সুপ্রিম কোর্ট অভিযান, এবার রাহুল গান্ধীকে নোটিস শীর্ষ আদালতের
সংবাদদাতা, নয়াদিল্লি: মিছিল করে সুপ্রিম কোর্টে গিয়ে SIR-এর অনিয়ম সংক্রান্ত মামলা করেছেন। লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীকে এবার নোটিস পাঠাল সুপ্রিম কোর্ট। একই নোটিস পেয়েছেন সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদবও। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত স্পষ্ট জানিয়েছেন, “বিচার বিভাগকে কেউ ভয় দেখাতে পারে না।” মামলার পরবর্তী শুনানির দিনই এই আচরণের ব্যাখ্যা দিতে হবে দুই নেতাকে।
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে ধারাবাহিক আন্দোলন চালাচ্ছে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’। ইতিমধ্যে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে দেখা করেছে জোটের প্রতিনিধিদল। গত সোমবার প্রধান বিচারপতির সঙ্গেও সাক্ষাৎ চেয়েছিলেন রাহুলেরা, কিন্তু তিনি সেই অনুরোধ ফিরিয়ে দেন। কেন দেখা সম্ভব নয়, তা জানিয়ে রাহুল ও কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গেকে চিঠিও পাঠান তিনি। সেদিনই মিছিল করে সুপ্রিম কোর্টে পৌঁছে SIR-এ অনিয়মের অভিযোগে মামলা দায়ের করেন রাহুলেরা। সেই কর্মকাণ্ডের জেরেই এবার জবাব চেয়েছে প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ।
আরও পড়ুন: বোনাস হিসেবে রেলকর্মীরা পাবেন ৭৮ দিনের বেতন, ঘোষণা কেন্দ্রের
রাহুলদের দায়ের করা মামলায় নির্বাচন কমিশনকেও নোটিস পাঠিয়েছে আদালত। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার এবং অপর দুই কমিশনার সুখবীর সিংহ সাঁধু ও বিবেক জোশীর কাছে জবাব তলব করেছে বেঞ্চ। সম্প্রতি যন্তর মন্তরকে দিল্লির প্রতিবাদ স্থলের তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার নোটিস দিয়েছে দিল্লি পুলিশ। এর বিরুদ্ধে পৃথক মামলাও হয়েছে শীর্ষ আদালতে। বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চে সেই মামলার শুনানি হয়। কেন্দ্রের হয়ে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা জানান, একটি নির্ধারিত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতেই এই সিদ্ধান্ত। কেন্দ্র ও দিল্লি পুলিশের বক্তব্য জানতে চেয়েছে আদালত। শীর্ষ আদালতের কথায়, “তারা জবাব দিক। উত্তর সন্তোষজনক না হলে, আইন আইনের মতো চলবে।”
আরও পড়ুন: জবাবে সন্তুষ্ট না হলে আইন নিজের পথে চলবে, যন্তর মন্তর নিয়ে মামলায় দিল্লি পুলিশ ও কেন্দ্রকে নোটিস সুপ্রিম কোর্টের
SIR বিরোধী সাম্প্রতিক বিক্ষোভের সময় কয়েকজন মহিলা সাংবাদিককে হেনস্থার অভিযোগ উঠেছিল। সেই সংক্রান্ত মামলাও SIR-বিষয়ক অন্য মামলার সঙ্গে বৃহস্পতিবার শোনে প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ। আইনজীবী ইন্দিরা জয়সিং আদালতকে বলেন, বিক্ষোভের খবর সংগ্রহে যাওয়া মহিলা সাংবাদিকদের শারীরিক হেনস্থা ও যৌন নির্যাতনের ঝুঁকি থাকে। তাঁরা প্রতিবাদ করতে নয়, পেশাগত দায়িত্ব পালন করতেই সেখানে যান। অভিযোগগুলি খতিয়ে দেখতে অবসরপ্রাপ্ত মহিলা বিচারপতি ও মহিলা পুলিশ আধিকারিকদের নিয়ে একটি কমিটি গঠনের আর্জিও জানান তিনি। সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, বিষয়টি তারা বিবেচনা করে দেখবে।
