সোশ্যাল মিডিয়ায় ধৃত ঘোষকের দাবি, ‘পুলিশের কথাতেই প্যান্ডেল ভেঙে পড়ার ঘোষণা করেছিলাম’

সংবাদদাতা, কলকাতা: চোরবাগানে পুজোর ভিড়ের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করতে বিভ্রান্তিকর ঘোষণা করার অভিযোগে কুশল মজুমদার নামে আরও এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। ধৃত কুশল তার সোশ্যাল মিডয়ায় দাবি করেছেন যে, পুলিশের নির্দেশেই তিনি মাইকে প্যান্ডেল ভেঙে পড়ার ঘোষণা করেছিলেন।
এর আগে নদীয়া থেকে সঞ্জীব রাহা ওরফে সেন্টু নামে পুজো কমিটির এক কোষাধ্যক্ষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। শুক্রবার তাঁকে ব্যাঙ্কশাল কোর্টে হাজির করা হলে বিচারক আগামী বুধবার পর্যন্ত পুলিশি হেপাজতের নির্দেশ দিয়েছেন।
বর্তমানে ধৃত কুশলকে লালবাজারে নিয়ে গিয়ে দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। সপ্তমীর সন্ধ্যায় চোরবাগান মণ্ডপে প্রচণ্ড ভিড়ের মধ্যে হঠাৎই মাইকে ঘোষণা করা হয় মণ্ডপ ভেঙে যাচ্ছে। অভিযোগ, এই ভুয়ো ঘোষণাকে কেন্দ্র করে দর্শনার্থীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও হুড়োহুড়ি শুরু হয়ে যায়। এর জেরে বেশ কয়েকজন দর্শনার্থী মাটিতে পড়ে যান। ঘটনায় ১৯ জনের মৃত্যু হয় এবং অনেকে অআহত হন। ঘটনার পরেই সিসি ক্যামেরা ফুটেজ খতিয়ে দেখে দুই সন্দেহভাজন ঘোষককে চিহ্নিত করে পুলিশ।
তদন্তে জানা যায়, অভিযুক্ত সেন্টু ও কুশল উভয়ের বাড়িই মণ্ডপের ৫০ মিটারের মধ্যে অমর বসু সরণিতে। বিপর্যয়ের পর থেকেই মোবাইল বন্ধ রেখে পলাতক ছিলেন সেন্টু। তবে তাঁর গোপন আস্তানার সূত্র ধরে বিভিন্ন নম্বর ট্র্যাক করে তাঁকে নদীয়া থেকে পাকড়াও করে পুলিশ। মণ্ডপের ক্লাব সদস্য ও বিশেষ অতিথিদের বসার ঘরের মাইক থেকেই এই ঘোষণা করা হয়েছিল বলে জানা যায়।
তদন্তকারীরা এখন খতিয়ে দেখছেন, ঠিক কী কারণে এমন আতঙ্কজনক ঘোষণা করা হয়েছিল এবং এর নেপথ্যে অন্য কারও নির্দেশ ছিল কি না।
পাশাপাশি ইতিমধ্যেই গ্রেপ্তার হয়েছেন ঘোষক বাবু মজুমদার। এবার সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বাবুর স্ত্রী জানান, ২৭ তারিখের আগে থানায় আত্মসমর্পণ করতে বারণ করা হয়েছিল তাঁর স্বামীকে। ওই দিন মণ্ডপে দু’জন মাইকে ঘোষণা করছিলেন। প্যান্ডেল ভাঙা হয়েছিল বলতে বলা হয়েছিল তাঁদের। তাই ঘোষণা করা হয়েছিল। ঘটনার পরই বাড়ি এসে জামা কাপড় ছেড়ে আবার মাঠে গিয়েছিলেন তিনি। সাধারণ মানুষ যে বিপদে পড়েছে, তাদের সাহায্য করার জন্য বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায়। তার পর থেকে আর বাড়িতে আসেনি। ২৭ তারিখের আগে ঘোষকদের থানায় যেতে বারণ করা হয়েছিল। কে বা কারা থানায় আত্মসমর্পণ করতে বারণ করেছিল, তা অবশ্য পরিষ্কার করে কিছু জানাতে পারেননি বাবু মজুমদারের স্ত্রী।
পাশাপাশি এদিন সোশ্যাল মাধ্যমে কুশলের দাবি, ঘটনার কিছুক্ষণ আগে তিনি ক্লাবে গিয়েছিলেন। সে সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন গিরিশ পার্ক থানার বড়বাবু এবং ছোটবাবু। তাঁদের চা দেওয়ার পরে ক্লাবে বসেই কিছু কাজ করছিলেন বলে লেখেন কুশল। ১০-১৫ মিনিট পরে একটি শব্দ শুনতে পান তাঁরা। তা শুনে থানার বড়বাবু এবং ছোটবাবু বেরিয়ে যান ক্লাবঘর থেকে। তাঁর কথায়, আমাদের ক্লাবের সম্পাদকের ছেলে কবির এসে বলে, মণ্ডপের পিছনের অংশ ভেঙে পড়েছে। সেই সময় আমি যখন বেরিয়ে যাব, তখন পুলিশের একজন বলেন, আপনারা মাইকিং করুন। আমি সামনে গিয়ে দেখি, যে মাইকিং করছিল, সে নেই। কুশল দাবি করেছেন, তার পর বাধ্য হয়ে পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকা সত্ত্বেও তিনি মাইকে ঘোষণা করেন।
সেদিন তিনি প্রথমে পুলিশকে দিয়ে তিনি মণ্ডপে যাওয়ার রাস্তা বন্ধ করে দেন। সব রকম প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেন। তার পরেই স্যোশাল মিডিয়ায় কুশল জানিয়েছেন, কেন তিনি ঘোষণা করেছিলেন যে, ‘মণ্ডপ ভেঙে পড়েছে’। তিনি লেখেন, যেহেতু কবির বলেছিল, মণ্ডপের পেছনের অংশ ভেঙে গেছে, তাই আমি বলি, আপনারা মণ্ডপে প্রবেশ করবেন না। মূল মণ্ডপের অবস্থা খুব খারাপ। এত দর্শক একসঙ্গে প্রবেশ করলে মণ্ডপের ভিত আলগা হয়ে ভেঙে পড়তে পারে। তাঁর আরও দাবি, এতে আমার কোনও খারাপ উদ্দেশ্য ছিল না। তবে এই ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে, গ্রেপ্তারির পরেও কীভাবে কুশল এ সব পোস্ট দিচ্ছেন। পুলিশের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে জানানো হয় ধৃতের পোস্ট দেওয়ার সুযোগই নেই। তাঁর অ্যাকাউন্ট থেকে তাঁর কোনও পরিচিত বা আত্মীয়ই এই পোস্ট দিয়েছেন বলে অনুমান করা হচ্ছে।
