চোরবাগান সর্বজনীনে ভিড়ের চাপে মৃত ১৮, আহত কমপক্ষে ৪০, আশঙ্কাজনক ১৫
সংবাদদাতা, কলকাতা: চোরবাগান সর্বজনীনে ঠাকুর দেখতে গিয়ে বিপত্তি। পদপিষ্ট হয়ে মৃত ১৮। আহত ৪০। আশঙ্কাজনক কমপক্ষে ১৫। হতাহতের ঘটনা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা। শনিবার সন্ধেয় ভিড়ের চাপেই এই মর্মান্তিক ঘটনা বলে জানা গেছে। জানা গেছে, পঞ্চমী থেকেই মানুষের ঢল নেমেছে উত্তর কলকাতার মুক্তারাম বাবু স্ট্রিটের এই পুজো প্যান্ডেলে। কিন্তু শনিবার সেই ভিড় মাত্রা ছাড়িয়ে যায়। মণ্ডপে ঢোকার রাস্তা ছিল অত্যন্ত সরু। সঙ্গে ছিল ভ্যাপসা গরম। মণ্ডপে প্রবেশ পথের মুখে অগুন্তি মানুষের ভিড় জমে যায়। ভ্যাপসা গরমের মধ্যে ভিড়ের চাপে একের পর এক মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়তে থাকেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, সারাদিনই কমবেশি ভিড় থাকছে এই পুজো প্যাণ্ডলে। রাজ্যের তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের তরফে কলকাতা পুরসভা ও কলকাতা পুলিশের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে কলকাতার বাছাই ২৩টি পুজো কমিটিকে পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। সেই তালিকায় সেরার সেরা ক্যাটিগরিতে পুরস্কার পেয়েছে চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গোৎসব সমিতি। স্বাভাবিকভাবেই এই পুজোর প্যাণ্ডেল এবং প্রতিমা দেখার জন্য দূর–দূরান্ত থেকে লোকজন আসছেন স্রোতের মতো। সব মিলিয়ে ভিড় সামাল দিতে কালঘাম ছুটছে পুলিশ এবং পুজো কমিটির। তার মধ্যেই শনিবার ঘটে গেল এরকম দুর্ঘটনা। স্থানীয় সূত্রে খবর, সপ্তমীর সন্ধেয় ভিড়ের মাত্রা এত বেশি ছিল যে তিল ধারণের জায়গা ছিল না। সন্ধেবেলায় আচমকা বৃষ্টি আসার কারণে প্রায় হাজার দুয়েক মানুষ মণ্ডপের মধ্যে ঢুকে দাঁড়িয়েছিলেন। তার ওপর যাঁরা মণ্ডপে ঢোকার জন্য অপেক্ষায় ছিলেন, সেই দলের প্রায় হাজার খানেক লোকও মণ্ডপে ঢুকে যান। ফলে মণ্ডপের ভেতরে হুড়োহুড়ি পড়ে যায়। বেশ কিছু মানুষ মণ্ডপ থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করলে পেছনের দলটি তাদের ওপরে এসে পড়ে। ফলে চাপা পড়ে যান বহু মানুষ।

আকস্মিক এই ঘটনায় মুহূর্তের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এখানে ভিড় নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থাপনা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দা থেকে দর্শনার্থীরাও। এক জন স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, হাজার হাজার স্বেচ্ছাসেবী, পুলিশ ছিল। কিন্তু কোনও ব্যবস্থাই প্রথমে নেওয়া হয়নি না। এত বড় ঘটনা ঘটছে চোখের সামনে দেখছে। কলকাতা পুলিশের গাড়ি দাঁড়িয়েছিল। পুলিশও কিছু করেনি। বাসিন্দারাই প্রথম উদ্ধারকাজে হাত লাগান। পুজো কমিটির কোনও সদস্যকেও দেখা যায়নি বলে অভিযোগ। অভিযোগ, এত বড় পুজোয় কোনও অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থাও রাখা ছিল না।
রাতেই আহতদের দেখতে হাসপাতালে পৌঁছোন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। তাঁরা চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেন। আরও ভাল চিকিৎসার জন্য অন্য কোনও হাসপাতালে আশঙ্কাজনকদের স্থানান্তরিত করা যেতে পারে কিনা সে বিষয়ে কথাবার্তা বলছেন মুখ্যমন্ত্রী।
