাহবাজ ৪০ বলে ২০, অঙ্কুর পাল ১২ ও সুমন্ত গুপ্ত ৬ রান করেন। আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করতে গিয়ে নিয়মিত ব্যবধানে উইকেট হারায় বাংলা, ইনিংস শেষ হয় ১৯৮ রানে। কেরলের সামনে জয়ের লক্ষ্য দাঁড়ায় ৪০৮।

তৃতীয় দিনের শেষেই ৫৩ রানে চার উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় কেরল। শেষ দিনে বাংলার জয় ছিল শুধু সময়ের অপেক্ষা।

বাকি কাজটুকু সারতে বেশি সময় নেননি বোলাররা। চতুর্থ দিনে মাত্র ৬৭ রান যোগ করতেই শেষ ছ’উইকেট হারায় কেরল। ৫১ রানে ৬ উইকেট নিয়ে ম্যাচের নায়ক প্রদীপ্ত প্রামাণিক। দু’ইনিংস মিলিয়ে তাঁর শিকার ১০ উইকেট। শামি ও শাহবাজ দ্বিতীয় ইনিংসে নেন দু’টি করে উইকেট।

২৮৭ রানের বড় জয়ে টানা তিন ম্যাচ জিতে ৬ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট তালিকায় নিজেদের অবস্থান আরও মজবুত করল বাংলা। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করে প্রতিপক্ষকে ক্লান্ত করার কৌশল যে কাজে লেগেছে, ফলাফলই তার প্রমাণ।

জয়ের পর প্রদীপ্ত বলেন, “১০টি উইকেট নিতে পারাটা আমার কাছে সত্যিই স্পেশাল। গর্বের মুহূর্তও। সবচেয়ে বড় কথা, দলের জয়ে অবদান রাখতে পেরেছি। এর জন্য খুব খুশি। আগামী ম্যাচগুলোতেও এই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে বাংলাকে জেতানোই লক্ষ্য থাকবে।”

ট্যাগ: Bengal Ranji Trophy
প্রতিবেদন

UTSAB RC