কনট প্লেসে ককরোচদের কর্মসূচিতে গোয়েন্দা নজরদারি! আগেই আটক হতে পারেন, আশঙ্কা অভিজিৎ দীপকের
নয়াদিল্লি, ১৬ অক্টোবর: শুক্রবার বিকেল ৫টায় কনট প্লেসের সেন্ট্রাল পার্কে ‘তেরঙা ওড়াও’ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। দুপুর ৩টের পর থেকেই কনট প্লেস গামী সব রাস্তায় নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে দিল্লি পুলিশ। কর্মসূচির অনুমতি দেওয়া হয়নি। শহরের বিভিন্ন এলাকায় জারি হয়েছে বিএনএসএস-এর ১৬৩ ধারা। পুলিশ সূত্রে খবর, দিল্লিতে মোতায়েন করা হচ্ছে প্রায় ৩২ হাজার পুলিশ ও আধাসেনা।
কর্মসূচির আগেই ‘নিউ দিল্লি মিউনিসিপ্যাল কাউন্সিল’ জানিয়েছে, ১৬ ও ১৭ অক্টোবর সেন্ট্রাল পার্ক বন্ধ থাকবে। শুধু কনট প্লেস চত্বরেই থাকছেন ৬০০০ পুলিশকর্মী, সঙ্গে কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশবাহিনী (সিএপিএফ)। গত শনিবার (১০ অক্টোবর) সিজেপির জ্ঞানেশ-বিরোধী কর্মসূচির আগে কেবল নয়াদিল্লিতেই মোতায়েন ছিল ৫০০০ পুলিশ।
সিজেপি প্রধান অভিজিৎ দীপকে-র আশঙ্কা, কর্মসূচির আগেই তাঁকে আটক করা হতে পারে। তাঁর দাবি, নম্বর প্লেটহীন গাড়ি তাঁকে অনুসরণ করছে এবং আইবি আধিকারিকেরা তাঁর বাড়ির উপর নজর রাখছেন। বৃহস্পতিবার সাংবাদিক বৈঠকে তিনি বলেন, “দেশের তেরঙা ওড়ানোর জন্য যদি আমাদের জেলে যেতে হয়, তা হলে আমরা তার জন্য প্রস্তুত রয়েছি।” কর্মসূচিতে যোগ দিতে সকলকে আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অধীন দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, অনুমতি ছাড়া কর্মসূচি হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ করা হবে। তবে পুলিশের বক্তব্য, “অল্প কয়েক জন যথাযথ জায়গায়” মিছিল করতে পারবেন। কিন্তু সেই ‘যথাযথ জায়গা’ কোনটি, বা ‘অল্প কয়েক জন’ বলতে কতজন, তা স্পষ্ট করা হয়নি।
#WATCH | Delhi: Connaught Place wore a deserted look this morning. Police personnel remain deployed ahead of CJP Founder Abhijeet Dipke’s call for a ‘Lehra Do Tiranga’ protest at Central Park here today. https://t.co/Ae4OO8MnZJ
— ANI (@ANI) October 16, 2026
এর আগে মঙ্গলবার যন্তর মন্তরে প্রতিবাদ-বিক্ষোভ নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও সেখানে ঢুকে জাতীয় পতাকা ওড়ানো এবং শান্তিভঙ্গের অভিযোগে সিজেপি নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। বুধবার তাঁদের পাঁচ দিনের জেল হেপাজতে পাঠানো হয়। দু’জনই এখন তিহার জেলে বিচারবিভাগীয় বন্দি। এই গ্রেপ্তারির প্রতিবাদে সরব হয়েছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী-সহ একাধিক বিরোধী নেতা। পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। সিজেপির দাবি, জাতীয় পতাকা ওড়ানো অপরাধ নয়, আর সেটাই প্রমাণ করতে শুক্রবার ফের পথে নামছে তারা।
‘ভোটচুরি’, ‘বেআইনি ও স্বেচ্ছাচারী কার্যকলাপ’ এবং এসআইআর-অনিয়মের অভিযোগে জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে এত দিন সিজেপি ও কংগ্রেস-নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোটের আন্দোলন সমান্তরালে চলছিল। রাহুলেরা ককরোচদের থেকে কিছুটা দূরত্বও রাখছিলেন। অনেকের মতে, বুধবারের পর সেই দূরত্ব ঘুচতে শুরু করেছে। সেদিনই রাহুল নিজের বাড়িতে চা চক্রে ডেকেছিলেন সিজেপি নেতৃত্বকেও।
