আগুন জ্বলে, আগুন নেভে! ‘হুঁশ ফেরে না’ প্রশাসনের
কলকাতা বারবার সাক্ষী থেকেছে মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ড এবং প্রাণহানির। বিগত ২০ বছরে ঘটে যাওয়া সেরকমই কিছু বড় অগ্নিকাণ্ডের তালিকা তুলে ধরা হল।
তপসিয়া চামড়ার কারখানা (২২ নভেম্বর ২০০৬): বেআইনিভাবে দরজা বন্ধ করে রাখা একটি কারখানায় আগুন লেগে কমপক্ষে ১০ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়।
স্টিফেন কোর্ট (২৩ মার্চ ২০১০): এটি মহানগরের অন্যতম বড় অগ্নিকাণ্ড। পার্ক স্ট্রিটের ঐতিহাসিক স্টিফেন কোর্টে আগুন লেগে ৪৩ জন পুড়ে মারা যান।
আমরি হাসপাতাল ( ৯ ডিসেম্বর ২০১১): ঢাকুরিয়ায় আমরি হাসপাতালে ভয়াবহ আগুন লাগে। হাসপাতাল কর্মী এবং রোগী মিলিয়ে প্রায় ৯০ জনের মৃত্যু হয়।
শিয়ালদহ সূর্য সেন মার্কেট ( ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৩): শিয়ালদহ স্টেশনের কাছে সূর্য সেন মার্কেটে বিধ্বংসী আগুনে কমপক্ষে ২০ জনের মৃত্যু হয়।
তপসিয়া গুদাম (৬ অক্টোবর ২০২৬): ক্রিস্টোফার রোডের একটি অবৈধ তেল ও জ্বালানির গুদামে ভয়াবহ আগুন লাগার ঘটনায় ৩ জনের মৃত্যু হয়।
গোল্ডেন পার্ক হোটেল (৩০ মার্চ ২০১৭): হো চি মিন সরণির এই হোটেলে রাত ৩টে নাগাদ ভয়াবহ আগুনে ২ আবাসিকের মৃত্যু হয়।
প্রিটোরিয়া স্ট্রিট (২০ জুলাই ২০১৭): ১২ নম্বর প্রিটোরিয়া স্ট্রিটে গেইল–এর অফিসে ভয়াবহ আগুন লাগলে বেশ কয়েকজন অফিসকর্মী ধোঁয়ায় অসুস্থ হয়ে পড়েন।
বাগরি মার্কেট (১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮): ক্যানিং স্ট্রিটের বিখ্যাত এই পাইকারি ব্যবসা কেন্দ্রে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রায় ১ হাজারেরও বেশি পাইকারি দোকান আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যায়। ৩ দিন ধরে আগুন জ্বলেছিল।
কলকাতা মেডিকেল কলেজ (৩ অক্টোবর ২০১৮): হাসপাতালের প্রধান বিল্ডিংয়ের ফার্মেসি ও তার পাশাপাশি এলাকায় আগুন লাগে। প্রায় ২৫০ জন রোগীকে অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।
জগন্নাথ ঘাট (৭ জুন ২০১৯): রাত আড়াইটে নাগাদ হাওড়া ব্রিজ সংলগ্ন এই এলাকায় ভয়াবহ আগুন লাগে। জখম হন বেশ কয়েকজন।
গণেশচন্দ্র এভিনিউ (১৭ অক্টোবর ২০২০): রাত সাড়ে ১০টা নাগাদ একটি বহুতল ভবনে বিধ্বংসী আগুনে এক বৃদ্ধার মৃত্যু হয়। আতঙ্কে বহুতলের একটি ফ্ল্যাট থেকে পড়ে গুরুতর জখম হয় ১৪ বছরের এক কিশোর।
দত্তাবাদ, ই এম বাইপাস (২২ ডিসেম্বর ২০২০): ব্যস্ত ইস্টার্ন মেট্রোপলিটন বাইপাস সংলগ্ন দত্তাবাদের বেশ কয়েকটি বস্তিতে ভয়াবহ আগুন লাগে। বেশ কিছু গ্যাস সিলিন্ডার ফেটে প্রায় ৩০–৩৫টি ঝুপড়ি পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
স্ট্যান্ড রোড রেলওয়ে বিল্ডিং ( ৮ মার্চ ২০২১): স্ট্যান্ড রোডে নিউ কয়লাঘাটায় পূর্ব রেলের সদর দপ্তরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে মোট ৯ জনের মৃত্যু হয়।
ট্যাংরায় চামড়ার গুদাম (১২ মার্চ ২০২২): ট্যাংরার ঘিঞ্জি এলাকার চামড়ার গুদামে বিধ্বংসী আগুন নেভাতে গিয়ে বেশ কয়েকজন দমকলকর্মী জখম হন।
মঙ্গলাহাট (২১ জুলাই ২০২৩): গভীর রাতে বিরাট অগ্নিকাণ্ড ঘটে। প্রায় আড়াই হাজার দোকান ভস্মীভূত হয়। ব্যবসায়ীদের কোটি কোটি টাকার ক্ষতি হয়।
শিয়ালদহ ইএসআই হাসপাতাল (১৮ অক্টোবর ২০২৪): ভোর রাতের আগুনে ১ জনের মৃত্যু হয়। ৮০ জন রোগীকে উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়া হয়।
ঋতুরাজ হোটেল (২৯ এপ্রিল ২০২৫): মেছুয়া ও বড়বাজার এলাকার মদন মোহন বর্মন স্ট্রিটের এই হোটেলে আগুন লেগে অন্তত ১৪ জনের মৃত্যু হয় এবং বহু লোক আহত হন।
আনন্দপুর ওয়্যারহাউস (২৫ জানুয়ারি ২০২৬): আনন্দপুর ও নরেন্দ্রপুর সংলগ্ন নাজিরাবাদ এলাকায় পুষ্পাঞ্জলি ডেকোরেটরস এবং তার পাশে থাকা ওয়াও মোমোর গুদামে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। ২৭ জনের প্রাণহানি ঘটে।
তিলজলা লেদার ইউনিট (১৩ মে ২০২৬): জি জে খান রোডের একটি পাঁচতলা আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবনে আগুন লাগে। বাড়িটির দু্টি তলায় অবৈধভাবে চামড়ার কারখানা চালানো হতো। ধোঁয়ায় ও আতঙ্কে ২ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়।
শিখা ইন হোটেল (১৯ আগস্ট ২০২৬): মির্জা গালিব স্ট্রিটের এই হোটেলে ভোররাতে আগুন লাগে। ধোঁয়ায় দমবন্ধ হয়ে এবং আগুনের তাপে পুড়ে মারা যান ৯ জন।
