রাস্তায় রামধনু রং নিয়ে বিড়ম্বনা, কলকাতা-আসানসোলে জল ও মেশিন দিয়ে তোলার চেষ্টা
সংবাদদাতা, কলকাতা: পুজোর আগে শহর সাজাতে গিয়ে রাস্তার রামধনু রং নিয়ে অস্বস্তিতে প্রশাসন। বুধবার চিংড়িহাটা উড়ালপুলে বৃষ্টির মধ্যে রঙিন রাস্তার উপর বাইক পিছলে দুর্ঘটনার কবলে পড়েন তিনজন। ভিডিও ছড়িয়ে পড়তেই শুরু হয় বিতর্ক। রং নিয়ে আপত্তি জোরালো হয়। এবার বৃহস্পতিবার সকাল থেকে এই উড়ালপুলে বসানো হচ্ছে স্পিডব্রেকার। গড়িয়াহাট উড়ালপুল থেকে উঠছে সেই রামধনু রং। একইসঙ্গে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ করেছে পুরমন্ত্রীর আসানসোলও। শহরের শহিদ ভগৎ সিং মোড়ের কাছে সৌন্দর্যায়নের জন্য সদ্য রং করা রাস্তার অংশও মুছে ফেলা হচ্ছে।
বুধবার দুপুরে ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি নামে শহরের বেশ কিছু অংশে। বৃষ্টির পরই চিংড়িহাটা উড়ালপুলে বাইক পড়ে যাওয়ার ঘটনাটি সামনে আসে। শুরু হয় বিতর্ক। সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকেই দাবি করতে থাকেন, ব্রিজের রাস্তায় অয়েল পেইন্ট লাগানো হয়েছে। পরে পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল সেই দাবি খারিজ করে জানিয়ে দেন, ওখানে অয়েল পেইন্ট ব্যবহার করা হয়নি। ব্যবহার করা হয়েছে অ্যান্টি স্কিড পেইন্ট। জানান, উড়ালপুলের দেওয়ালে কালো-হলুদ রং করা রয়েছে। সেটা অয়েল পেইন্ট। সেখান থেকে কোনও বিপত্তি হয়েছে কিনা, তা দেখতে হবে। বিষয়টি যে মুখ্যমন্ত্রীর কানে গেছে সে বিষয়টিও অগ্নিমিত্রা জানিয়ে দেন। সঙ্গে খবর যায় কেএমডিএ কর্তৃপক্ষ, বিধাননগর পুলিশ কমিশনারেট এবং দমকলের ডিজি অনুজ শর্মার কাছে। বুধবারই পুরমন্ত্রী জানিয়ে দেন, যদি দেখা যায় রং থেকে কারও সমস্যা হচ্ছে, তাহলে তা তুলে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।
বৃহস্পতিবার সকালে রং তোলার কাজ শুরু হয়। তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষের পোস্ট করা একটি ভিডিওতেও সেটি জানা যায়। পুরসভার একটি অত্যাধুনিক গাড়ি দিয়ে গড়িয়াহাট উড়ালপুলের উপর থেকে রং ঘষে তোলা হচ্ছে। কুণাল ঘোষ সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখেন, অবৈজ্ঞানিক বিপজ্জনক রং যদি তুলতেই হয়, ছেলেমানুষি করে লাগালেন কেন। দুর্ঘটনার দায় কে নেবে? কাদের টাকার শ্রাদ্ধ হল। চিংড়িহাটা উড়ালপুলে দুর্ঘটনা এড়াতে বৃহস্পতিবার সকালে হলুদ রঙের ফাইবার ব্লক বসানোর কাজ শেষ হয়েছে। গড়িয়াহাটেও রং তোলার পথে হাঁটছে কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি আসানসোলেও রং তোলার কাজ চলছে।
