এনজেপি স্টেশনে ব্রাউন সুগার সহ মহিলা ধৃত, মাটিগাড়ায় উদ্ধার মাদক, গ্রেপ্তার ননদ-ভাবি

সংবাদদাতা, শিলিগুড়ি: নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশনে মাদক পাচারের একটি বড় ছক বানচাল করল রেল পুলিশ। শিলিগুড়ি জিআরপির স্পেশাল অপারেশন গ্রুপ এসওজি এবং এনজেপি জিআরপির সাদা পোশাকের পুলিশের যৌথ অভিযানে উদ্ধার করা হয় প্রায় ১০০ গ্রাম ব্রাউন সুগার। এই ঘটনায় রেহানা খাতুন নামের অসমের এক মহিলাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার এনজেপি জিআরপির আইসি পাসাং শেরপার নেতৃত্বে স্টেশনের ৬ নম্বর প্ল্যাটফর্মে অভিযান চালানো হয়। অসম থেকে আসা ডাউন বিবেক এক্সপ্রেস প্ল্যাটফর্মে পৌঁছালে, ট্রেনের বি৫ এসি কামরায় এক সন্দেহভাজন মহিলাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তাঁর কথায় অসঙ্গতি মেলায় তাঁকে আটক করে তল্লাশি চালানো হয়। মহিলার ব্যাগ থেকে ছটি সাবানের কেসের ভেতর লুকনো থাকা প্রায় ১০০ গ্রাম ব্রাউন সুগার উদ্ধার করা হয়, যার বাজারমূল্য কয়েক লক্ষ টাকা। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, এই মাদক অসম থেকে দক্ষিণ ভারতের দিকে পাচার করা হচ্ছিল। ধৃতের বিরুদ্ধে এনডিপিএস আইনে মামলা রুজু করা হয়। এই চক্রের সঙ্গে আর কারা জড়িত তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

মাটিগাড়ায় মাদক উদ্ধার। ধৃত ননদ-ভাবি।
এছাড়া, মাটিগাড়া থানার পুলিশের অভিযানে বিশ্বাস কলোনিতে রেললাইনের কাছে একটি বাড়ি থেকে ব্রাউন সুগারের কারবারের হদিশ মিলেছে। এই ঘটনায় ননদ-ভাবি সম্পর্কে দুই মহিলাকে গ্রেপ্তার করেছে।
পুলিশ সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী,বিশ্বাস কলোনিতে রেললাইনের কাছে একটি বাড়িতে মাদকদ্রব্যের কারবার চলার খবর পেয়ে মাটিগাড়া থানার পুলিশ গোপনে তদন্ত শুরু করে। এরপর নির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে ওই বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। অভিযানের সময় দুই মহিলাকে আটক করা হয়,যাঁরা সম্পর্কে ননদ ও ভাবি বলে জানা গিয়েছে।ছাপেমারির সময় পুলিশ প্রায় ২৭৩টি ব্রাউন সুগারের প্যাকেট বা বার উদ্ধার করেছে বলে দাবি করা হচ্ছে।উদ্ধার হওয়া মাদকদ্রব্যের বাজারমূল্য কয়েক লক্ষ টাকা হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে অনুমান করা হচ্ছে।তবে উদ্ধার হওয়া মাদকের সঠিক পরিমাণ,প্যাকেটের সংখ্যা এবং বাজারমূল্য সম্পর্কে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত তথ্য নিশ্চিত হওয়া বাকি।মাদক কারবারের সঙ্গে আর কারা জড়িত,খতিয়ে দেখছে পুলিশ। এই ঘটনায় ধৃত দুই মহিলার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত রয়েছেন কি না,তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। এই কথিত মাদক কারবারের পিছনে কোনও বড় চক্র কাজ করছে কি না, কোথা থেকে মাদক আনা হতো এবং কোথায় তা সরবরাহ করা হতো সেই সমস্ত বিষয়ও তদন্তের আওতায় আসতে পারে।
