কেন্দ্রের বিরুদ্ধে পরবর্তী রণকৌশল কী, বৃহস্পতিবারই বৈঠক ইন্ডি জোটের, থাকবেন রাহুল-মমতা
সংবাদদাতা, নয়াদিল্লি: মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে আন্দোলনকে ফের জোরদার করতে প্রস্তুতি শুরু করেছে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’। সংবাদসংস্থা এএনআই জানিয়েছে, উৎসবের মরসুম শেষ হতেই কৌশল ঠিক করতে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ভিডিয়ো কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে জোটের নেতারা বৈঠকে বসতে পারেন। সূত্রের খবর, বৈঠকের সভাপতিত্ব করবেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গে। বৈঠকে যোগ দিতে পারেন তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধী এবং লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীও। তবে বৃহস্পতিবারের বৈঠক নিয়ে জোটের তরফে এখনও আনুষ্ঠানিক ভাবে কিছু জানানো হয়নি।
জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং ভোটার তালিকার SIR বাতিলের দাবিতে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) আন্দোলন শুরু করেছে। এই আন্দোলনে সরব হয়েছে কংগ্রেস, তৃণমূল, সমাজবাদী পার্টি ও আপের মতো বিজেপি বিরোধী দলগুলিও। এর আগে সিজেপির ডাকা কর্মসূচিতে ‘ইন্ডিয়া’-র নেতারা যোগও দিয়েছিলেন। রাহুল গান্ধী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, জ্ঞানেশ কুমার না সরা পর্যন্ত তিনি আন্দোলন থামাবেন না। যদিও দুর্গাপুজো ও দীপাবলির সময় বিক্ষোভ কর্মসূচি কিছুটা স্তিমিত হয়ে পড়েছিল। বিরোধীরা এখন নভেম্বরের শুরু থেকেই ফের পুরোদমে আন্দোলনে ফিরতে বদ্ধপরিকর। বৃহস্পতিবারের বৈঠকে সেই বিষয়েই আলোচনা হতে পারে।
‘গণতন্ত্র বাঁচাও’ অভিযানের অধীনে আগামী ১ নভেম্বর একটি কর্মসূচির ডাক আগেই দিয়েছিল বিরোধী শিবির। সেই কর্মসূচিতে দিল্লির রামলীলা ময়দান থেকে নির্বাচন কমিশনের দপ্তর পর্যন্ত মিছিলের কথা বলা হয়েছিল। এর বাইরেও কীভাবে কেন্দ্রের ওপর চাপ বজায় রাখা যায় এবং জ্ঞানেশের পদত্যাগের দাবি আরও জোরালো করা যায়, তা নিয়ে আলোচনায় বসছেন বিরোধী নেতৃত্ব। আগামী দিনের কর্মসূচিও এই বৈঠকেই নির্ধারিত হতে পারে।
সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক এমএ বেবি জানিয়েছেন, বর্তমানে একাধিক বিকল্প নিয়ে জোটের মধ্যে আলোচনা চলছে। তাঁর কথায়, দিল্লিতে বিরোধীদের মিছিল সফল হয়েছে, তাই কয়েকজন নেতা সেই মিছিলকেই আরও জোরদার করার পক্ষে। আবার কেউ কেউ জ্ঞানেশ কুমারের ইমপিচমেন্টের দাবিতে সংসদে বিক্ষোভ দেখাতে আগ্রহী। এ ছাড়াও আরও কিছু ধাপ নিয়ে আলোচনা চলছে বলে জানান তিনি। তবে ‘ইন্ডিয়া’-র পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে এখনও পর্যন্ত চূড়ান্ত কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন এক বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা।
সিজেপি নেতাদের ওপর পুলিশি নজর
এরই মধ্যে সিজেপির সৌরভ, রাঙ্কা-সহ তিনজনকে তলব করেছে দিল্লি পুলিশের অপরাধদমন শাখা। জেলমুক্তির পরদিনই তাঁদের হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্য দিকে, সৌরভ ও রাঙ্কা আদালতে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে তাঁরা যন্তর মন্তরে কোনও আন্দোলন করবেন না এবং আইন মেনে চলবেন। উৎসবের বিরতির পর আন্দোলনের গতি ফেরাতে বিরোধী জোট কোন পথ বেছে নেয়, এখন সেটাই দেখার। ১ নভেম্বরের মিছিলকে আরও বড় আকার দেওয়া হবে, নাকি সংসদে ইমপিচমেন্টের দাবিতে নতুন করে চাপ তৈরির পথে হাঁটা হবে, তা স্পষ্ট হতে পারে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার বৈঠকের পরেই।
