তিহারে দুই শীর্ষ নেতা, দেশজুড়ে ‘লহেরা দো’ কর্মসূচি ঘোষণা ককরোচদের
সংবাদদাতা, মুম্বই: জাতীয় পতাকা হাতে নেওয়া কবে থেকে অপরাধ হয়ে গেল? ককরোচ জনতা পার্টির দুই শীর্ষ নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে পাঁচ দিনের বিচারবিভাগীয় হেপাজতে পাঠানোর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এই প্রশ্ন তুললেন দলের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। তাঁর কটাক্ষ, তেরঙ্গা ওড়ানোর কারণে ভারতীয়দের জেলে যেতে হয়েছে, এমন ঘটনা ব্রিটিশ শাসনের সময়েই হয়েছিল। ১৬ অক্টোবর দিল্লির সেন্ট্রাল পার্কে তেরঙ্গা ওড়ানোরও কর্মসূচিও ঘোষণা করলেন তিনি। বুধবার দিল্লির বিশেষ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের আদালত সৌরভ ও আশুতোষকে পাঁচ দিনের বিচারবিভাগীয় হেপাজতের নির্দেশ দেয়। দুজনকে পাঠানো হয়েছে তিহার জেলে, আলাদা আলাদা সেলে। তাঁদের সঙ্গে ধরা পড়া দলের সংগঠনের দায়িত্বপ্রাপ্ত অজিঙ্ক শিন্ডেকে অবশ্য ব্যক্তিগত বন্ডে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
We, and many generations before us, have fought strongly for our democratic rights. We must continue to do so.
I strongly condemn the arrest of Ashutosh and Saurav of the CJP. These moments are about us all, pledging and standing up to fight unitedly to protect our great democracy. This is an attempt to intimidate and silence an entire generation. This is unacceptable.
We must never surrender our constitutional rights.This murdering of democracy is happening in many parts of the country. At this moment, 14,000 of our people in Bengal are facing the brunt of police and political atrocities.
A government that has forgotten that ‘it is of the people, by the people, for the people’ is nearing its end.
To the millions of young people I say: Your Didi is with you – today and forever! Let us stand together and save our Mother India.
Jai Hind!
Vande Mataram!
Joy Bangla!— Mamata Banerjee (@MamataOfficial) October 14, 2026
দিল্লি পুলিশের দাবি, যন্তর মন্তর এলাকাকে সম্প্রতি প্রতিবাদ-স্থল হিসেবে বাতিল করা হয়েছে। অভিযোগ, সিজেপি কর্মীরা বেসরকারি চত্বরের ভেতর দিয়ে সেখানে ঢুকে পড়েন এবং পুলিশকর্মীদের কাজে বাধা দেন। এই ঘটনায় দুটি এফআইআর দায়ের হয়েছে। পুলিশের আরও বক্তব্য, গত শনিবারের আটকের পর সৌরভ ও আশুতোষ এক বছর শান্তি বজায় রাখার মুচলেকায় সই করেছিলেন, কিন্তু সেই শর্ত ভেঙেছেন। ম্যাজিস্ট্রেট পুলিশের প্রতিবেদন এবং তাঁদের আগের আচরণ বিবেচনা করেন। আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়, জামিন পেলে তাঁরা ফের আইন ভাঙতে পারেন এবং সমাজমাধ্যমে অন্যদেরও উস্কানি দিতে পারেন। সেই কারণেই হেপাজতের নির্দেশ। শিন্ডেকে ছয় মাস শান্তি বজায় রাখার শর্তে পাঁচ হাজার টাকার ব্যক্তিগত বন্ড ও মুচলেকায় মুক্তি দেওয়া হয়েছে।
তবে সিজেপি নেতাদের আইনজীবী অভিষ্ট হেলার বক্তব্য ভিন্ন। তাঁর দাবি, ‘ভারত মাতা কি জয়’ স্লোগান দেওয়া এবং জাতীয় পতাকা ওড়ানোর জন্যই দুজনকে পাঁচ দিনের হেপাজতে পাঠানো হয়েছে।
वो दिन आ रहा है जब हमारे लोकतंत्र की आवाज़ को दबाने वालों को कठोर न्याय का सामना करना पड़ेगा। चाहे वो नरेंद्र मोदी हों, अमित शाह हों, ज्ञानेश कुमार हों या कोई भी हवलदार।
मैं चाहता हूँ कि हर वो छात्र और युवा, जिसने पुलिस की हिंसा या ग़ैरक़ानूनी हिरासत झेली है, उसका पूरा रिकॉर्ड रखे – वीडियो या फोटो – ये ज़रूरी होंगे।
शांतिपूर्ण विरोध आपका अधिकार है। हम इसे किसी को छीनने नहीं देंगे।
— Rahul Gandhi (@RahulGandhi) October 14, 2026
এই নির্দেশ ঘিরে রাজনৈতিক মহলে প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী ঘটনাটিকে ‘কাপুরুষতা’ বলে আক্রমণ করেছেন। আম আদমি পার্টির নেতা সৌরভ ভরদ্বাজ সমাজমাধ্যমে লিখেছেন, তেরঙ্গা ওড়ানোর জন্য দুজনকে পাঁচ দিনের হেপাজতে পাঠানো ‘স্বৈরতন্ত্র’।
LIVE: Media Bite | 10 Janpath, New Delhi https://t.co/OScZ2qfe1m
— Rahul Gandhi (@RahulGandhi) October 14, 2026
১৬ অক্টোবর তেরঙ্গা ওড়ানোর ডাক
দুই সহযোগীর হেপাজতের পর এবার পাল্টা কর্মসূচির ঘোষণা করলেন দীপকে। সমাজমাধ্যমে একটি ভিডিওসহ পোস্টে তিনি ১৬ অক্টোবর ‘তেরঙ্গা লহরাও’-এর ডাক দিয়েছেন। অর্থাৎ যে কাজের জন্য সৌরভ ও আশুতোষকে হেপাজতে যেতে হয়েছে বলে সিজেপি-র দাবি, সেই জাতীয় পতাকা ওড়ানোকেই প্রতিবাদের প্রতীক করছে দল। নির্বাচন কমিশনের বিশেষ নিবিড় সংশোধনী প্রক্রিয়ায় কথিত অনিয়মের প্রতিবাদে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লিতে সিজেপি-র বিক্ষোভের ডাক ছিল ১০ অক্টোবর। সেদিনই বিমানে দিল্লি বিমানবন্দরে নামার পর অভিজিৎ দীপকে, সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে আটক করে পুলিশ। বিএনএসএস-এর ১২৬ ও ১৭০ ধারায় তাঁদের প্রতিরোধমূলক গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পরদিন, ১১ অক্টোবর, দিল্লি ক্যান্ট থানায় এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করা হলে এক বছর শান্তি বজায় রাখার শর্তে ৫০ হাজার টাকার মুচলেকায় তিনজনকে ছেড়ে দেওয়া হয়। আটক হওয়ার আগেই একটি রেকর্ড করা ভিডিওবার্তায় আন্দোলনের নেতৃত্ব অজিঙ্ক শিন্ডের হাতে তুলে দিয়েছিলেন দীপকে।
Lehra do Tiranga 🇮🇳
16 Oct | Central Park, CP | 5 PM https://t.co/eFO1RfUBos
— Abhijeet Dipke (@abhijeet_dipke) October 14, 2026
মুক্তির পর সাংবাদিক বৈঠকে সৌরভ ও আশুতোষ কেন্দ্রীয় সরকারকে নিশানা করে ‘অঘোষিত জরুরি অবস্থা’র অভিযোগ তোলেন এবং জানান, জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। ওই সময় দীপকে ছিলেন মহারাষ্ট্রে তাঁর গ্রামে, দিদিমার শেষকৃত্যে যোগ দিতে গিয়েছিলেন তিনি।
