বুধবার, ১৪ মে, ২০২৫
ব্রেকিং নিউজ
সিটি সেন্টার ২-এর পিছনের ঝুপড়িতে আগুন অমিতাভ বচ্চনের বাসভবনের বোমাতঙ্কের হুমকি পাক জঙ্গিদের টার্গেটে বাংলার মুখ্য়মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী মন্দারমণির সমুদ্রে তলিয়ে গেল মামা-ভাগ্নে

শ্রীশ্রী দেবী লক্ষ্মী কে?‌ তাঁর পুজোয় কী ফল পাওয়া যায়?‌

23 October, 2026 8:40 PM Lopa Bhowmik
শেয়ার করুন

জ্যোতিষাচার্য উৎপলকুমার দাস
আগামী ২৫–১০–২০২৬, বাংলার ৮ কার্তিক ১৪৩৩ রবিবার লক্ষ্মী পুজো। বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত মতে, পূর্ণিমা শুরু হচ্ছে ওইদিন দিবা ১১–২৭ মিনিটে এবং থাকছে ২৬ অক্টোবর দিবা ৯–৪২ মিনিট পর্যন্ত। এখন প্রশ্ন হল, কে এই শ্রীশ্রী লক্ষ্মী?‌ লক্ষ্মীকে জানতে গেলে আগে শ্রী নারায়ণীকে জানতে হবে। যাঁর একটি অংশ হলেন শ্রীশ্রী লক্ষ্মী। নারায়ণী অর্থাৎ যিনি জীব সমূহের ‘‌অয়নী’‌ বা আশ্রয়রূপ। দেবী পুরাণে নারায়ণী শব্দের ব্যাখ্যা হল, ‘‌জলায়না নরাধারা সমুদ্র-শয়নাপি বা।
নারায়ণী সমাখ্যাতা নর–নারী–প্রবর্তিকা।’‌ অর্থাৎ দেবী ভগবতী নর সমূহের আশ্রয়। সমুদ্র তার শয্যা। সেই জন্যই তিনি নারায়ণী নামে পরিচিত। তিনি নর–নারীর সৃষ্টিকারী। ব্রহ্ম বৈবর্ত পুরাণে লেখা হয়েছে, যশ, তেজ, রূপ ও গুণ দ্বারা তিনি নারায়ণের সদৃশ্য এবং নারায়ণের শক্তি। এই কারণে তিনি নারায়ণী নামে খ্যাত। নারায়ণের বিভিন্ন রূপের বর্ণনায় শ্রীশ্রী চণ্ডীতে আছে, নারায়ণী তুমি লক্ষ্মী, লজ্জা, মহাবিদ্যা, তুমি শ্রদ্ধা ,পুষ্টি,স্পর্ধা। তুমি নিত্য, তুমি মহারাত্রি, তুমি মহাঅবিদ্যা তোমাকে প্রণাম। এখানে লক্ষ্মী কথাটি উল্লেখিত হয়েছে। সৌভাগ্য লক্ষ্মী উপনিষদে শ্রী দেবীর ধ্যানে বলা হয়েছে, যিনি রক্তবর্ণ কমলে উপবিষ্ট ও তার পরাগ সমূহের মতো বর্ণ বিশিষ্টা, যিনি চারটি হাতের দুটিতে অভয় মুদ্রা এবং দুটিতে পদ্মফুল ধারণ করে আছেন এবং বিচিত্র অলংকার দ্বারা সুসজ্জিতা— সেই ভুবনমাতা আমাদের শ্রী অর্থাৎ শুভ প্রদান করুন। এই বর্ণনা থেকে শ্রীশ্রী লক্ষ্মী দেবীর ছবিটি আমরা পরিষ্কার দেখতে পাই।

দেবী ভগবতে লক্ষ্মীর স্বরূপ ও তত্ত্ব বর্ণনায় বলা হয়েছে, যিনি শুদ্ধসত্ত্ব স্বরূপা, তিনিই পরমাত্মা বিষ্ণুর লক্ষ্মী। তিনি সমস্ত সম্পত্তি স্বরূপা ও তাহার অধিষ্ঠাত্রী দেবী, তিনি সমস্ত শস্য স্বরপা। অতএব সকল জীবের জীবনরূপী এবং মহালক্ষ্মী। তিনি বৈকুন্ঠ ধামে সর্বদা পতিসেবা পরায়ণা। স্বর্গে স্বর্গলক্ষ্মী, রাজভবনে রাজলক্ষ্মী এবং মর্ত্যবাসীদের কাছে বা তাদের গৃহে গৃহলক্ষ্মী স্বরূপা। তিনি সমস্ত প্রাণীতে ও দ্রব্যে মনোহর শোভা স্বরূপা, পুণ্যবানদের কাছে প্রীতিস্বরূপা এবং রাজাদের কাছে প্রভাস্বরূপা। তিনি ব্যবসায়ীদের কাছে বাণিজ্যরূপী। মৎস্যপুরাণ মতে দেবী দ্বিভুজা, দেবী লক্ষ্মী স্বর্ণকান্তি, হিমালয়ের মতো বৃহৎ চারটি হাতি শুঁড় দিয়ে অমৃতপূর্ন হিরণ্ময় কলস অভিষেক করছে। শ্রীশ্রী লক্ষ্মীর চার হাতে বর, অভয় মুদ্রা এবং দুটি পদ্মফুল। মাথায় রত্ন মুকুট। পট্টবস্ত্র পরিধান করে আছেন এবং পদ্মের ওপর পদ্মাসনে বসে আছেন। অংশুমদ্ভেদাগম ধ্যান মতে, শ্রীশ্রী লক্ষ্মী দেবী দ্বিভূজা। তিনি পদ্মাসনে বসে রয়েছেন। কাঞ্চনবর্ণা। দুই কানে স্বর্ণরত্ন খচিত কুণ্ডল, পূর্ণযৌবনা। ভ্রু যুগল কুঞ্চিত, মাথায় শঙ্খ–চক্র–পদ্ম চিহ্নিত অলংকার। দক্ষিণ বাহুতে পদ্ম এবং বাম বাহুতে বিল্বফল ধারণ করে আছেন। শোভন বস্ত্র পরিহিতা এবং সর্ববিধ অলংকার ভূষিতা। শ্রীশ্রী দেবী লক্ষ্মীর এই স্নিগ্ধ রূপকেই আমরা পুজো করে থাকি।

প্রতিবেদন

Lopa Bhowmik